ফুটবলপ্রেমী বাঙালির দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হলো। প্রায় আট বছর পর আবারও বাংলাদেশ পা রাখতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম সংস্করণের। এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে গোটা দেশজুড়ে এক অন্যরকম উত্তেজনা ও প্রত্যাশার ঢেউ বইছে। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফিটি বাংলাদেশের আলমারিতে ধরা দেয়নি, তবে এবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্ন দেখছেন স্বাগতিকরা।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত ৮টায় ভুটানের বিপক্ষে তাদের এই মিশন শুরু হবে। প্রথমবারের মতো দেশের দর্শকদের সামনে বড় কোনো শিরোপা জয়ের মিশনে নামার আগে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বেশ তুঙ্গে। কোচিং প্যানেলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা এবং দর্শকদের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে তারা জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে বদ্ধপরিকর। ভুটান দল তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পরিকল্পনা রয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
আজকের দিনে শুধু স্বাগতিকদের ম্যাচই নয়, ফুটবল দর্শকদের জন্য থাকছে আরও চমক। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে উপমহাদেশের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। একই ভেন্যুতে বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা, আর তা যদি হয় ফুটবল মাঠে, তবে তার আবেদন ভিন্নমাত্রা পায়। ফুটবলপ্রেমীরা এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি উপভোগ করার জন্য মুখিয়ে আছেন।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এই আসরের সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রয়েছে। যেসব দর্শক স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন না, তারা টেলিভিশনের পর্দায় টি স্পোর্টসে চোখ রাখতে পারেন। আধুনিক সম্প্রচার প্রযুক্তির কল্যাণে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা তাদের প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে পারবেন। খেলোয়াড়দের চোটে পড়া বা ফর্মের ওঠানামার মতো বিষয়গুলো মাথায় রেখে দলগুলো তাদের কৌশল সাজিয়েছে। বাংলাদেশ দল তাদের অনুশীলনে মূলত পাসিং ফুটবল এবং ফিনিশিংয়ের ওপর জোর দিয়েছে, যা বিগত কয়েক ম্যাচে দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিয়েছিল।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই বড় আসরটি কেবল ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, এটি নিজেদের মান উন্নয়নের একটি বড় সুযোগও বটে। এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ দল তাদের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য পূরণে কতটা সফল হতে পারে, তা দেখার জন্য পরবর্তী কয়েক দিন প্রতিটি ফুটবল অনুরাগীর চোখ থাকবে জাতীয় স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসের দিকে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর পুরো টুর্নামেন্টের ফলাফল অনেকখানি নির্ভর করবে। আজ রাতের আলোর নিচে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে খেলোয়াড়রা যখন মাঠে নামবে, তখন পুরো দেশ অপেক্ষায় থাকবে একটি জয়সূচক শুরুর জন্য। এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটনো সম্ভব বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। ফুটবল উৎসবের এই দিনটি তাই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৩:১৪ অপরাহ্ণ