খুঁজুন
, ,

নেসেটে শপথের প্রথম দিনেই স্পিকার ওহানাকে সরানোর পরিকল্পনা বিরোধীদের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
নেসেটে শপথের প্রথম দিনেই স্পিকার ওহানাকে সরানোর পরিকল্পনা বিরোধীদের

ইসরায়েলের রাজনীতিতে ফের নতুন উত্তেজনার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে আগামী ১০ নভেম্বর নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরোধীরা এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছে। বিরোধী জোটের মূল লক্ষ্য হলো, নতুন নেসেট কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে তার পদ থেকে অপসারণ করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা ইতিমধ্যে পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছেছে।

নেতানিয়াহুর বর্তমান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ লিকুদ পার্টির নেতা আমির ওহানার বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। তবে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দাবার চাল যখন জমে উঠেছে, ঠিক তখনই এমন একটি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তারা শাসক গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করার বার্তা দিতে চাইছে। বিরোধী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেসেট অধিবেশন শুরুর পরপরই স্পিকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাদের দাবি, বর্তমান স্পিকার সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা বজায় রাখছেন না, যার ফলে পার্লামেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এই অভূতপূর্ব উদ্যোগে শামিল হয়েছে বিভিন্ন ঘরানার বিরোধী দল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চেঞ্জ ব্লকভুক্ত বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। ইসরায়েল বেইতেনু, দ্য ডেমোক্রেটস এবং যেশারসহ আরও কিছু ছোট-বড় দলের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটটি দীর্ঘদিন ধরেই নেতানিয়াহু সরকারের নানা নীতির সমালোচনা করে আসছে। শুধু তাই নয়, আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট এবং রামের মতো দলগুলোও এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে। সাধারণত ইসরায়েলি রাজনীতিতে আরব দলগুলোর সাথে মূলধারার বিরোধী দলগুলোর কৌশলগত ঐকমত্য খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু স্পিকার অপসারণের ইস্যুতে যেভাবে তারা এক কাতারে শামিল হয়েছে, তা ইসরায়েলি রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি শুধু স্পিকার অপসারণের বিষয় নয়, বরং এটি নেতানিয়াহুর প্রতি অনাস্থা প্রকাশের একটি বড় লক্ষণ। যদি বিরোধীরা প্রথম দিনেই এমন একটি সফল মোশন বা প্রস্তাব আনতে পারে, তবে তা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কা হবে। বিশেষ করে যখন সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি এবং জোট শরিকদের সাথে দেনদরবার চলছে, এমন পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় শাসক দল লিকুদ পার্টির অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে এখনো সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও নেসেটের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো মনে করছে, যদি স্পিকারের মতো সাংবিধানিক পদে তাদের পছন্দমতো কাউকে বসানো সম্ভব হয়, তবে পরবর্তী আইন প্রণয়ন ও পার্লামেন্টারি তদন্ত কমিটিগুলোতে তাদের প্রভাব বাড়বে।

আগামী ১০ নভেম্বরের সেই অধিবেশনটি ইসরায়েলি রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শপথ গ্রহণ এবং স্পিকার পরিবর্তনের নাটকীয়তা সেখানে দেখা যেতে পারে। বিরোধী দলগুলোর এই একাট্টা অবস্থান শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয় এবং শাসক দল কীভাবে পাল্টা কৌশল অবলম্বন করে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, নতুন নেসেটের সূচনা হতে যাচ্ছে চরম রাজনৈতিক রেষারেষি এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। কোনো পক্ষই একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ এবং আগামী দিনগুলোতে পার্লামেন্টের ভেতরে বড় ধরনের বিতর্কের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।

প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে উঠছে পৃথিবী: রহস্যের জট খুলতে নাজেহাল বিজ্ঞানীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে উঠছে পৃথিবী: রহস্যের জট খুলতে নাজেহাল বিজ্ঞানীরা

আমাদের পৃথিবী পৃষ্ঠে প্রতি ২৬ সেকেন্ড পর পর অত্যন্ত মৃদু এক ধরনের ভূকম্পন অনুভূত হয়। বিষয়টি শুনতে বিস্ময়কর মনে হলেও এটি একটি প্রমাণিত সত্য। দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীরা এই স্পন্দনের উৎস এবং কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তবে এত দীর্ঘ সময় গবেষণার পরেও এই রহস্যের চূড়ান্ত এবং অকাট্য সমাধান এখনো পাওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে একাধিক তত্ত্ব ও মতবাদ প্রচলিত রয়েছে, তবে কোনটিই এখনো চূড়ান্ত স্বীকৃতি পায়নি।

