গ্যাস সংকটের মুখে নতুন শঙ্কা: ৪ নভেম্বর থেকে সরবরাহ হ্রাসের ঘোষণা
দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকটের মাঝেই নতুন করে একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনিতেই আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। এর মধ্যেই আসন্ন ৪ নভেম্বর থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের প্রয়োজনে সাময়িক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রযুক্তিগত ও কারিগরি নিরাপত্তার খাতিরে টার্মিনালটিতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের প্রয়োজন হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ৪ নভেম্বর থেকে তিন দিনের জন্য এই টার্মিনালের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তাতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু টার্মিনালটি বন্ধ থাকার এই তিন দিনে সরবরাহ কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ, দৈনিক ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হবে, যা সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার এই ঘোষণার ফলে সারাদেশেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে গৃহস্থালির রান্না থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা এবং পরিবহন খাতে এই সংকটের আঁচ সবচেয়ে বেশি লাগতে পারে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় আবাসিক গ্রাহকরা রান্নার কাজে বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন। একইভাবে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ লাইনের উপদ্রব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি হলেও এর বিকল্প প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল। শীতের মৌসুম আসন্ন, যা গ্যাস সংকটের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এশিয়াসহ অনেক দেশেই শীতকালে গ্যাসের চাহিদাও বাড়ে, ফলে সরবরাহ পরিস্থিতির এই অবনতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলতে পারে। কর্তৃপক্ষ অবশ্য আশা করছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এই তিন দিন সাধারণ গ্রাহকদের সচেতন থাকার পাশাপাশি গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস সংকট বর্তমানে একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখার ক্ষেত্রে নানাবিধ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এলএনজি আমদানিনির্ভর এই ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে মাঝে মাঝেই সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৪ নভেম্বরের পর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগের সুর শোনা যাচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রক্ষণাবেক্ষণের সময়টি আরও সতর্কভাবে পরিকল্পনা করা যেত কি না, তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। আপাতত এই তিন দিন গ্যাস সাশ্রয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা ছাড়া গ্রাহকদের সামনে বিকল্প তেমন পথ খোলা নেই।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]