খুঁজুন
, ,

মাদ্রাসা ছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে আটক রাখার আবেদন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
মাদ্রাসা ছাত্র আরিফ হত্যা মামলা: কারাগারে আটক রাখার আবেদন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদ্রাসা ছাত্র মো. আরিফ নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে সাংবাদিক ও ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরিফ নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করেছেন। তবে বর্তমানে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের কোনো আবেদন করা হয়নি। তদন্তের এই পর্যায়ে পুলিশ তাকে রিমান্ডে না নিয়ে কারাগারে রেখে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাচ্ছে। মামলার তদন্তে আর কী কী তথ্য উঠে আসে এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ।

উল্লেখ্য যে, জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র সংঘাত ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেই উত্তাল সময়ে গুলিবর্ষণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে মো. আরিফ নামের ওই মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু একটি সংবেদনশীল মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। ওই সময়কার বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নাম জড়িয়েছে এই মামলায়।

আইনজীবীদের মতে, সাধারণত কোনো ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পেলে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করে থাকে। তবে এখানে তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। আপাতত রিমান্ডের আবেদন না করে কারাগারে আটক রাখার আবেদনটি নির্দেশ করে যে, তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছে থাকা নথিপত্র এবং তথ্য বিশ্লেষণের জন্য সময় নিতে চাচ্ছেন অথবা অন্য কোনো বিশেষ আইনি কৌশল অবলম্বন করেছেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকতার জগতের একজন পরিচিত মুখ এবং বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে তিনি এবং তার মতো আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যাত্রাবাড়ীর এই নির্দিষ্ট মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে। এখন দেখার বিষয়, আদালত আগামী শুনানিতে এই আবেদন নিয়ে কী নির্দেশনা দেন এবং মামলার পরবর্তী মোড় কোন দিকে যায়।

রামায়ণে সূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল প্রীত সিং

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
   
রামায়ণে সূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল প্রীত সিং

বলিউড ও ভারতীয় চলচ্চিত্রে রামায়ণ মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। বিশেষ করে যখন কোনো বড় বাজেটের সিনেমায় পৌরাণিক চরিত্রগুলোর রূপদান নিয়ে আলোচনা হয়, তখন তা বাড়তি মনোযোগ পায়। সদ্য মুক্তি পাওয়া রামায়ণ সিনেমায় সূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই এই চরিত্রের সাজসজ্জা এবং পর্দায় উপস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নেটিজেনদের মধ্যে সূর্পণখা চরিত্রটি নিয়ে যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, তার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে চরিত্রটিকে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর রাকুল প্রীত সিং নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে শুটিং সেটের কিছু নেপথ্যের মুহূর্ত বা বিটিএস ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এই বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছেন। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, রামায়ণে সূর্পণখা চরিত্রটিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে শেয়ার করার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। সিনেমা মুক্তির পর সেই সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি নিজের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও অভিনয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

রাকুল প্রীত সিংয়ের মতে, সূর্পণখা চরিত্রটি মূলত অনেক ক্ষেত্রেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বা সাধারণ মানুষের মনে এই চরিত্রটি নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণা দীর্ঘ সময় ধরে গেঁথে আছে। অভিনেত্রী মনে করেন, পৌরাণিক প্রেক্ষাপটে এই চরিত্রটির গভীরতা ও জটিলতা অনেক বেশি, যা হয়তো সাধারণ বর্ণনায় সেভাবে ফুটে ওঠেনি। তিনি চেয়েছেন সূর্পণখার মানবিক দিক এবং তার জীবনের সংঘাতগুলো দর্শক যাতে নতুনভাবে দেখতে পায়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অভিনয়ের খাতিরে এমন একটি বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বেছে নেওয়া ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত।

অভিনেত্রী আরও জানিয়েছেন, সেটে এই চরিত্রে অভিনয়ের সময় তাকে নানাবিধ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে চরিত্রের লুক বা সাজসজ্জা নিয়ে তিনি বেশ সতর্ক ছিলেন, যাতে সেটি পৌরাণিক আবহ বজায় রেখেও আধুনিক দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই খোলামেলা আলোচনা ও আবেগী বার্তা ভক্তদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন এবং ভিন্নধর্মী একটি চরিত্রে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। মূলত এই সিনেমার ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকুল প্রীত সিংয়ের লুক নিয়ে বিতর্ক ও প্রশংসার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।

