খুঁজুন
, ,

আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখবেন যেভাবে (২ নভেম্বর ২০২৬)

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখবেন যেভাবে (২ নভেম্বর ২০২৬)

আজ ২ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার। বরাবরের মতোই ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের জন্য টেলিভিশনের পর্দায় থাকছে জমজমাট সব খেলার লড়াই। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক হকি ও ইউরোপীয় ফুটবলের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তগুলো উপভোগ করার সুযোগ থাকছে আজ। খেলার মাঠের উত্তেজনার সাথে যুক্ত হতে দর্শকদের জন্য নিচে আজকের খেলার সম্প্রচার সূচি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচগুলো নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। আজ লিগের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই মাঠে গড়িয়েছে। এর মধ্যে সিলেট ও চট্টগ্রামের মধ্যকার ম্যাচ, ময়মনসিংহ ও খুলনার লড়াই, ঢাকা ও বরিশাল মুখোমুখি এবং রংপুর ও রাজশাহীর মধ্যকার ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল নয়টা ৩০ মিনিট থেকে এই ম্যাচগুলোর সরাসরি সম্প্রচার দেখা যাচ্ছে বিসিবি ইউটিউব চ্যানেলে। ঘরোয়া ক্রিকেটের তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের লড়াই দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে চোখ রাখতে পারেন।

হকিপ্রেমীদের জন্য আজকের দিনটি বেশ ঘটনাবহুল। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকিতে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা পেয়েছে শক্তিশালী চীনকে। দুই দলের লড়াইটি শুরু হবে বেলা তিনটায়। এই ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস ২ চ্যানেল। একই চ্যানেলে এরপর অনুষ্ঠিত হবে আরও দুটি ম্যাচ। বিকেল পাঁচটা ১৫ মিনিটে জাপান মুখোমুখি হবে মালয়েশিয়ার। এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত হবে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার হাই ভোল্টেজ ম্যাচটি। হকির ভক্তরা স্টার স্পোর্টস ২ চ্যানেলের মাধ্যমেই এই ম্যাচগুলোর লাইভ আপডেট উপভোগ করতে পারবেন।

ফুটবল বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায় আজ রাতে ইউরোপীয় লিগ ফুটবলের উত্তেজনা। প্রিমিয়ার লিগে নিউক্যাসল ইউনাইটেড এবং এভারটন একে অপরের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে রাত দুইটায়, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ চ্যানেলের পর্দায়। অন্যদিকে, স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে আজ মাঠে নামছে দেপোর্তিভো ও ওসাসুনা। হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করা যাবে রাত দুইটায় টি স্পোর্টস চ্যানেলের মাধ্যমে। ফুটবল ভক্তরা নিজেদের প্রিয় দলের লড়াই দেখার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত টিভির পর্দায় চোখ রাখতে পারেন।

এছাড়া ভোর ৬টার দিকে গ্লোবাল টোয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের সেমিফাইনাল ম্যাচটি টি স্পোর্টসে সম্প্রচার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যারা আন্তর্জাতিক ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ অনুসরণ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে। আজকের এই প্রতিটি ম্যাচই ক্রীড়ামোদী দর্শকদের জন্য আনন্দদায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। খেলার সূচি বা চ্যানেলের তালিকায় কোনো পরিবর্তন হলে তা সংশ্লিষ্ট চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বা আয়োজকদের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেনে নেওয়ার পরামর্শ রইল। সবমিলিয়ে ক্রিকেট, হকি ও ফুটবলে ঠাসা আজকের দিনটি ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য বেশ উপভোগ্য হতে যাচ্ছে।

ধারাভাষ্য কক্ষের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ইয়ান বিশপের বার্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ধারাভাষ্য কক্ষের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ইয়ান বিশপের বার্তা

ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ বর্তমানে তাঁর পেশাদারিত্ব এবং মানবিক গুণাবলির জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। একজন ধারাভাষ্যকার হিসেবে তিনি কেবল খেলা বিশ্লেষণের গণ্ডিতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন না, বরং মাঠের বাইরের নানা নৈতিক ও পেশাদার দিক নিয়েও সময় সময় নিজের স্বচ্ছ অবস্থান তুলে ধরেন। সম্প্রতি একটি আলোচনায় তিনি ধারাভাষ্য কক্ষের मर्यादा এবং একজন ধারাভাষ্যকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে অত্যন্ত জোরালো বার্তা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ধারাভাষ্য কক্ষ কোনোভাবেই জাতীয় পতাকা ওড়ানোর বা নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রতি অন্ধ সমর্থনের জায়গা নয়।

