হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় অবস্থিত একটি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ কিছু দুর্বৃত্ত দল কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে অতর্কিত প্রবেশ করে এই তাণ্ডব চালায়। হামলার সময় তারা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের হুমকি প্রদান করে এবং জমির ভাড়া হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের নামে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গুদামে প্রবেশ করে। তারা সেখানে কর্তব্যরত কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং অফিসের আসবাবপত্র ও নথিপত্র তছনছ করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, এখন থেকে ওই জায়গা বা জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সানজিদুল ইসলাম ইমনকে প্রদান করতে হবে। এ ধরনের দাবির সাথে তারা কুরিয়ার সার্ভিসটির অন্যান্য মালামাল ও নগদ অর্থ লুটপাট করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একদল সন্ত্রাসী মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনে করে ঘটনাস্থলে আসে এবং বেশ কিছুক্ষণ তাণ্ডব চালিয়ে বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে। হামলার সময় তারা কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও চড়াও হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তার সংকট দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত সানজিদুল ইসলাম ইমনের নাম ব্যবহার করে এই চাঁদাবাজির ঘটনাটি এলাকাভিত্তিক অস্থিরতার একটি অংশ বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী বা সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ঘটনাটিও ঠিক তেমনই একটি পরিকল্পিত চাঁদাবাজির অংশ কি না, তা নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের কর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের পূর্বশত্রুতা ছাড়াই হঠাৎ করে এমন হামলা তাদের হতবাক করেছে। তারা কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হুমকির শিকার ছিলেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান পরিচালনার কথাও নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
রাজধানীর হাজারীবাগের মতো জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে কুরিয়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা জনমনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।
পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় কেউ এমন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে যে, রাজধানীর শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করা হবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]