খুঁজুন
, ,

রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট: মনোনয়ন বাণিজ্য ও পারিবারিক নেতৃত্বের আধিপত্য

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট: মনোনয়ন বাণিজ্য ও পারিবারিক নেতৃত্বের আধিপত্য

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রার্থী মনোনয়ন পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোতে জবাবদিহিতার জায়গাটি দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের চেয়ে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাচ্ছে। বিশেষ করে মনোনয়ন বাণিজ্য এবং পারিবারিক নেতৃত্বের প্রভাব দলগুলোর গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

রাজনীতিতে মনোনয়ন বাণিজ্য এমন একটি ওপেন সিক্রেট বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যা দলের তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। বিএনপির মতো বড় দলে প্রায় এক দশক ধরে কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত না হওয়া অভ্যন্তরীণ স্থবিরতারই বহিঃপ্রকাশ। এই দীর্ঘ সময়ে দলে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার পথ যেমন রুদ্ধ হয়েছে, তেমনি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামতের গুরুত্ব কমে গেছে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাউন্সিল না হওয়ার বিষয়টি সাংগঠনিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একই চিত্র দেখা যায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির মতো বড় দলগুলোর ক্ষেত্রেও। অভিযোগ রয়েছে, এই দলগুলোতেও প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে মেধা বা যোগ্যতার চেয়ে আর্থিক লেনদেন ও লবিংয়ের প্রভাব অনেক বেশি শক্তিশালী।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু এই তিনটি দলই নয়, দেশের অন্তত দশটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের কাঠামো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। অধিকাংশ দলেই শীর্ষ নেতৃত্ব বংশপরম্পরায় বা পারিবারিক বলয় থেকে নির্ধারিত হচ্ছে। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভবন দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করছে। যখন কোনো দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা একটি পরিবারের বা অল্প কিছু ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত থাকে, তখন সেখানে সাধারণ কর্মী বা ত্যাগী নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এটি দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট করছে এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি নির্ভর করে তার তৃণমূল কর্মীদের সক্রিয়তা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর। কিন্তু বর্তমানে দেশের অধিকাংশ দলই ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের প্রভাব এতটাই বেশি যে, সেখানে দলের গঠনতন্ত্রের চেয়েও ব্যক্তির ইচ্ছাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হচ্ছে। কাউন্সিল না করার প্রবণতা বা নামকাওয়াস্তে কাউন্সিল করার সংস্কৃতি দলগুলোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। মনোনয়ন বাণিজ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলুষিত করছে এবং অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী নির্বাচনের এই রেওয়াজ দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রাজনৈতিক দলগুলোতে সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এই সংকট নিরসন হচ্ছে না। জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে অবশ্যই তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং তৃণমূলের প্রকৃত অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে মূল ভিত্তি, তা নড়বড়ে হয়ে পড়বে এবং সাধারণ জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর গ্রহণযোগ্যতা আরও হ্রাস পাবে।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া, ভাইরাল ভিডিওতে অস্ত্র ও স্লোগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া, ভাইরাল ভিডিওতে অস্ত্র ও স্লোগান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং কালচারের একটি ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একদল কিশোর ও তরুণ দেশি তৈরি বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছে। তারা নিজেদের ‘এসবিএস’ নামের একটি গ্যাং বা গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওর দৃশ্যগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবক অত্যন্ত দম্ভের সঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে। ‘জোরে বলো এসবিএস’ এমন বাক্য উচ্চারণ করে তারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। দিনের আলোয় বা কোনো নির্জন স্থানে ধারণ করা এই ভিডিওতে তাদের কাউকেই মুখোশ বা কোনো আবরণ ব্যবহার করতে দেখা যায়নি, যা তাদের বেপরোয়া মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে জনমনে উদ্বেগের শেষ নেই। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে কর্মহীন বেকার যুবকদের একাংশ জড়িয়ে পড়ছে মাদক, ইভটিজিং এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। এসবিএস নামক এই নতুন গ্যাংয়ের তৎপরতা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা কেবল এলাকায় ভীতি ছড়ানোর জন্যই এই ভিডিও তৈরি করেছে নাকি কোনো বিশেষ ঘটনার প্রভাবে এমনটি করেছে, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি এখনই এই ধরনের অপরাধমূলক প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে তারা আরও বড় ধরনের সহিংসতায় জড়িয়ে পড়তে পারে। ভিডিওতে দেখা যাওয়া অস্ত্রগুলো আসল না কি নকল, তা যাচাই করা জরুরি। তবে বিষয়টি যে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, তা স্থানীয়দের বক্তব্যে স্পষ্ট। অভিভাবকরাও এখন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শঙ্কিত। এলাকায় অপরিচিত কিশোর-তরুণদের সন্দেহজনক চলাফেরা এবং তাদের আড্ডার জায়গাগুলোতে প্রশাসনের টহল জোরদার করার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