রামায়ণের মতো একটি মহাকাব্যের কাহিনিতে সূর্পণখা চরিত্রটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। রাকুল প্রীত সিংয়ের এই বয়ানের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি কেবল একটি নেতিবাচক চরিত্রের খোলসে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি, বরং চরিত্রটির পেছনের কারণ ও আবেগগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সিনেমাটি বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে চলছে এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রাকুল প্রীত সিংয়ের অভিনয়ের দক্ষতা নিয়েও চলচিত্র বোদ্ধাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, রামায়ণ সিনেমায় সূর্পণখা চরিত্রের নতুন এই রূপায়ন ভারতীয় বিনোদন জগতে একটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিএনপি দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছে: ডা. শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
বিএনপি দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছে: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণের যে সংস্কৃতি চালু করেছে, তা মূলত অতীতে দেখা সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোরই পুনরাবৃত্তি। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আল ফালাহ মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সভায় ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তার বিপরীতে বিএনপি এখন ভিন্ন পথে হাঁটছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, মাঠপর্যায়ে বা প্রশাসনের সর্বত্র দলীয়করণের যে প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা রাষ্ট্র পরিচালনার গণতান্ত্রিক রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জামায়াত আমির স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই ধরণের কর্মকাণ্ড দেশবাসীকে আবারো কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, গণভোটের রায়কে যথাযথভাবে সম্মান না জানিয়ে বিএনপি সরকার নিজেদের মতো করে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে পরিচালনা করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তার মতে, জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি সুস্থ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার যে দায়বদ্ধতা ছিল, তা থেকে সরকার বিচ্যুত হয়েছে। বিগত দিনের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ ধরনের দলীয়করণের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত জনস্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নেয়।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আধিপত্য কাম্য নয়। তিনি মনে করেন, বিগত সরকারের আমলে মানুষ যেভাবে ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তার একটি অদ্ভুত মিল পাওয়া যাচ্ছে। তাই অবিলম্বে এই দলীয়করণ ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব থেকে সরে এসে সব অংশীজনকে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দলের আমিরের এই আহ্বানের সাথে একমত পোষণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য বিরোধী দলগুলোর সাথে বর্তমান সরকারের দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে তার এমন বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ডা. শফিকুর রহমান শেষ পর্যায়ে দেশের জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন এবং কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ প্রদান করেন।

হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ইরানকে সরবরাহ করবে রাশিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ইরানকে সরবরাহ করবে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে ইরান ও রাশিয়া। নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, রাশিয়ার একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের গোপন নথি থেকে জানা গেছে যে, রাশিয়া ইরানকে বিশেষ ধরনের ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। এই লঞ্চারগুলো এমনভাবে তৈরি যা হেলিকপ্টার থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম। মূলত সামরিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই চুক্তির ফলে ইরানের বিমানবাহিনী ও সামরিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও রাশিয়া বা ইরান সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেনি, তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের অভ্যন্তরীণ রফতানি সংক্রান্ত গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এই ধরনের সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক আদান-প্রদান বিশ্বরাজনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া কেবল অর্থনৈতিক লাভের দিকেই নজর দিচ্ছে না, বরং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানকে পাশে রেখে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টাও করছে। অন্যদিকে ইরানও তাদের পুরনো সামরিক সরঞ্জামগুলোকে আধুনিকায়নের সুযোগ পাচ্ছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্র নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা থাকার কারণে এই লঞ্চারগুলো ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এটি ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তির সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সরবরাহকে কীভাবে দেখছে এবং এতে কোনো কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

রাশিয়া এবং ইরানের এই সামরিক চুক্তি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতা হোক, তা চায় না। তবুও গোপন নথির এই তথ্য প্রমাণ করে যে, দুই দেশের সামরিক অংশীদারিত্ব দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই লঞ্চারগুলো কখন এবং কীভাবে ইরান তার সামরিক বহরে যুক্ত করবে, তা নিয়ে সামরিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক নজর রাখছেন। এই চুক্তির ফলে তেহরানের সামরিক শক্তি যে এক ধাপ এগিয়ে গেল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সর্বশেষ
রামায়ণে সূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল প্রীত সিং বিএনপি দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছে: ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ইরানকে সরবরাহ করবে রাশিয়া মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনায় মামলা পোশাক শিল্পের অস্থিরতা ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব অভিনয়ে ২৮ বছর: নতুন পথে ‘জাতীয় ফুপু’ দীপা খন্দকার পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক উৎপাদনে যুগান্তকারী পদ্ধতি উদ্ভাবন চীনা বিজ্ঞানীদের খাগড়াছড়িতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ক্ষতিগ্রস্ত ৯ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তরে ট্রাভেল পাসের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই আগামী তিন মাসে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা