জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদ্রাসা ছাত্র মো. আরিফ নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে সাংবাদিক ও ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরিফ নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন আদালতে এই আবেদনটি দাখিল করেছেন। তবে বর্তমানে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের কোনো আবেদন করা হয়নি। তদন্তের এই পর্যায়ে পুলিশ তাকে রিমান্ডে না নিয়ে কারাগারে রেখে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাচ্ছে। মামলার তদন্তে আর কী কী তথ্য উঠে আসে এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ।
উল্লেখ্য যে, জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র সংঘাত ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেই উত্তাল সময়ে গুলিবর্ষণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে মো. আরিফ নামের ওই মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু একটি সংবেদনশীল মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। ওই সময়কার বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নাম জড়িয়েছে এই মামলায়।
আইনজীবীদের মতে, সাধারণত কোনো ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পেলে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করে থাকে। তবে এখানে তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। আপাতত রিমান্ডের আবেদন না করে কারাগারে আটক রাখার আবেদনটি নির্দেশ করে যে, তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছে থাকা নথিপত্র এবং তথ্য বিশ্লেষণের জন্য সময় নিতে চাচ্ছেন অথবা অন্য কোনো বিশেষ আইনি কৌশল অবলম্বন করেছেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকতার জগতের একজন পরিচিত মুখ এবং বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে তিনি এবং তার মতো আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যাত্রাবাড়ীর এই নির্দিষ্ট মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে। এখন দেখার বিষয়, আদালত আগামী শুনানিতে এই আবেদন নিয়ে কী নির্দেশনা দেন এবং মামলার পরবর্তী মোড় কোন দিকে যায়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৩:১৫ অপরাহ্ণ