জনতা ব্যাংকের সার্ভারে সাইবার হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ
জনতা ব্যাংক পিএলসির মূল সার্ভার সাইবার হামলার শিকার হয়নি বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ব্যাংকটির ওয়েবসাইট নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিরসনে এমন দাবি করেছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা। রোববার জনতা ব্যাংক পিএলসির জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো এক স্পষ্টীকরণ ও প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাংকটির সার্ভার হ্যাক হওয়ার যে খবর প্রচারিত হয়েছে তা সঠিক নয় এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।
প্রতিবাদলিপিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি ছুটির দিনগুলোতে ব্যাংকের ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকদের তথ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পালন করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পুনরায় ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। ব্যাংকটির সার্ভার হ্যাক বা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার কবলে পড়ার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংক সবসময় গ্রাহকদের তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। যে কোনো ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি বা সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় ব্যাংকটি আধুনিক প্রযুক্তির ফায়ারওয়াল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত সার্ভারের ছোটখাটো আপডেট বা প্যাচিংয়ের কাজ করা হয়, যাতে কর্মদিবসে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়। সাধারণ মানুষকে এসব গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্যাংক প্রশাসন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাইবার আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে কিছুটা উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট নিয়ে এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তাদের ডিজিটাল অবকাঠামো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে এবং লেনদেন বা তথ্য সংক্রান্ত কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ব্যাংকটি তাদের নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক থাকতে হচ্ছে। জনতা ব্যাংকের মতো বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গুজবের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই যেকোনো প্রযুক্তিগত আপডেট বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় গ্রাহকদের আগেভাগে জানিয়ে দেওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে ওয়েবসাইট বা অনলাইন সেবা সীমিত রাখা হলে তারা গ্রাহকদের আগাম বার্তা প্রদানের বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে দেখবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব বা তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে ব্যাংকটির অফিসিয়াল ঘোষণার ওপর আস্থা রাখতে গ্রাহকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]