খুঁজুন
, ,

শারদীয় উৎসব শেষে কর্মচঞ্চল রাজধানী, বায়ুর মানে অস্বস্তি অব্যাহত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
শারদীয় উৎসব শেষে কর্মচঞ্চল রাজধানী, বায়ুর মানে অস্বস্তি অব্যাহত

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক ছুটি শেষে আজ রাজধানী ঢাকায় আবারও কর্মচঞ্চলতা ফিরেছে। ছুটির আমেজ কাটিয়ে নগরবাসী নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে স্বাভাবিক জনজীবনের পাশাপাশি দূষণ নিয়ে নগরবাসীর উদ্বেগ রয়েই গেছে, আজ বায়ুদূষণের তালিকায় বিশ্বের দূষিত শহরের মধ্যে ঢাকা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

শারদীয় দুর্গোৎসবের সরকারি ছুটি কাটিয়ে আজ রাজধানীতে জনজীবন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের উৎসবমুখর পরিবেশ শেষে শহরজুড়ে কর্মচঞ্চলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নগরীর সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন অফিস-আদালতসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ছুটির পর কর্মজীবী মানুষ তাদের দৈনন্দিন রুটিনে ফিরে এসেছেন। তবে উৎসবের আমেজ কাটতে না কাটতেই নগরবাসীকে পরিবেশগত এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা হলো বায়ুদূষণ।

আজকের সকালে বাতাসের মানের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সূচকে ঢাকার অবস্থান আজ পঞ্চম। বছরের এ সময়ে সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বায়ুর গুণগত মান কিছুটা খারাপ থাকে, তবে বর্তমান পরিস্থিতির এই অবনতি জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণকাজ, যানজটের ধোঁয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। ছুটির দিনে তুলনামূলকভাবে রাস্তাঘাটে যান চলাচল কম থাকলেও আজ কর্মব্যস্ততা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বায়ুতে ধূলিকণার পরিমাণও বাড়তে শুরু করেছে।

রাজধানীর সার্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার পর থেকেই জনজীবনের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি ফিরে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। একই সময়ে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মতিঝিল এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন একটি বিশেষ অভিযানে ৭৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা দৃশ্যমান রয়েছে।

ছুটির পর প্রথম দিনে স্বাভাবিক কর্মজীবনের পাশাপাশি রাজধানীতে বায়ুদূষণ নিয়ে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে পরিবেশ সচেতন মহলে আলোচনা চলছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন চোখে পড়ছে না। নগরীর বাতাসের এই অস্বাস্থ্যকর অবস্থা সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই সময়ে বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহার করা এবং যতটা সম্ভব ধুলাবালি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা।

আগামী দিনগুলোতে ঢাকার বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করা ছাড়া পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। এদিকে কর্মচঞ্চল রাজধানী তার স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ শেষে নগরবাসী এখন নিজেদের কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরে আসার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। যানজট, বায়ুদূষণ এবং নিত্যদিনের অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই ঢাকার এই কর্মব্যস্ততা অব্যাহত রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে নবজাতকের মৃত্যুতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
নারায়ণগঞ্জে নবজাতকের মৃত্যুতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় একটি ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অক্সিজেন দেওয়ার পরপরই শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় চিকিৎসকের অবহেলাকে দায়ী করছেন স্বজনরা।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় স্থানীয় ময়না ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসক ময়না বেগমের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়রা। নবজাতকের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সন্তান প্রসবের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন প্রসূতি। ক্লিনিকের পক্ষ থেকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের সময় শিশুটি সুস্থ ও সবল ছিল বলে পরিবারের দাবি। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এ সময় তাকে অক্সিজেন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, অক্সিজেন দেওয়ার পরপরই শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং তার নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দাবি করে দ্রুত তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বজনরা নিরুপায় হয়ে দ্রুত নবজাতককে নারায়ণগঞ্জের অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিকটির সামনে স্থানীয়দের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের যথাযথ তদারকির অভাবে এবং অক্সিজেন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ত্রুটির কারণে নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে। যদি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হতো তবে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো যেত বলে মনে করছেন তারা।

চিকিৎসক ময়না বেগমের পরিচালিত এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, নবজাতকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই ময়না ক্লিনিকের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বজনরা দাবি তুলেছেন, ভুল চিকিৎসার কারণেই তাদের সন্তানকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বর্তমানে ক্লিনিকটির কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবজাতকের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বন্দর থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসকের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসার নামে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয়কেও এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে শোকাতুর পরিবারটি শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। তাদের একটাই দাবি, যদি সত্যিই চিকিৎসকের ভুল বা অবহেলায় এই শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে যেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

শারদীয় দুর্গোৎসবের টানা ছুটি শেষে কর্মচঞ্চল ব্যাংক ও পুঁজিবাজার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
শারদীয় দুর্গোৎসবের টানা ছুটি শেষে কর্মচঞ্চল ব্যাংক ও পুঁজিবাজার

শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের সরকারি ও ব্যাংক ছুটির সমাপ্তি ঘটেছে। রবিবার থেকে দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের লেনদেন স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী শুরু হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর কর্মব্যস্ততায় ফিরেছেন পেশাজীবীরা।

শারদীয় দুর্গাপূজার আমেজ কাটিয়ে আজ রবিবার থেকে আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজার। টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হয়েছে। উৎসবের এই দীর্ঘ বিরতির পর আজ প্রথম কর্মদিবসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেনদেনের জন্য গ্রাহকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারেও লেনদেনের স্বাভাবিক গতি ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উৎসবের ছুটি শেষে রাজধানীতে জনজীবন ও কর্মক্ষেত্রে নতুন করে ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো খোলার প্রথম দিনেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির হার ছিল চোখে পড়ার মতো। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, তা শেষ হওয়ায় পেশাজীবীরা আবার তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন। ব্যাংকিং খাতের লেনদেন সকাল থেকে শুরু হলেও গ্রাহকদের চাপ ছিল অন্যান্য সাধারণ কর্মদিবসের মতোই। জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে এবং জমে থাকা কাজগুলো সম্পন্ন করতে আজ গ্রাহকদের ব্যাংকগুলোতে উপস্থিত হতে দেখা গেছে।

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের লেনদেনও আজ থেকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে। দীর্ঘ ছুটির পর পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আগ্রহ ও কৌতূহল দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ছুটির কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যে স্থবিরতা ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে আজ থেকেই লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারের এই স্বাভাবিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, শুধু ব্যাংক বা পুঁজিবাজার নয়, সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের অফিস-আদালতও আজ যথারীতি খুলেছে। টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর সব দপ্তর খুলায় কর্মক্ষেত্রে পুনরায় স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। রাজধানীতে গণপরিবহন ও মানুষের উপস্থিতিও আজ বেশ লক্ষনীয়। দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরা নিয়ে সাধারণ কর্মজীবীদের মধ্যেও এক ধরনের প্রস্তুতি ছিল, যা আজকের কর্মদিবসের সূচনালগ্ন থেকেই ফুটে উঠেছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ছুটির সময় অনলাইনে বা ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকলেও সশরীরে উপস্থিত হয়ে যেসব কাজ করার প্রয়োজন ছিল, তা আজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলো তাদের সব শাখা ও উপশাখায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সবকিছু মিলিয়ে উৎসবের আনন্দ শেষে নতুন করে কাজের ছন্দে ফিরছে গোটা দেশ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেনদেনের যে স্বাভাবিক সময়সূচি, তা আজ থেকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

ছুটি শেষে কাল খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজ খুলছে নভেম্বরের শুরুতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
ছুটি শেষে কাল খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজ খুলছে নভেম্বরের শুরুতে

দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ২৬ অক্টোবর সোমবার থেকে দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মাদরাসাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজগুলো খোলার জন্য পহেলা নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

টানা ছুটি কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর দেশের শিক্ষাঙ্গনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসাগুলোতে দীর্ঘ ছুটির অবসান ঘটছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম আগামী ২৬ অক্টোবর সোমবার থেকে পুনরায় শুরু হবে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও মুখরিত হয়ে উঠবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার ২৫ অক্টোবর শেষ হচ্ছে চলমান ছুটি। এরপর সোমবার থেকেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। স্কুল ও মাদরাসাগুলোর মতো একইভাবে শিক্ষা কার্যক্রম সচল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের যে শিখন ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে নতুন উদ্যমে ক্লাস পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।

তবে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কলেজগুলোর ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। কলেজগুলো খোলার জন্য আগামী ১ নভেম্বর তারিখটি নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নভেম্বর মাসের শুরুতেই তাদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যেতে পারবে। এই বাড়তি কয়েক দিন সময় পাওয়ার ফলে কলেজগুলোতেও প্রশাসনিক ও একাডেমিক প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকছে, যা নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল করতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ঘরে থাকার ফলে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সতর্কতা ও মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘ ছুটির পর ক্লাসে ফেরার বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই সময়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। স্কুল-মাদরাসা খোলার এই সিদ্ধান্ত দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আবারও গতিশীল করবে বলে আশা করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ছুটির পর আবারো চেনা ছন্দে ফিরছে দেশের শিক্ষাঙ্গন।

সর্বশেষ
Advertisement