নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক, চিরকুট ঘিরে শোরগোল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ব্যস্ততম বিমানবন্দর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিমানবন্দর চত্বরের ভেতর থেকে এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে যা মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। মূলত বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা নারীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত একটি শৌচাগার থেকে একটি রহস্যময় চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেই চিরকুটে বিমানবন্দর উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার দুপুরের দিকে। বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে শৌচাগারে প্রবেশ করেন। সেই সময়েই একটি টয়লেটের ভেতরে একটি হাতে লেখা চিরকুট পড়ে থাকতে দেখেন তারা। চিরকুটটিতে অস্পষ্ট ভাষায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিমানবন্দর ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ানদের বিষয়টি দ্রুত জানানো হয়।

খবর পাওয়ার পরপরই নিরাপত্তা বলয় আরও কঠোর করা হয়। বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনসহ পুরো এলাকায় শুরু হয় নিবিড় তল্লাশি। যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা এড়াতে ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল স্কোয়াডের সদস্যদের জরুরি তলব করা হয়। যাত্রী নিরাপত্তার খাতিরে সন্দেহভাজন জায়গাগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে এই ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রীই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনের হুমকি বা চিরকুট নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার বিমানবন্দরের ভেতর থেকে এমন চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো ভুয়া বা আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে বিমানবন্দরের মতো অতি সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ঢিলেঢালা ভাব দেখানো চলে না। তাই প্রতিটি হুমকিকেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত এই চিরকুট কে বা কারা রেখেছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দরের ভেতর লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তির গতিবিধি নজরে আসছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। যদি কেউ আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এটি করে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম আপাতত চালু রয়েছে। ফ্লাইট ওঠা-নামার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বড় বিঘ্ন ঘটেনি। তবে যাত্রীদের ব্যাগপত্র এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো অসংলগ্ন কিছু চোখে পড়লে তা যেন সঙ্গে সঙ্গে সিআইএসএফ বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, কলকাতা বিমানবন্দর প্রায়ই বোমাতঙ্কের খবরের শিরোনামে উঠে আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা ভুয়া প্রমাণিত হলেও, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি এড়াতে পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে পর্যালোচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল মহলের পক্ষ থেকে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন