যাত্রাবাড়ীতে মাদক অভিযানে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক সৌমিত্র সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশনা দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক নির্মূলে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসআরবি এবং পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করছিল। এই অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং হামলায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে ২৬ জনকে আটক করে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে গেলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চড়াও হয়। এতে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার এজাহারে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, হামলা ও জখমের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানালে বিচারক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানোর নির্দেশের পর গ্রেপ্তারকৃতদের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্বরত ছিলেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে চলমান এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
যাত্রাবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিনের মাদক সমস্যার সমাধান এবং মাদক কারবারিদের নির্মূলে স্থানীয় সচেতন মহলের দীর্ঘদিন ধরে দাবি ছিল। পুলিশের এই অভিযানে হামলার ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করলেও আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানোয় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা জামিনের আবেদন করেছে কি না বা তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তদন্তকারী কর্মকর্তার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আপাতত আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তরা কারাগারে রয়েছেন এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। পুলিশ বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তারা প্রস্তুত।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]