খুঁজুন
, ,

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের

দেশের পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ)। একইসঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গত রবিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ফেডারেশনের শীর্ষ নেতারা এ আহ্বান জানান। ফেডারেশনের সভাপতি ফয়জুল হাকিম এবং সাধারণ সম্পাদক আমির আব্বাস যৌথ বিবৃতিতে দেশের বেসরকারি শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে শ্রমজীবী মানুষের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জীবনমান রক্ষায় বিদ্যমান বেতন কাঠামোর পরিবর্তন ও মজুরি বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনিই দেশের রপ্তানি আয় নিশ্চিত করছে। অথচ যারা শ্রম দিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন, তারাই বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা এখন সময়ের প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। শ্রমিকদের দাবিকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই কারণ, তাদের কর্মস্পৃহার ওপরই শিল্পের অস্তিত্ব নির্ভর করে।

ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতারা আরও বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আমরা মনে করি, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে যাতে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা পান। কেবল মজুরি বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ও অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিল্পের স্বার্থেই শ্রমিকদের দাবিগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো প্রকার উসকানি বা দমনের পথ না বেছে নিয়ে আলোচনার টেবিলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তারা। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন বিশ্বাস করে যে, মালিক এবং শ্রমিক উভয় পক্ষ যদি গঠনমূলক আলোচনায় বসে, তবে অবশ্যই একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

পরিশেষে, দেশের সামগ্রিক শান্তি ও শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেতৃবৃন্দ। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং গার্মেন্টস খাতে বিদ্যমান অস্থিরতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্য: যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্য: যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বাসের ছবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করার দায়ে আটক যুবক আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম আবু বকর সিদ্দিক। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে তাকে হেফাজতে নেয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সামনে আসে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবু বকর সিদ্দিকই বর্তমানে এই মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের একটি ছবি দেখে অত্যন্ত আপত্তিকর একটি মন্তব্য করেন। তার মন্তব্যের ধরণ ছিল মূলত সহিংসতার উস্কানিমূলক, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ আইনে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং খুঁটিনাটি সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য করার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাইবার ক্রাইম ইউনিট বিষয়টি আমলে নেয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি কেন এবং কার প্ররোচনায় বা কী উদ্দেশ্যে এই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন, তা জানতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্তের এই পর্যায়ে আবু বকর সিদ্দিকের রাজনৈতিক পদ-পদবি বা দলের সাথে কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস এবং যোগাযোগের মাধ্যমগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে জনসম্মুখে বা অনলাইনে এ ধরনের মন্তব্য করার ঘটনাকে গুরুত্বসহকারে দেখছে প্রশাসন। সাইবার জগতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো অপতৎপরতা যাতে কেউ করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর রয়েছে। আদালতের সামনে দেওয়া জবানবন্দিতে আবু বকর সিদ্দিক তার কৃতকর্মের জন্য কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা নিয়ে আইনি মহলে আলোচনা চলছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা হচ্ছে না। মামলার পরবর্তী ধাপে সব প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিচারক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য যে, একই সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করছেন। যেমন, সম্প্রতি তিনি দেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সার্বিক আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। দেশের উন্নয়ন ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সাইবার জগতের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সাথে দেখছে বর্তমান সরকার। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইন্টারনেটে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সকল নাগরিককে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো ধরনের অপরাধমূলক বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। আপাতত এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত সংশ্লিষ্টরা অন্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

শামীম ওসমানের ফেরা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শামীম ওসমানের ফেরা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতার

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ এখন বেশ উত্তপ্ত। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এবং নানা কারণে আলোচনায় থাকা সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের দেশে ফেরার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, শামীম ওসমান যদি কোনোভাবে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন, তবে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে। এমন কঠোর বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতির বর্তমান উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল।

