মহাখালী বাস টার্মিনালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার এক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মহাখালী বাস টার্মিনালে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, আটককৃত ব্যক্তির কাছে পাওয়া গেছে দুই হাজার পিস ইয়াবা বড়ি। অপরাধ নির্মূলে ও মাদকের বিস্তার রোধে ডিএমপির এই ধরনের অভিযান নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ বলে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার নাম মো. আবু সাঈদ মাহমুদ এবং তার বয়স ত্রিশ বছর বলে জানা গেছে। টার্মিনাল কেন্দ্রিক মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মূলত বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই সুযোগে সাধারণ মানুষের ভিড় ও কোলাহলকে পুঁজি করে মাদক কারবারিরা তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশ নজরদারি জোরদার করে আবু সাঈদকে হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবু সাঈদ দীর্ঘদিন ধরেই মহাখালী ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সে বিভিন্ন কৌশলে মাদকদ্রব্য পরিবহন ও কেনাবেচা করত বলে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। আটকের সময় তার দেহ তল্লাশি করে দুই হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্থানীয় মাদক বাজারের মূল্য অনুযায়ী বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। এই পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদক কারবারিদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট বিভাগ। গ্রেফতারকৃত আবু সাঈদ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে এবং মাদক ব্যবসার নেপথ্যে আর কারা জড়িত আছে, তা খুঁজে বের করতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, আবু সাঈদ একা এই কারবার পরিচালনা করছিল নাকি কোনো বড় সিন্ডিকেটের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিল।

মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায়ই মাদক কারবারিদের আস্তানার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে তাদের নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত যুবকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

সাধারণত টার্মিনাল বা রেলস্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের নেটওয়ার্ক তৈরি করে, কারণ এসব স্থানে প্রচুর জনসমাগম ঘটে। কিন্তু গোয়েন্দা পুলিশের সাম্প্রতিক এই সফল অভিযান মাদক কারবারিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী এই অভিযান ভবিষ্যতে আরও কঠোর করা হবে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন