টঙ্গীতে উদ্ধার তাহসিফের মোটরসাইকেল, রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর পিবিআই
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ থাকা তার ব্যক্তিগত কালো রঙের মোটরসাইকেলটি অবশেষে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই। নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তকারী কর্মকর্তারা টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরবর্তী মাজার বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি খুঁজে পান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যে স্থানে তাহসিফের মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল, সেখান থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি পড়ে ছিল। উদ্ধার হওয়ার সময় সেটি অনেকটা ঝোপঝাড় ও আবর্জনার আড়ালে লুকিয়ে রাখা ছিল বলে ধারণা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের বিষয়টি মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ঘটনার পর থেকেই এই বাহনটি নিখোঁজ ছিল এবং এর মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছিল।
এর আগে, কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছিল। পিবিআই দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে নিহতের পরিচিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্য এবং তার দেওয়া লোকেশন ধরে পিবিআই টিম ওই এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে। এই পরীক্ষা থেকে পাওয়া আলামত ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট তদন্তের গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের ফলে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বুঝতে সুবিধা হবে। কেন এটি মরদেহ উদ্ধারের স্থানের এত কাছে ফেলে রাখা হলো এবং এর পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পিত অপরাধের ছক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন পিবিআই কর্মকর্তারা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল মোটরসাইকেল উদ্ধার নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আরও গভীর তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, তাহসিফের পরিচয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তার মোবাইল ফোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্যগুলোকে একসূত্রে গেঁথে ঘটনার রহস্য সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পিবিআই। মামলার তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না জানিয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এখন ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]