রবিবার বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের সস্তাপুর এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি ছিল জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের উদ্বোধনী উপলক্ষ্যে। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখার সময় আবু আল ইউসুফ খান টিপু বিগত সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ড এবং বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্যমতে, নারায়ণগঞ্জের মাটি এখন আর সেই পুরনো পরিস্থিতির সাক্ষী হওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে তিনি জানান, যারা একসময় সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তাদের নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসার পথ আর সুগম থাকবে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য নারায়ণগঞ্জের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি প্রতিফলন মাত্র। বিগত সরকার পতনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যারা এতদিন ক্ষমতার দাপটে মাঠ নিয়ন্ত্রণ করতেন, তাদের অনুপস্থিতিতে এখন নতুন করে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে বিএনপি। টিপুর এই বক্তব্য তারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বক্তৃতাকালে তিনি কেবল হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং দলীয় কর্মীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বিগত সময়ে যারা নারায়ণগঞ্জের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আর দেশে ফিরে এসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো সুযোগ তাদের দেওয়া হবে না।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবু আল ইউসুফ খান টিপু যখন শামীম ওসমানকে নিয়ে এই মন্তব্য করেন, তখন উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সস্তাপুর এলাকা। মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের উদ্বোধনের এই সাধারণ অনুষ্ঠানটি যেন হঠাৎ করেই রাজনৈতিক জনসভায় রূপ নেয়। নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি এখন বেশ সক্রিয়।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন উত্তপ্ত বক্তব্য রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যদিও বিএনপিসহ বর্তমান রাজনৈতিক জোটের নেতারা মনে করেন, এটি জনগণের মনের ক্ষোভেরই প্রতিফলন। তাদের মতে, অতীতে যারা জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব বলয় তৈরি করেছিলেন, তাদের স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফেরা এখন কঠিন। সব মিলিয়ে, শামীম ওসমানের দেশে ফেরার ঘোষণা যে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, তা আবু আল ইউসুফ খান টিপুর এই বক্তব্যের মাধ্যমেই স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই রাজনৈতিক উত্তাপ কোন দিকে মোড় নেয় এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ভূমিকা পালন করে।

উড়োজাহাজ কেনাকাটা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন: সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
উড়োজাহাজ কেনাকাটা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন: সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তাগিদ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে উড়োজাহাজ কেনাকাটার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার চুক্তির আগে যথাযথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে কি না—এই প্রশ্ন এখন বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংসদীয় কমিটির সদস্যরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে এ ধরনের বড় কোনো সিদ্ধান্তের আগে প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

কমিটির বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তাদের মতে, কোনো একটি সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যখন বড় ধরনের বাণিজ্যিক বা কৌশলগত কোনো চুক্তি করা হয়, তখন তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন থাকা আবশ্যক। উড়োজাহাজের মতো ব্যয়বহুল সম্পদের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ব্যয়, রুটের লাভজনকতা এবং যাত্রী চাহিদার মতো বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য। বৈঠকে জানতে চাওয়া হয়, এই কেনাকাটার পূর্বে কোনো স্বাধীন সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দল সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে কি না। যদি করে থাকে, তবে সেই প্রতিবেদনের ফলাফল কী ছিল এবং তা কেনাকাটার সিদ্ধান্তের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই বিষয়গুলো নিয়েও বিশদ আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিমান খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি যেন কোনোভাবেই অহেতুক ব্যয় বা ভবিষ্যতের বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে সংসদীয় কমিটির অভিমত। বৈঠকে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কমিটির সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেনাকাটার প্রতিটি ধাপ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কমিটির সদস্যরা সন্তুষ্ট নন বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। তারা এ ধরনের বড় কেনাকাটার আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংসদীয় কমিটির এই পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরকারি কেনাকাটায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদীয় কমিটির এমন ভূমিকা থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বা এ ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আর্থিক শৃঙ্খলার অভাব যেন না থাকে, সে বিষয়ে বারবার তাগিদ দিয়ে আসছে বিভিন্ন মহল। উড়োজাহাজ কেনা একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ, তাই এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়ো না করে যৌক্তিক ও তথ্যনির্ভর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে আরও উঠে এসেছে যে, উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দেওয়ার সময় বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং যাত্রী পরিবহনের বর্তমান ট্রেন্ড মাথায় রাখা হয়েছে কি না। কমিটি আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা প্রতিটি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সংসদীয় কমিটির পরবর্তী কার্যক্রমে এই সম্ভাব্যতা যাচাই সংক্রান্ত কাগজপত্রগুলো পর্যালোচনা করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের কেনাকাটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। সব মিলিয়ে, উড়োজাহাজ কেনাকাটার বিষয়টি এখন কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতি ও স্বচ্ছতার এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্য: যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শামীম ওসমানের ফেরা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতার গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের উড়োজাহাজ কেনাকাটা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন: সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তাগিদ যুব এশিয়া কাপকে সামনে রেখে লক্ষ্য এখন ভবিষ্যতের তারকা গড়া গার্মেন্টস খাতের বর্তমান সংকট জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ: ডা. শফিকুর রহমান মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার ছক: আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীসহ ৪৯ জন আটক কক্সবাজারে নলকূপ খননকালে গ্যাস নির্গমন ও অগ্নিকাণ্ড: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরিপ শুরু যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে উত্তাল শিল্পাঞ্চল
Advertisement