কুমিল্লার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখনো পর্যন্ত এই ভিডিও সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে সাধারণ মানুষ এবং ইন্টারনেটে সচেতন ব্যবহারকারীরা দাবি তুলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের চেহারা বিশ্লেষণ করে দ্রুত তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হোক। সাইবার অপরাধ দমনে নিয়োজিত টিম যদি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে, তবে খুব দ্রুতই তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার এই অপচেষ্টা রুখতে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপই এখন একমাত্র ভরসা। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, এই কিশোরদের সঠিক কাউন্সিলিং এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে তারা ভবিষ্যতে আরও অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠবে।

এইচএসসির ফল বিপর্যয় ও শিক্ষার সংকটে নতুন ভাবনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
এইচএসসির ফল বিপর্যয় ও শিক্ষার সংকটে নতুন ভাবনা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সাম্প্রতিক ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীদের মেধার পরিমাপক নয়, বরং এটি আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত গলদকেও সামনে নিয়ে এসেছে। সাফল্যের সংজ্ঞা যে কেবল একটি সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভরশীল, সেই চিরাচরিত ধারণা এখন বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে। সমাজের একটা বড় অংশ মনে করে, ভালো ফলাফল করলেই কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলে যাবে এবং জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। কিন্তু এবারের পরীক্ষার ফলাফল সেই স্বপ্নের সাথে বাস্তবতার এক গভীর ফারাক তৈরি করেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এবারের পরীক্ষায় প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর এই অকৃতকার্য হওয়া দেশের শিক্ষাবিদ, অভিভাবক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। বছরের পর বছর আমরা যে মুখস্থ নির্ভর এবং সার্টিফিকেট কেন্দ্রিক শিক্ষার চর্চা করে আসছি, তা কি আদতে কর্মোপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ব্যর্থ হচ্ছে? এমন প্রশ্ন এখন চারদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জ্ঞান আহরণ এবং সৃজনশীলতা বাড়ানো, কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা দিন দিন একটি গোলকধাঁধায় পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

অনেকেই মনে করেন, শিক্ষার সাথে চাকরির বাজারের সমন্বয়ের অভাব এই ফল বিপর্যয়ের একটি বড় কারণ। বর্তমান যুগ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে, কিন্তু আমাদের পাঠ্যক্রম এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি অনেকটা সেই পুরনো ধাঁচেই রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা কি তবে সময়ের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না, নাকি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা তাদের সেই সুযোগটুকু দিতে ব্যর্থ হচ্ছে? যখন ছয় লাখের মতো শিক্ষার্থী একযোগে অকৃতকার্য হয়, তখন কেবল শিক্ষার্থীর দায় নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এখানে দায়ভার শিক্ষক, অভিভাবক এবং সামগ্রিক ব্যবস্থার ওপরও বর্তায়।

শিক্ষার নামে আমরা যে ইঁদুর দৌড় বা গোলকধাঁধায় বন্দি হয়ে আছি, তা থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে। কেবল জিপিএ ফাইভ পাওয়া বা ভালো ফল করাই সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। বরং দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা এবং ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এবারের ফলাফল আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আমরা যদি আমাদের চিন্তাধারার পরিবর্তন না করি এবং শিক্ষাকে কেবল সার্টিফিকেট পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি, তবে আগামী দিনে বেকারত্বের হার যেমন বাড়বে, তেমনি জাতীয় মেধায় ধস নামবে।