১৯৬০ দশকের শুরুর দিকে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লামন্ট-ডোহার্টি জিওলজিক্যাল অবজারভেটরির ভূতত্ত্ববিদ জ্যাক অলিভার সর্বপ্রথম এই মাইক্রোসিজম বা মৃদু স্পন্দনটি নথিভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সে সময় আধুনিক সিসমোলজিস্টদের হাতে বর্তমান সময়ের মতো উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম ছিল না, যার ফলে তথ্যের গভীরতায় সীমাবদ্ধতা ছিল। পরবর্তীতে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানীরা স্পন্দনের উৎসস্থল চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। প্রাপ্ত উপাত্ত অনুযায়ী, গিনি উপসাগরের বাইট অব বনি নামক স্থান থেকে এই স্পন্দন বা কম্পন উৎপন্ন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই স্পন্দনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু অনুসিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে এগিয়েছেন। একটি প্রধান তত্ত্ব হলো, মহাসাগরের তলদেশে থাকা মহীসোপান বা কন্টিনেন্টাল শেলফের ভূমিকা। গিনি উপসাগরের বিশেষ ওই মহীসোপানটি প্রাকৃতিক ঢেউ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। সেখানে সমুদ্রের ঢেউয়ের নিয়মিত আছড়ে পড়ার ফলে মহীসোপানটি বাদ্যযন্ত্রের ড্রামের মতো এক ধরণের অনুরণন বা কম্পন তৈরি করতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। এই কাঠামোগত প্রভাবই হয়তো ২৬ সেকেন্ডের এই নির্দিষ্ট বিরতিতে ভূকম্পন তৈরি করছে।

আরেকটি প্রচলিত তত্ত্বে আগ্নেয়গিরির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাইট অব বনির সাঁও তোমে দ্বীপের একটি আগ্নেয়গিরির খুব কাছাকাছি এই কম্পনের কেন্দ্রবিন্দু অবস্থিত। অতীতে জাপানেও আগ্নেয়গিরিজাত সিসমিক স্পন্দনের অনুরূপ নজির পাওয়া গিয়েছিল, যা এই তত্ত্বটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে এটি একক কোনো আগ্নেয়গিরির কাজ নাকি ভূগর্ভস্থ কোনো সম্মিলিত ক্রিয়া, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করলেও এটি নিয়ে খুব বেশি শঙ্কা তৈরি হয়নি। এর প্রধান কারণ হলো, এই স্পন্দনটি অত্যন্ত মৃদু এবং এর ফলে বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। ফলে এটি সমাধানের বিষয়টি বিজ্ঞানীদের গবেষণার তালিকায় থাকলেও, এটি এখন আর জরুরি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে না। তবে এই প্রক্রিয়ার একটি অদ্ভুত আচরণের কথা বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে। প্রতিবছর বড়দিনের আগে পৃথিবীর সিসমিক কম্পন বা এই স্পন্দনের তীব্রতা কিছুটা কমে আসার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই বিষয়টিও গবেষকদের জন্য একটি নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। পৃথিবীর এই ছন্দময় স্পন্দন আদৌ কোনো যান্ত্রিক সমস্যা নাকি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া কোনো ভৌগোলিক বিস্ময়, তা জানার জন্য আগামী দিনে আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা এই রহস্যের সুরাহা খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা: আইনি জটিলতা নিরসনের পরও চলছে ধীরগতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা: আইনি জটিলতা নিরসনের পরও চলছে ধীরগতি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বহু কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতির প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ আইনি মারপ্যাঁচ কাটিয়ে আলোর মুখ দেখলেও চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন কবে হবে, তা নিয়ে রয়ে গেছে ধোঁয়াশা। দীর্ঘ ১৬ বছর আগে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়া হাজারো সহকারী শিক্ষক বছরের পর বছর পদোন্নতির আশায় দিন গুনেছেন। পদোন্নতি আটকে থাকার ফলে তারা শুধু দীর্ঘ সময় ধরে কাঙ্ক্ষিত পদমর্যাদা থেকেই বঞ্চিত হননি, বরং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন। তাদের অনেকেই প্রধান শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সেই স্বপ্ন কেবলই দীর্ঘায়িত হয়েছে।

