রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত জনপ্রিয় কিংফিশার রেস্টুরেন্টে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষ গোয়েন্দা দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই দীর্ঘ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও শুল্ক ফাঁকি দেওয়া অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় উদ্ধার করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টটিতে এসব পানীয় মজুত করার পেছনে যথাযথ আইনি নথিপত্র বা অনুমোদন ছিল না বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টে এনবিআরের চারটি গোয়েন্দা ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল তল্লাশি শুরু করে। টানা তিন ঘণ্টা ব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন কর্নারে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল সংখ্যক মদের বোতল ও ক্যান উদ্ধার করা হয়, যার অধিকাংশই অবৈধভাবে মজুত করা ছিল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল যে, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যগুলো আইন অমান্য করে এবং যথাযথ শুল্ক পরিশোধ না করে রেস্টুরেন্টটিতে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দারা বেশ কিছুদিন ধরে ওই রেস্টুরেন্টের ওপর নজরদারি করছিলেন। এরপর অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং রবিবার গভীর রাতে কার্যকর করা হয়। অভিযানে জব্দকৃত এসব মদের বৈধ কোনো কাগজপত্র বা আমদানিসংক্রান্ত নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই বিশাল পরিমাণ বিদেশি মদ অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল। উদ্ধার করা এসব পণ্যের মোট বাজারমূল্য ও শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছে এনবিআর। জব্দকৃত মদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনা গুলশান এলাকায় অবস্থিত অন্যান্য রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শুল্ক সংক্রান্ত আইন না মেনে যারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের জন্য এই অভিযান একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অভিযানের সময় রেস্টুরেন্টে কর্মরত কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কারা এই অবৈধ মদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন, তা জানার চেষ্টা করেছেন গোয়েন্দারা। জব্দকৃত পণ্যগুলো সরকারি গুদামে স্থানান্তর করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুল্ক আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে এনবিআর সূত্রে আভাস দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর গুলশানে এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভোজনরসিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিংফিশার রেস্টুরেন্টের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা এনবিআরের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের নাম বা বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল বা বড় ধরনের জরিমানার মুখোমুখি হতে পারে কিংফিশার রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৪ অপরাহ্ণ