তাই এই ফল বিপর্যয়কে কেবল একটি সংখ্যার বিচারে না দেখে, একে একটি বড় ধরনের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা সংস্কারের কথা দীর্ঘদিন ধরে শোনা গেলেও এর বাস্তবায়ন এখনো ধীরগতিতে। পাঠ্যপুস্তকের বাইরের জগতের সাথে শিক্ষার সংযোগ স্থাপনের জন্য নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। সৃজনশীল মেধা বিকাশের সুযোগ রাখা, মুখস্থ নির্ভরতা কমানো এবং কারিগরি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। নীতিনির্ধারকদের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি বাস্তবসম্মত ও আধুনিক কাঠামোয় ফিরিয়ে আনা। নয়তো শিক্ষার এই গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের বড় একটি অংশ।

টাঙ্গাইলের বাবুপুর গ্রামে নতুন খেলার মাঠ: সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দিল সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
টাঙ্গাইলের বাবুপুর গ্রামে নতুন খেলার মাঠ: সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দিল সরকার

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরে একটি খেলার মাঠের অভাব অনুভব করছিলেন। নিজস্ব উদ্যোগে মাঠের জমি তৈরির চেষ্টায় এলাকাবাসীর আগ্রহ ও উদ্যোগের বিষয়টি সম্প্রতি সরকারি নজরে আসে। মাঠ তৈরির জন্য গ্রামবাসীর এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই সরকার বাবুপুর গ্রামে খেলার মাঠ সম্প্রসারণ ও জমি ক্রয়ের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই সুখবরটি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাবুপুরবাসীর খেলার মাঠ তৈরির যে অদম্য ইচ্ছা এবং স্থানীয় পর্যায়ে যে সাংগঠনিক তৎপরতা দেখা গেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মাঠের জন্য জমি সংকটের বিষয়টি যখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছায়, তখন তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক ও ক্রীড়াবান্ধব সিদ্ধান্তের ফলে এখন গ্রামবাসীরা তাদের পছন্দের জায়গায় একটি আধুনিক খেলার মাঠ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। সরকারি এই বরাদ্দের মাধ্যমে মাঠের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই খেলার মাঠটি নির্মাণের ফলে শুধু বাবুপুর গ্রামই নয়, আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোর ও যুবকরাও নিয়মিত শরীরচর্চা ও বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মাদকের অপব্যবহার বা ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায় হলো তাদের খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনা। এই মাঠটি সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বাবুপুর গ্রামে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে। এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং মাঠটি দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠের জমি কেনা ও এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুতই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি করবে যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হয়। মাঠটি নির্মিত হলে এখানে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ স্থানীয় গ্রামীণ খেলাধুলা আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার সারা দেশের আনাচে-কানাচে খেলাধুলার প্রসারে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, বাবুপুরের এই মাঠ তার একটি অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের মেধাবী ক্রীড়াবিদরা তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর বড় ক্ষেত্র খুঁজে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া, ভাইরাল ভিডিওতে অস্ত্র ও স্লোগান এইচএসসির ফল বিপর্যয় ও শিক্ষার সংকটে নতুন ভাবনা টাঙ্গাইলের বাবুপুর গ্রামে নতুন খেলার মাঠ: সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দিল সরকার মিরপুরে পরিস্থিতির উন্নতি, স্বাভাবিক যান চলাচল আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় শিবচরে জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু: আবেদনের সময়সীমা ও বিস্তারিত নির্দেশিকা চোটের কারণে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ছিটকে গেলেন রোনান সুলিভান সাজেক রুটে পাল্টাপাল্টি অবরোধে স্থবির যান চলাচল, চরম ভোগান্তিতে পর্যটক ও স্থানীয়রা রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট: মনোনয়ন বাণিজ্য ও পারিবারিক নেতৃত্বের আধিপত্য মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড
Advertisement