ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই সামরিক উত্তেজনার জেরে দেশটিতে হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় সাত হাজার মানুষ, যা ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতির চিত্র তুলে ধরছে।
চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক অস্থিরতা শুরু হয়। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ এবং বিমান হামলার কারণে বেসামরিক জনবসতি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় ঔষধ ও উপকরণের অভাবে তাদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলে আসা এই সংঘাত কেবল দেশটিতে নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক সমাধানের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় এবং যুদ্ধবিরতির কার্যকর কোনো উদ্যোগ সফল না হওয়ার কারণে এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার শান্তির আহ্বান জানালেও দুই পক্ষই সামরিক শক্তির প্রদর্শনী চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের বর্তমান সংকটে সাধারণ নাগরিকরাই সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। ঘরবাড়ি ছাড়া হওয়া এবং পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয়ের অভাব মানুষগুলোকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বারবার মানবিক করিডোর চালুর অনুরোধ জানালেও সামরিক আগ্রাসন থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় নতুন করে লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা মৃত্যুর মিছিলকে আরও দীর্ঘ করছে।
গত আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে দেশজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। একদিকে জোট বাহিনীর আকাশপথে হামলার হুমকি, অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহীদের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের কারণে ইয়েমেনের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলই এখন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে তা কোনো কার্যকর ফলাফল বয়ে আনতে পারছে না।
এদিকে, বিপুল সংখ্যক আহত মানুষ চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো সহায়তা পাঠানোর চেষ্টা করলেও যুদ্ধের তীব্রতায় তা পর্যাপ্ত নয়। ইয়েমেনের স্বাস্থ্য অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় আহতদের সঠিক চিকিৎসা প্রদান প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান এই নাজুক পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে ইয়েমেনের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এই সহিংসতার অবসান কবে ঘটবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ অপরাহ্ণ