চলতি বছরের জুন মাসে আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী আইনি জটিলতার অবসান ঘটে। তবে রায়ের অনুলিপি হাতে পেতে প্রায় পাঁচ মাসের দীর্ঘ বিলম্ব ঘটে, যার প্রভাব পড়েছে পদোন্নতির প্রশাসনিক কার্যক্রমেও। আদালতের রায়ের সারসংক্ষেপ ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনার অনুলিপি হাতে পাওয়ার পরই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ফের নড়েচড়ে বসেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদগুলো দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য থাকায় শিক্ষাব্যবস্থার মান ও প্রশাসনিক কাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে আছে, যা শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরপরই আটকে থাকা দাপ্তরিক কাজগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। পদোন্নতির প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে বর্তমানে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের চাকরির নথিপত্র, সার্ভিস বুক, বদলি সংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাগজপত্রের হালনাগাদ তথ্যে নানা অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। কোনো যোগ্য শিক্ষক যেন ভুল তথ্যের কারণে বা অসম্পূর্ণ নথির জন্য পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুধুমাত্র তালিকা প্রস্তুত করলেই হবে না, বরং প্রতিটি শিক্ষকের সার্ভিস রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মাঠপর্যায় থেকে আসা তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের এই দীর্ঘসূত্রতা প্রক্রিয়াটিকে কিছুটা ধীরগতির করে তুলেছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, তাড়াহুড়ো করে তালিকা তৈরি করতে গিয়ে ভুল হওয়ার সুযোগ থাকে না, কারণ এর সাথে হাজার হাজার শিক্ষকের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যতের বিষয় জড়িত। তাই প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। জ্যেষ্ঠতার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরই ধাপে ধাপে পদোন্নতির আদেশ জারি করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে শিক্ষকদের বড় একটি অংশ এখনও উদ্বেগ ও সংশয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ার খবরটি তাদের মধ্যে স্বস্তি নিয়ে এলেও, ঠিক কবে নাগাদ তারা পদোন্নতির চিঠি হাতে পাবেন, সেই সুনির্দিষ্ট সময়সীমা কেউ নিশ্চিত করতে পারছেন না। শিক্ষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে যখন বাধাগুলো দূর হয়েছে, তখন প্রশাসনিক কাজগুলো আরও দ্রুততর করা প্রয়োজন ছিল। অনেক শিক্ষক এখন অবসরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন, তাই দ্রুত পদোন্নতি না পেলে তাদের সেই বঞ্চিত হওয়ার বেদনা আরও বাড়বে।

শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে থাকার কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে পালন করতে হচ্ছে, যা পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পালনের চেয়ে আলাদা। নিয়োগবিধি ও জ্যেষ্ঠতার নিয়ম মেনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। এখন চূড়ান্ত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুত এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় আছে পুরো প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার। অধিদপ্তর সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে, যত দ্রুত সম্ভব তালিকা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তবে সেই সময়ের নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

প্রবাসীদের দেশে ফেরা ও লাগেজের বিড়ম্বনা: এক অদৃশ্য চাপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
প্রবাসীদের দেশে ফেরা ও লাগেজের বিড়ম্বনা: এক অদৃশ্য চাপ

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য দেশে যাওয়ার বিষয়টি যতটা আনন্দের, তার চেয়ে বেশি উদ্বেগের হয়ে দাঁড়ায় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের আবদারের কারণে। আমেরিকা বা অন্য কোনো দূর দেশ থেকে কেউ দেশে যেতে চাইলে সেই খবর গোপন রাখতেই যেন বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এর পেছনে মূল কারণ হলো, দেশে যাওয়ার খবর পেলেই পরিচিতদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানোর অঘোষিত চাপ। ওষুধের বোতল, শিশুদের পোশাক, ডায়াবেটিস বা রক্তচাপ মাপার যন্ত্র থেকে শুরু করে আইফোন বা চকলেট—তালিকা যেন শেষ হওয়ার নয়। অনেকে আবার খুব হালকা জিনিসের দোহাই দিয়ে এমন সব প্যাকেট ধরিয়ে দেন, যা আদতে ওজনে বেশ ভারী হয়।

এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজনের মালামাল বহনের সুযোগ দেয়। একজন যাত্রী যখন নিজের পরিবারের জন্য কাপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে গিয়ে হিমশিম খান, তখন অন্যের দেওয়া বাড়তি মালামালের ভার সেই হিসাব এলোমেলো করে দেয়। অথচ যারা এই মালামাল পাঠাতে চান, তারা প্রায়ই ভুলে যান যে, বাড়তি ওজনের জন্য এয়ারপোর্টে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা অথবা শেষ মুহূর্তে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেলে দিয়ে ওজন কমাতে হয়। এই বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে অনেকেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশে যাওয়ার খবরটি চেপে যান। প্রবাসীদের স্বভাবজাত এই লজ্জার কারণে তারা মুখের ওপর ‘না’ বলতে পারেন না, যা তাদের জন্য বাড়তি মানসিক চাপের সৃষ্টি করে।

সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার উদাহরণ দেখা যায়, যেখানে সপরিবার দেশে ফেরার সময় এক দম্পতির লাগেজের ওজন নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাদের লাগেজগুলো পরিচিতদের দেওয়া উপহারসামগ্রীতে এমনভাবে পূর্ণ হয়েছিল যে, তা অনুমোদিত সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। ডালাসের বাঙালি কমিউনিটিতে খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই তাদের বাড়িতে ভিড় করেছিলেন। সেই মুহূর্তে একজন সচেতন বন্ধু যখন জানতে চাইলেন তিনি কিছু পাঠাবেন কি না, তখন তিনি কৌশলে তা এড়িয়ে যান। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, অন্যের বোঝা বইতে গিয়ে মূল যাত্রীর নিজের ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। প্রবাসে বসবাসকারী অনেকেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে, এয়ারপোর্টের কাউন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত ওজনের মাশুল গুনতে গিয়ে কী ভয়াবহ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সামান্য কয়েক কেজির জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে না চাইলে অনেক সময় শখের জিনিসপত্র ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। অনেক যাত্রী তখন বুদ্ধি করে ব্যাগ থেকে ভারী সোয়েটার বা জ্যাকেট বের করে গায়ে চাপিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, যা এক করুণ ও হাসির খোরাক জোগায়।

প্রবাসীদের এই লাগেজ বিড়ম্বনা কেবল ওজন বা টাকার অংক নয়, এটি সময়ের সাথে সাথে এক ধরনের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে। প্রিয়জনদের প্রতি টান থাকা সত্ত্বেও এয়ারপোর্টের এই কঠিন বাস্তবতা অনেককে বাধ্য করে নিজেদের আত্মীয়-পরিজন থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে। যারা দেশে উপহার পাঠান, তারা হয়তো বিষয়টি হালকা মনে করেন, কিন্তু ভুক্তভোগী প্রবাসীর কাছে এটি একটি বিশাল বোঝা। যথাযথ সচেতনতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া না থাকলে প্রবাসীদের এই ‘ওপারে আমার ঘর’ আর ‘এপারে প্রিয়জন’—এই দুইয়ের টানাপোড়েন কখনোই শেষ হবে না। প্রতিটি প্রবাসীর যাত্রাপথ যেন আনন্দময় ও নিরুদ্বেগ হয়, সেজন্য আত্মীয়-স্বজনদেরও উচিত তাদের এই সীমাবদ্ধতার প্রতি সহমর্মী হওয়া।

সর্বশেষ
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে উঠছে পৃথিবী: রহস্যের জট খুলতে নাজেহাল বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা: আইনি জটিলতা নিরসনের পরও চলছে ধীরগতি প্রবাসীদের দেশে ফেরা ও লাগেজের বিড়ম্বনা: এক অদৃশ্য চাপ রাজধানীর কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণ: আটক চার লন্ডনে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে ধরিয়ে দিতে বড় পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের নেসেটে শপথের প্রথম দিনেই স্পিকার ওহানাকে সরানোর পরিকল্পনা বিরোধীদের ইসরায়েলের নতুন পার্লামেন্টে প্রথম দিনেই স্পিকার অপসারণের পরিকল্পনা বিরোধীদের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে রবিবার থেকে কার্যকর হবে নতুন বোর্ড আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখবেন যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের বিচার ও পারিবারিক জটিলতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব প্রভা
Advertisement