বিশ্বের অন্যতম আধুনিক শহর দুবাই সবসময়ই চমকপ্রদ সব উদ্ভাবন আর রেকর্ড গড়ার জন্য পরিচিত। এবার অলঙ্কার শিল্পে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল শহরটি। সম্প্রতি দুবাইয়ের গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে প্রদর্শিত হয়েছে একজোড়া বিশাল স্বর্ণের ঝুমকা, যা ওজনে ১৬.৫ কেজি। চোখ ধাঁধানো এই অলঙ্কারটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এটি দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের ঝুলিতে ভরে নিয়েছে। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে লেগেছে ৫৫ জন দক্ষ কারিগরের অক্লান্ত পরিশ্রম। নিখুঁত কারুকার্যে ভরা এই ঝুমকা তৈরি করতে তাদের মোট সময় ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮৪০ ঘণ্টা।
প্রথাগত অলঙ্কারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জয়ালুক্কাস জুয়েলারি এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। দীর্ঘ কয়েক মাসের নিবিড় পরিকল্পনায় তৈরি ২২ ক্যারেটের এই স্বর্ণের শিল্পকর্মটির নাম দেওয়া হয়েছে ময়ূর সহস্র। অলঙ্কারটির নকশায় ময়ূরের মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে, যা এর নান্দনিকতাকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে। এটি তৈরির প্রতিটি পর্যায়ে সূক্ষ্ম কারুকার্যের ছাপ স্পষ্ট। এত বিশাল ও ভারী একটি অলঙ্কার নিখুঁতভাবে তৈরি করা যেকোনো জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ জয় করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
গত ২৪ অক্টোবর দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত জুয়েল অব জয় শোরুমে এই অসাধারণ ঝুমকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের উপস্থিতিতে এর কারিগরি দিক এবং নকশার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দেওয়া হয়। স্থানীয় গালফ নিউজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এই উন্মোচন অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ছিল, যেখানে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ এই অলঙ্কারটির ওজন, বিশুদ্ধতা এবং তৈরির কারিগরি দক্ষতার মূল্যায়ন করে দুটি আলাদা বিভাগে স্বীকৃতি দিয়েছে। সোনা বা গয়না শিল্পের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। সাধারণত এত ওজনের অলঙ্কার ব্যবহারযোগ্য হওয়ার চেয়ে প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যেই বেশি তৈরি করা হয়। তবে এই ঝুমকাটি তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল অলঙ্কার শিল্পের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে তুলে ধরা এবং আধুনিক কারিগরি কৌশলের সাথে ঐতিহ্যবাহী নকশার মেলবন্ধন ঘটানো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জনের ফলে দুবাইয়ের স্বর্ণ ও অলঙ্কার বাজারের মর্যাদা আন্তর্জাতিক মহলে আরও সুসংহত হলো। পর্যটকদের জন্য এখন এই ঝুমকাটি দুবাই ভ্রমণের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ৫৫ জন কারিগরের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং জয়ালুক্কাস জুয়েলারির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল হিসেবে এই রেকর্ডটি আগামী অনেক বছর অলঙ্কারপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিশাল ঝুমকাটির প্রতিটি অংশ, ঝালর এবং ময়ূরের পালকের সূক্ষ্ম নকশা অত্যন্ত যত্নের সাথে খোদাই করা হয়েছে। এত ভারী হওয়ার পরও এর গঠনশৈলী এমনভাবে রাখা হয়েছে যেন এটি প্রদর্শনীর সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। রেকর্ড গড়ার এই আনন্দ কেবল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অলঙ্কার শিল্পের জন্যও এক বড় অর্জন। বিশ্বের সেরা গয়না কারিগরদের মানচিত্র এখন দুবাইয়ের এই সাফল্যের দিকেই নির্দেশ করছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