খুঁজুন
, ,

অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন: পিছিয়ে পড়েও জয় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন: পিছিয়ে পড়েও জয় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের এক রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় লড়াইয়ে জয় পেল লিভারপুল। মঙ্গলবার রাতে নিজ মাঠ অ্যানফিল্ডে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছিল অল রেডরা। ম্যাচের শুরুটা লিভারপুলের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের তোপে পড়ে ম্যাচের শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিতে সক্ষম হয় স্বাগতিকেরা। খেলার চূড়ান্ত ফলাফল ৪-৩। এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল লিভারপুল।

ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ভিয়ারিয়াল। এর ফলও তারা দ্রুত পেয়ে যায়। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটের মাথায় জর্জেস মিকাউতাদজে গোল করে ভিয়ারিয়ালকে এগিয়ে দেন। এই গোল হজম করার পর লিভারপুল ডিফেন্স কিছুটা চাপে পড়ে যায়। সেই চাপের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৯ মিনিটের সময় ব্যবধান বাড়ান সার্জি কারদোনা। মাত্র আধঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে দুই গোল খেয়ে অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে তখন স্তব্ধতা। লিভারপুল সমর্থকরা তখন দলের কাছ থেকে এমন বিপর্যয়ের আশা করেননি। তবে পিছিয়ে পড়ার পর লিভারপুল খেলোয়াড়দের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর লিভারপুল তাদের আক্রমণের ধার বাড়াতে বাধ্য হয়। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ফরোয়ার্ড লাইনে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও তার সতীর্থরা দুর্দান্ত সব আক্রমণ তৈরি করতে থাকেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের পায়ের জাদুতে প্রথম গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। এই গোলটি যেন পুরো দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। প্রথমার্ধের শেষভাগে লিভারপুল আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। বিরতির আগে গোল সংখ্যা আর না বাড়লেও দলের আক্রমণের ধরনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে দ্বিতীয়ার্ধে এক দারুণ লড়াই অপেক্ষা করছে দর্শকদের জন্য।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে লিভারপুল যেন অন্য এক রূপে ধরা দেয়। টানা আক্রমণ আর গোলের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তারা ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। পাল্টা আক্রমণ থেকেও ভিয়ারিয়াল চেষ্টা চালিয়েছে, তবে লিভারপুলের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা তাদের প্রতিটি প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেন। খেলার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিভারপুল পরপর গোল করে স্কোরবোর্ডে সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে যায় যখন তারা ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে পুঁজি করে একের পর এক লক্ষ্যভেদ করতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের এই জয় লিভারপুলের অদম্য মানসিকতার পরিচয় দেয়। দুই গোল পিছিয়ে থেকেও এভাবে ফিরে আসা চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় আসরে সচরাচর দেখা যায় না। জয়ের ফলে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে, ম্যাচের অধিকাংশ সময় নিয়ন্ত্রণে রেখেও ভিয়ারিয়াল যেভাবে জয় হাতছাড়া করল, তা নিয়ে তাদের হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। অ্যানফিল্ডের সমর্থকদের জন্য এটি ছিল এক অবিস্মরণীয় রাত।

এই জয় লিভারপুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগের আগামী রাউন্ডে যাওয়ার পথ সহজ করতে এই তিন পয়েন্ট তাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। কোচ ও ম্যানেজমেন্ট এই ম্যাচের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনের প্রস্তুতির কৌশল নির্ধারণ করবেন। তবে সব মিলিয়ে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এটি ছিল এক উপভোগ্য এবং নাটকীয় ম্যাচ, যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা ধরে রেখেছিল।

৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
   
৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বিশাল এক ক্ষেত্র জুড়ে থাকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আজ সাফল্যের ৩৪ বছর পূর্ণ করলো। ১৯৯২ সালের ২০ অক্টোবর এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা আজ দেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান ভরসার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মূল ক্যাম্পাসসহ এর আওতাধীন নগর কার্যালয়গুলোতে বর্ণাঢ্য সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ভবনগুলোতে শোভা পাচ্ছে শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করা হবে।

দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। গ্রাম ও শহরের সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার নিজস্ব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে, যেখানে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোকে একটি প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এনে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এটি আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা দেশে অসংখ্য অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে, যেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে লাখো শিক্ষার্থী তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করছেন। সময়ের সাথে সাথে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কাজের আধুনিকায়ন করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেক কমেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই আনন্দঘন পরিবেশে দিনটি উদযাপন করছেন। তবে শুধু আনন্দ আয়োজনই নয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের বিগত দিনের অর্জনগুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করা এবং বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যেতে চায়।

এই বিশেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। ক্যাম্পাসের আঙিনায় শিক্ষার্থীদের পদচারণা এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আমেজ এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন মুহূর্ত দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন প্রেরণা যোগাবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিএসজির বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় মৌসুমের প্রথম হার বার্সেলোনার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
   
পিএসজির বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় মৌসুমের প্রথম হার বার্সেলোনার

চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে দারুণ ছন্দে থাকা বার্সেলোনাকে হারের তিক্ত স্বাদ দিয়েছে ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিক পিএসজি ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে কাতালান ক্লাবটিকে। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটিই বার্সেলোনার প্রথম পরাজয়। এই হারের মাধ্যমে নিজেদের অপরাজিত থাকার দৌড়ও থেমে গেল স্প্যানিশ দলটির জন্য।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পিএসজি বার্সেলোনার রক্ষণে বেশ কিছু চাপ সৃষ্টি করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন দেজিরে দুয়ে। পিছিয়ে পড়েও বার্সেলোনা হতাশ না হয়ে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয়। তবে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় বার্সেলোনাকে।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বার্সেলোনা ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায়। ৫৫ মিনিটে জাভি এসপার্টের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে সমতা ফিরলে বার্সেলোনা শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফেরে। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পিএসজির আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দ্রুতই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এরপরের সময়ে পিএসজি একে একে আরও গোল আদায় করে নিলে ব্যবধান বড় হতে থাকে। বার্সেলোনা দুইবার সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের ছন্দহীনতার কারণে তাদের বড় ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে। পুরো ম্যাচজুড়েই পিএসজির কৌশল ছিল বার্সেলোনার মিডফিল্ডকে নিষ্ক্রিয় রাখা, যাতে তারা ফরোয়ার্ডদের কাছে বল পাঠাতে না পারে। কৌশলগত এই লড়াইয়ে বার্সেলোনার কোচ অনেকটাই পিএসজির পরিকল্পনার কাছে হার মেনেছেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বার্সেলোনা বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও ফিনিশিং এবং গোলমুখে শট নেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। অন্যদিকে পিএসজি সুযোগ পাওয়া মাত্রই লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করেনি। রক্ষণভাগে ভুল এবং পিএসজির গতিময় ফরোয়ার্ডদের সামলাতে না পারার ব্যর্থতা এই ম্যাচে বার্সেলোনার পরাজয়ের বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই জয়ের ফলে পিএসজি পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করল। অন্যদিকে বার্সেলোনাকে এখন নিজেদের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে, কারণ সামনে তাদের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগের আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি রয়েছে।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বার্সেলোনার কোচ দলের রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইউরোপীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ছোট ছোট ভুলের চড়া মাসুল দিতে হয়, যা তারা এই ম্যাচে পেয়েছে। অন্যদিকে পিএসজির শিবিরে এখন জয়ের আনন্দ। কোচ এবং খেলোয়াড়রা এই জয়কে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। বার্সেলোনার জন্য এই হার বড় ধাক্কা হলেও তারা চাইবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের ধারায় ফিরতে। লিগ পর্বের এই ম্যাচটি কেবল একটি পরাজয় নয়, বরং বার্সেলোনার বর্তমান দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার একটি সুযোগ হিসেবেই দেখছে ফুটবল বোদ্ধারা। আগামী ম্যাচগুলোতে বার্সেলোনা রক্ষণভাগে কি ধরনের পরিবর্তন আনে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল উৎসব: ফোডেনের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত এইকে এথেন্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল উৎসব: ফোডেনের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত এইকে এথেন্স

ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের শক্তির জানান আবারও নতুন করে দিল ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গ্রিসের ক্লাব এইকে এথেন্সের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এই জায়ান্টরা। ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানের এই জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন ম্যানসিটির তরুণ ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেন। তার অসাধারণ হ্যাটট্রিকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে। ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দ দেখিয়েছে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শুরুর দিকেই গোলের দেখা পায় ম্যানচেস্টার সিটি। মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। ম্যাচের এই গোলটি যেন সিটির খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় রক্ষণভাগে কিছুটা অগোছালো হয়ে পড়ে এইকে এথেন্স। প্রথমার্ধেই নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ম্যানসিটির আক্রমণভাগের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি সফরকারী দল। প্রথমার্ধে আধিপত্য ধরে রেখে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে সিটিজেনরা।

ম্যাচের মধ্যভাগে নিজেদের সেরা ফর্মে দেখা যায় ফিল ফোডেনকে। একের পর এক ড্রিবলিং আর নিখুঁত শটে তিনি এথেন্সের রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিয়েছেন। দ্বিতীয় ভাগে খেলার ধার আরও বাড়ে। ফোডেন তার হ্যাটট্রিক পূরণ করেন অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে। তার প্রতিটি গোলই ছিল যেন নিখুঁত পরিকল্পনার প্রতিফলন। সিটির হয়ে অন্য দুই গোল এসেছে এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং রায়ান শেরকির পা থেকে। রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক—উভয় ক্ষেত্রেই দারুণ সমন্বয় ছিল গার্দিওলার শিষ্যদের খেলায়।

এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল ম্যানচেস্টার সিটি। এথেন্সের বিপক্ষে এই জয় তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। কোচ পেপ গার্দিওলা দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের এমন পারফরম্যান্স দলের গভীরতাকেই প্রমাণ করে। অন্যদিকে, এইকে এথেন্সের জন্য এটি ছিল বেশ বড় একটি ধাক্কা। ইতিহাদে তারা যেভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ খুব একটা পায়নি তারা।

ম্যাচ শেষে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। ঘরের মাঠে এমন দুর্দান্ত ফুটবল উপভোগ করতে পেরে দর্শকরা বেশ তৃপ্ত। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চে এমন জয় যে কোনো দলের জন্যই বিশেষ কিছু। ম্যানচেস্টার সিটি এখন তাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। দল হিসেবে তারা যেভাবে খেলছে, তাতে আসন্ন ম্যাচগুলোতেও প্রতিপক্ষরা তাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ পাবে না। ফোডেনের এই হ্যাটট্রিক কেবল একটি জয় নয়, বরং ম্যানসিটির শিরোপা প্রত্যাশার পথে একটি বড় বারুদ হিসেবে কাজ করবে।

সর্বশেষ
৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পিএসজির বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতায় মৌসুমের প্রথম হার বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল উৎসব: ফোডেনের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত এইকে এথেন্স অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন: পিছিয়ে পড়েও জয় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে রাষ্ট্র চললেও তাদের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক কিউআর কোড প্রযুক্তির পথে ঢাকা খালেদা জিয়ার মতো সাজপোশাকের বিষয়টি অস্বীকার করলেন মেঘনা আলম ইশরাকের পদত্যাগে সাংবিধানিক কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল
Advertisement