খুঁজুন
, ,

যুব এশিয়া কাপকে সামনে রেখে লক্ষ্য এখন ভবিষ্যতের তারকা গড়া

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
যুব এশিয়া কাপকে সামনে রেখে লক্ষ্য এখন ভবিষ্যতের তারকা গড়া

ক্রিকেটের বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবার আরও একবার যুব এশিয়া কাপের মিশনে নামছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের ইতিহাস বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়, এর আগেও দুইবার এই টুর্নামেন্টের মুকুট পরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেই সোনালী অর্জনের অনুপ্রেরণা নিয়েই এবার নতুন একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার মাঠে নামার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কোচিং প্যানেল থেকে শুরু করে ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারকরা, সবার চোখ এখন আসন্ন এই টুর্নামেন্টের দিকে। তবে শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট জয়ই তাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্রিকেটারদের দক্ষ করে তোলাই মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা সম্প্রতি দলের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান অনূর্ধ্ব-১৯ দলে যারা রয়েছে, তাদের মেধা ও পরিশ্রম দলের জন্য বড় সাফল্য বয়ে আনতে পারে। সমর্থকদের প্রত্যাশাও এবার তুঙ্গে, কারণ যুব টাইগারদের পেছনে কাজ করছে অভিজ্ঞ কোচিং স্টাফদের একটি দল। তবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুব এশিয়া কাপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুব বিশ্বকাপের জন্য এখন থেকেই একটি শক্ত ভিত গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই টুর্নামেন্টটি তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের কন্ডিশন ও চাপের সাথে মানিয়ে নেওয়ার একটি দারুণ সুযোগ করে দেবে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, যুব এশিয়া কাপ কেবল ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং প্রতিভা অন্বেষণের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ দলের বর্তমান কম্বিনেশন এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নির্দেশ করছে যে, যুবারা যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত। দলের টেকনিক্যাল ইউনিট এবং কোচিং প্যানেল ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিভার সঠিক পরিচর্যায় মনোনিবেশ করেছে। তারা চায়, এশিয়া কাপের মতো মঞ্চে ভালো খেলার ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, যাতে করে ২০২৮ সালের বিশ্ব আসরের আগে দলটির প্রতিটি সদস্য পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলের প্রস্তুতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কঠোর অনুশীলন, কন্ডিশনিং ক্যাম্প এবং ইন্টার-স্কোয়াড ম্যাচের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিটনেস নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের অভ্যন্তরে সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া এখন তুঙ্গে। সব মিলিয়ে, যুব এশিয়া কাপকে ঘিরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতে। সমর্থকদের আশা, সাফল্যের অতীত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যুব টাইগাররা এবারও দারুণ কিছু উপহার দেবে। তবে দিনশেষে বোর্ডের মূল লক্ষ্য থাকছে এমন একটি শক্তিশালী দল গঠন করা, যারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো যোগ্যতা অর্জন করবে। সব প্রস্তুতি শেষে এখন কেবল মাঠের লড়াইয়ের অপেক্ষা।

উড়োজাহাজ কেনাকাটা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন: সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
উড়োজাহাজ কেনাকাটা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন: সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তাগিদ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে উড়োজাহাজ কেনাকাটার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার চুক্তির আগে যথাযথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে কি না—এই প্রশ্ন এখন বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংসদীয় কমিটির সদস্যরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে এ ধরনের বড় কোনো সিদ্ধান্তের আগে প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

কমিটির বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তাদের মতে, কোনো একটি সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যখন বড় ধরনের বাণিজ্যিক বা কৌশলগত কোনো চুক্তি করা হয়, তখন তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন থাকা আবশ্যক। উড়োজাহাজের মতো ব্যয়বহুল সম্পদের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ব্যয়, রুটের লাভজনকতা এবং যাত্রী চাহিদার মতো বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য। বৈঠকে জানতে চাওয়া হয়, এই কেনাকাটার পূর্বে কোনো স্বাধীন সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দল সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে কি না। যদি করে থাকে, তবে সেই প্রতিবেদনের ফলাফল কী ছিল এবং তা কেনাকাটার সিদ্ধান্তের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই বিষয়গুলো নিয়েও বিশদ আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিমান খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি যেন কোনোভাবেই অহেতুক ব্যয় বা ভবিষ্যতের বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে সংসদীয় কমিটির অভিমত। বৈঠকে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কমিটির সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেনাকাটার প্রতিটি ধাপ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কমিটির সদস্যরা সন্তুষ্ট নন বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। তারা এ ধরনের বড় কেনাকাটার আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংসদীয় কমিটির এই পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরকারি কেনাকাটায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদীয় কমিটির এমন ভূমিকা থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বা এ ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আর্থিক শৃঙ্খলার অভাব যেন না থাকে, সে বিষয়ে বারবার তাগিদ দিয়ে আসছে বিভিন্ন মহল। উড়োজাহাজ কেনা একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ, তাই এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়ো না করে যৌক্তিক ও তথ্যনির্ভর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে আরও উঠে এসেছে যে, উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দেওয়ার সময় বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং যাত্রী পরিবহনের বর্তমান ট্রেন্ড মাথায় রাখা হয়েছে কি না। কমিটি আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা প্রতিটি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সংসদীয় কমিটির পরবর্তী কার্যক্রমে এই সম্ভাব্যতা যাচাই সংক্রান্ত কাগজপত্রগুলো পর্যালোচনা করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের কেনাকাটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। সব মিলিয়ে, উড়োজাহাজ কেনাকাটার বিষয়টি এখন কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতি ও স্বচ্ছতার এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

গার্মেন্টস খাতের বর্তমান সংকট জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ: ডা. শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গার্মেন্টস খাতের বর্তমান সংকট জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ: ডা. শফিকুর রহমান

দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক শিল্প বা গার্মেন্টস খাত বর্তমানে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, শিল্প খাতের এই নাজুক পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি সরকারের নীতিগত ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনাকে প্রধানত দায়ী করেছেন।

শিল্প মালিক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পোশাক খাতের অস্থিরতা এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি গভীর সংকটের প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান রফতানি আয়ের উৎস এই শিল্পখাতটি নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সরকারের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা সময়মতো ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ করতে বাধার সৃষ্টি করছে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন খরচকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন দেশের উদ্যোক্তারা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন আগের মতো স্বাভাবিক হারে ক্রয়াদেশ দিচ্ছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার বাতিল বা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে কারখানা মালিকরা নতুন বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন এবং অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পোশাক খাতের এই সংকটের প্রভাব কেবল মালিকপক্ষের ওপর নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবনজীবিকার ওপরও পড়ছে বলে ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করেছেন। তিনি দাবি করেন, সরকার যদি দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান না করে এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে এই খাতটি আরও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। জাতীয় অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে গার্মেন্টস শিল্পের এই নাজুক অবস্থা উত্তরণে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে নীতিগত সহায়তা ও কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগ আসে এই খাত থেকে। তাই গার্মেন্টস শিল্পের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা দেশের মুদ্রাস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের এই বক্তব্য স্পষ্টতই শিল্প সংশ্লিষ্টদের বর্তমান উদ্বেগকেই তুলে ধরেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, সরকার কীভাবে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করে এখন সেটাই দেখার বিষয়।

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার ছক: আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীসহ ৪৯ জন আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার ছক: আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীসহ ৪৯ জন আটক

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন নির্ধারণের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির একটি বড় ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, শ্রমিকদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীসহ মোট ৪৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিবি মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খাঁন।

দীর্ঘ কয়েক দিন ধরেই মিরপুর এলাকায় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনকে পুঁজি করে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পাঁয়তারা করছিল বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে আসে। ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ওই নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের আন্দোলনে মিশে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা এবং দায়ভার শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১১ জন সরাসরি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় কর্মী। বাকিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, শ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে ঢাকা শহরের জনজীবন বিপর্যস্ত করার জন্য একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা ছিল। তবে পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা তাদের অপতৎপরতা বাস্তবায়নের আগেই ধরা পড়েছে।

মিরপুরের ডিসি মোহাম্মদ রাকিব খাঁন জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সহমর্মিতা থাকা সত্ত্বেও কোনো গোষ্ঠীকে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। যারা সাধারণ শ্রমিকদের আড়ালে থেকে নাশকতা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে পুলিশ। এই ঘটনার পর মিরপুর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে কোনো বহিরাগত বা অশুভ চক্র অনুপ্রবেশ করছে কি না, তা নিয়েও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যারা জনগণের সম্পদ নষ্ট করার বা সাধারণ মানুষের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সর্বশেষ
উড়োজাহাজ কেনাকাটা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন: সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তাগিদ যুব এশিয়া কাপকে সামনে রেখে লক্ষ্য এখন ভবিষ্যতের তারকা গড়া গার্মেন্টস খাতের বর্তমান সংকট জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ: ডা. শফিকুর রহমান মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার ছক: আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীসহ ৪৯ জন আটক কক্সবাজারে নলকূপ খননকালে গ্যাস নির্গমন ও অগ্নিকাণ্ড: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরিপ শুরু যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে উত্তাল শিল্পাঞ্চল খুলনায় তাঁতী দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের তাহসিফের মৃত্যু: দুই জনকে গ্রেফতারের পর তদন্তে নতুন মোড় পেশাজীবনের বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত জীবনের সংকট
Advertisement