একজন ধারাভাষ্যকারের মূল দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ থেকে খেলার প্রতিটি মুহূর্ত বিশ্লেষণ করা এবং দর্শকদের কাছে সঠিক তথ্য ও নান্দনিক ব্যাখ্যা পৌঁছে দেওয়া। ইয়ান বিশপ মনে করেন, ধারাভাষ্যকার যখন মাইক্রোফোনের সামনে বসেন, তখন তাঁর ব্যক্তিগত আবেগ বা জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো মোটেও শোভনীয় নয়। কারণ, ধারাভাষ্যকার কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের প্রতিনিধি নন, বরং তিনি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের কাছে খেলার একজন প্রতিনিধি। যখন কোনো ধারাভাষ্যকার নিজের দেশের বা পছন্দের দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন, তখন খেলার সামগ্রিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বিশপের এই বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে ক্রিকেটের মূল স্পিরিট বা চেতনা। তিনি মনে করেন, মাঠের ভেতর খেলোয়াড়রা জাতীয় পতাকার জন্য খেলবেন, লড়াই করবেন এবং জয়ের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ধারাভাষ্য কক্ষে বসে সেই আবেগে ভেসে গিয়ে নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে বিচ্যুত হওয়াটা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন ধারাভাষ্যকারকে হতে হবে খেলার অকৃত্রিম বন্ধু। যখন তিনি মাইক্রোফোনে কথা বলেন, তখন তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেন উভয় দলের সমর্থকদের কাছেই তাঁর কথাগুলো গ্রহণযোগ্য হয়।

সাম্প্রতিক সময়ের ক্রিকেট বিশ্বে ধারাভাষ্যকারদের ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শোনা যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ধারাভাষ্যকাররা আবেগপ্রবণ হয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন, যা নিয়ে অনেক দর্শক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ইয়ান বিশপের মতো একজন অভিজ্ঞ এবং প্রবীণ ধারাভাষ্যকারের এহেন মন্তব্য সেই বিতর্কিত পরিমণ্ডলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে। তিনি বারবার মনে করিয়ে দেন যে, ক্রিকেটের সৌন্দর্য হলো এর লড়াইয়ের নিরপেক্ষ উপভোগ। ধারাভাষ্যকারের কাজ সেই লড়াইয়ের নান্দনিকতাকে শব্দ ও বাচনের মাধ্যমে আরও ঋদ্ধ করা, পক্ষ নেওয়া নয়।

ইয়ান বিশপের এই অবস্থান কেবল একটি মন্তব্য নয়, বরং ক্রিকেটের ধারাভাষ্য পেশার জন্য একটি নৈতিক নীতিমালা। ধারাভাষ্য কক্ষকে ঘিরে যে মর্যাদা ও পেশাদারিত্বের প্রত্যাশা বিশ্ববাসী করে, তিনি সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। খেলার মাঠে জাতীয় পতাকা ওড়ানো বা বিজয়ের উল্লাস করার দায়িত্ব খেলোয়াড় ও দর্শকদের, কিন্তু ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব হলো খেলার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা। বিশপের এই বার্তা আগামী প্রজন্মের ধারাভাষ্যকারদের জন্য একটি বড় শিক্ষা হিসেবে গণ্য হতে পারে, যেখানে পেশাদারিত্বের চেয়ে বড় আর কিছুই নেই।

শীতলক্ষ্যার পাড়ে রাতের বেলা ডাঙায় উঠে আসা রহস্যময় মাছের সন্ধানে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শীতলক্ষ্যার পাড়ে রাতের বেলা ডাঙায় উঠে আসা রহস্যময় মাছের সন্ধানে

শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ঘেঁষা জনপদগুলোতে একসময় প্রচলিত ছিল এক অদ্ভুত প্রাণীর গল্প। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি বাহোক, বাসুকি কিংবা ক্ষীরাবাইম নামে পরিচিত। দেখতে অনেকটা সাপের মতো হলেও আসলে এটি একটি মাছ। গভীর রাতে নদী থেকে ডাঙায় উঠে এসে ফসলের খেতে হানা দেওয়ার স্বভাবের কারণে এলাকাভেদে এর নামকরণ করা হয়েছে ভিন্নভাবে। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী ক্ষীরাখেতগুলোতে গভীর রাতে এই মাছের উপস্থিতি ও বিচরণ নিয়ে স্থানীয় প্রবীণদের মুখে এখনো নানা রোমহর্ষক ও লোকজ গল্প শোনা যায়।

চরসিন্দুরের চরের কৃষকদের কাছে এই মাছ ছিল এক আতঙ্কের নাম। মৌসুমের সময় যখন ক্ষীরার ফলন ভালো হয়, তখন অনেক কৃষকই রাত জেগে খেত পাহারা দিতেন। কারণ, তারা জানতেন, রাতের নিস্তব্ধতায় শীতলক্ষ্যা থেকে উঠে আসবে এক বিশেষ আগন্তুক। প্রায়ই দেখা যেত, ভোরে খেতে গিয়ে কৃষকরা দেখছেন তাদের কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এই অশুভ আগন্তুকের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে কৃষকরা অনেক সময় অভিনব সব কৌশলের আশ্রয় নিতেন। এমন একটি ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে একজন অভিজ্ঞ কৃষক রাত জেগে ওত পেতে থাকতেন এই রহস্যময় মাছটিকে ধরার জন্য।

সেই বিশেষ কৌশলের একটি উপায় ছিল ছাইয়ের ব্যবহার। মাছটি যখন নদী থেকে ডাঙায় উঠে খেতের দিকে যেত, তখন কৃষক নিশ্চিত হতেন তার গতিপথ। এরপর রাতের অন্ধকারে নদীর পাড় থেকে খেতের দিকে যাওয়ার পথে একটি নির্দিষ্ট স্থানে শুকনা ছাই ছড়িয়ে রাখা হতো। মাছটি যখন সেই ছাইয়ের ওপর দিয়ে যেত, তখন তার শরীর আঠালো হয়ে যেত এবং সে আর স্বাভাবিকভাবে চলতে পারত না। এভাবেই কৌশলী কৃষকরা সেই বিশেষ মাছটিকে কাবু করতেন। এমন এক অভিযানে প্রায় চার ফুট লম্বা ও সাত কেজি ওজনের একটি মাছ ধরার ঘটনাও স্থানীয় লোকমুখে প্রচলিত আছে।

শিকারি ও গবেষকদের মতে, এটি সাধারণ কোনো মাছ নয় বরং এর শারীরিক গঠন ও চলাফেরার ধরন একে অনন্য করে তুলেছে। সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলার ক্ষমতার কারণে অনেকেই একে ভুলবশত সাপ ভেবে ভুল করেন। তবে প্রকৃতপক্ষে এটি একটি জলজ প্রাণী যা ডাঙায় কিছুটা সময় টিকে থাকতে পারে। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এই মাছের মাংসের স্বাদ নাকি অনেকটা খাসির মাংসের মতো, যার ফলে অতীতে অনেকেই একে শিকার করতে আগ্রহী ছিলেন।

তবে সময়ের সাথে সাথে এই মাছের বিচরণক্ষেত্র ও সংখ্যায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। শীতলক্ষ্যা নদীর বাস্তুসংস্থানের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই রহস্যময় মাছটির দেখাও এখন আর তেমন মেলে না। বর্তমানে এটি অনেকের কাছে কেবল একটি স্মৃতি বা লোককথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণবিদদের মতে, আমাদের নদীমাতৃক দেশে এমন অনেক জলজ প্রাণী রয়েছে যাদের জীবনধারা সম্পর্কে আমাদের জানা এখনো অসম্পূর্ণ। এই ক্ষীরাবাইম বা বাহোক মাছটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং এর প্রজাতি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক গবেষণার গুরুত্ব রয়েছে, যাতে আগামী প্রজন্মের কাছে এসব অদ্ভুত প্রাণীর তথ্য হারিয়ে না যায়। প্রকৃতির এই রহস্যময় সত্তাগুলো আমাদের নদী ও পরিবেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যাদের সুরক্ষা ও সঠিক পরিচর্যা জরুরি।

মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও চীনের চ্যালেঞ্জ: একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের সমীকরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও চীনের চ্যালেঞ্জ: একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের সমীকরণ

আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য বা হেজেমনি এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গত কয়েক দশকে বিশ্ব বাণিজ্য ও রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের যে নিরঙ্কুশ প্রভাব ছিল, তা ক্রমশ সংকুচিত হতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে চীনসহ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সুপরিকল্পিত উদ্যোগ, যারা ডলারের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে চাইছে। ঐতিহাসিকভাবে ডলারের এই শক্তিশালী অবস্থান কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতারও পরিচায়ক হিসেবে কাজ করেছে, যা এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে।

সত্তরের দশকে তৎকালীন মার্কিন অর্থমন্ত্রী জন কনেলি যখন বলেছিলেন যে ডলার মার্কিন মুদ্রা হলেও সমস্যাটি অন্যদের, তখন থেকেই মূলত বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলারের একচ্ছত্র দাপটের চিত্র স্পষ্ট হতে থাকে। সেই সময় থেকে ডলারের মুদ্রানীতি সারা বিশ্বের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে আসছে। তবে বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্ব অর্থনীতি এখন বহুমুখী হয়ে উঠছে এবং একক কোনো দেশের মুদ্রা বা নীতি যে দীর্ঘমেয়াদে পুরো বিশ্বের ভার বহন করতে পারে না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিতর্ক বাড়ছে। বিশেষ করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিষেধাজ্ঞার মতো অস্ত্র ব্যবহারের ফলে অনেক দেশই ডলারের ওপর তাদের নির্ভরতা হ্রাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

চীন এই প্রক্রিয়ার অগ্রভাগে রয়েছে। বেইজিং তাদের নিজস্ব মুদ্রা ইউয়ানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলতে নানা কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জ্বালানি তেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের কেনাবেচায় ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে ডলারের পরিবর্তে সরাসরি স্থানীয় মুদ্রার লেনদেনে উৎসাহিত করা। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের ডলার সংকটের বিষয়টি চীনকে তাদের মুদ্রানীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে। ব্রিকস জোটের দেশগুলোও এখন অভিন্ন মুদ্রাব্যবস্থা কিংবা ডলারমুক্ত বাণিজ্যের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে, যা কার্যত বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের প্রভাব কমানোরই একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

তবে ডলারের আধিপত্য ভেঙে ফেলা রাতারাতি সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাপী ব্যাংক লেনদেনের অবকাঠামো এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা বিবেচনায় ডলার এখনও অপরাজেয়। কিন্তু মুদ্রার ঝুড়িতে বৈচিত্র্য আনা এবং বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলার যে জোরালো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব অর্থনীতি একক মুদ্রাকেন্দ্রিক থাকবে না। চীন তার নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা প্রকল্প এবং আন্তঃদেশীয় পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে বিকল্প এক আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু যে মার্কিন প্রভাব কমবে তা নয়, বরং ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন কেবল মুদ্রার বিনিময় হারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ার ইঙ্গিত দেয়। ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার এই লড়াই বিশ্ব রাজনীতিতেও নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে এশীয় অঞ্চলের দেশগুলো এখন তাদের কৌশলগত প্রয়োজনে ডলারের বাইরে নতুন অংশীদারিত্বের দিকে ঝুঁকছে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি বিশ্ব অর্থনীতির আগামী দিনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ
ধারাভাষ্য কক্ষের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ইয়ান বিশপের বার্তা শীতলক্ষ্যার পাড়ে রাতের বেলা ডাঙায় উঠে আসা রহস্যময় মাছের সন্ধানে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও চীনের চ্যালেঞ্জ: একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের সমীকরণ আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখবেন যেভাবে (২ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা নামলেই ছাতিমের সুবাস কেন ছড়ায় বাতাসে বেলে মাছের বালির নিচে লুকিয়ে থাকার রহস্য মস্কোর পার্কে হামলার ছক, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর আটক ২ নভেম্বর, ২০২৬: টিভিতে আজকের খেলার সূচি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত শিক্ষক সাধন চক্রবর্তীর পাশে দাঁড়ানোর আকুল আবেদন হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ, দায়ী মাইন
Advertisement