খুঁজুন
, ,

নেসেটে শপথের প্রথম দিনেই স্পিকার ওহানাকে সরানোর পরিকল্পনা বিরোধীদের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
নেসেটে শপথের প্রথম দিনেই স্পিকার ওহানাকে সরানোর পরিকল্পনা বিরোধীদের

ইসরায়েলের রাজনীতিতে ফের নতুন উত্তেজনার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে আগামী ১০ নভেম্বর নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরোধীরা এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছে। বিরোধী জোটের মূল লক্ষ্য হলো, নতুন নেসেট কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে তার পদ থেকে অপসারণ করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা ইতিমধ্যে পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছেছে।

নেতানিয়াহুর বর্তমান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ লিকুদ পার্টির নেতা আমির ওহানার বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। তবে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দাবার চাল যখন জমে উঠেছে, ঠিক তখনই এমন একটি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তারা শাসক গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করার বার্তা দিতে চাইছে। বিরোধী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেসেট অধিবেশন শুরুর পরপরই স্পিকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাদের দাবি, বর্তমান স্পিকার সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা বজায় রাখছেন না, যার ফলে পার্লামেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এই অভূতপূর্ব উদ্যোগে শামিল হয়েছে বিভিন্ন ঘরানার বিরোধী দল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চেঞ্জ ব্লকভুক্ত বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। ইসরায়েল বেইতেনু, দ্য ডেমোক্রেটস এবং যেশারসহ আরও কিছু ছোট-বড় দলের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটটি দীর্ঘদিন ধরেই নেতানিয়াহু সরকারের নানা নীতির সমালোচনা করে আসছে। শুধু তাই নয়, আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট এবং রামের মতো দলগুলোও এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে। সাধারণত ইসরায়েলি রাজনীতিতে আরব দলগুলোর সাথে মূলধারার বিরোধী দলগুলোর কৌশলগত ঐকমত্য খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু স্পিকার অপসারণের ইস্যুতে যেভাবে তারা এক কাতারে শামিল হয়েছে, তা ইসরায়েলি রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি শুধু স্পিকার অপসারণের বিষয় নয়, বরং এটি নেতানিয়াহুর প্রতি অনাস্থা প্রকাশের একটি বড় লক্ষণ। যদি বিরোধীরা প্রথম দিনেই এমন একটি সফল মোশন বা প্রস্তাব আনতে পারে, তবে তা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কা হবে। বিশেষ করে যখন সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি এবং জোট শরিকদের সাথে দেনদরবার চলছে, এমন পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় শাসক দল লিকুদ পার্টির অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে এখনো সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও নেসেটের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো মনে করছে, যদি স্পিকারের মতো সাংবিধানিক পদে তাদের পছন্দমতো কাউকে বসানো সম্ভব হয়, তবে পরবর্তী আইন প্রণয়ন ও পার্লামেন্টারি তদন্ত কমিটিগুলোতে তাদের প্রভাব বাড়বে।

আগামী ১০ নভেম্বরের সেই অধিবেশনটি ইসরায়েলি রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শপথ গ্রহণ এবং স্পিকার পরিবর্তনের নাটকীয়তা সেখানে দেখা যেতে পারে। বিরোধী দলগুলোর এই একাট্টা অবস্থান শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয় এবং শাসক দল কীভাবে পাল্টা কৌশল অবলম্বন করে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, নতুন নেসেটের সূচনা হতে যাচ্ছে চরম রাজনৈতিক রেষারেষি এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। কোনো পক্ষই একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ এবং আগামী দিনগুলোতে পার্লামেন্টের ভেতরে বড় ধরনের বিতর্কের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।

দরজায় টোকা আর হাসির হুল্লোড়: আজ নক নক কৌতুক দিবস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
দরজায় টোকা আর হাসির হুল্লোড়: আজ নক নক কৌতুক দিবস

কখনও কী ভেবে দেখেছেন, দরজায় একটি সামান্য টোকা কীভাবে আনন্দের খোরাক হতে পারে? দৈনন্দিন ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা যখন একটু হাসির জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি, তখন এমন কিছু ছোট ছোট মুহূর্ত আমাদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে পারে। আজ ৩১ অক্টোবর, এমন এক দিন যা বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে নক নক কৌতুক দিবস হিসেবে। এই অদ্ভুত অথচ আনন্দদায়ক দিবসটি মূলত মানুষের সৃজনশীলতা এবং রসবোধকে উদযাপন করার একটি মাধ্যম। যখন কেউ দরজায় টোকা দেয় এবং ভেতর থেকে প্রশ্ন আসে কে, তখনই শুরু হয় এক মজার কথোপকথন। এই সাধারণ প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসে নানা ধরনের কৌতুক, যা একে অপরকে হাসানোর এক অনন্য উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নক নক কৌতুক দিবস মূলত একটি ঘরোয়া আমেজের বহিঃপ্রকাশ। এই কৌতুকগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর গঠনশৈলী। এখানে সাধারণত কথোপকথনটি এভাবেই এগোয় যে, প্রথমজন নক নক বলে শুরু করেন। দ্বিতীয়জন জিজ্ঞাসা করেন কে। এরপর প্রথমজন কোনো একটি নামের অংশ বা শব্দের আংশিক উচ্চারণ করেন, যা শুনে দ্বিতীয়জন বিভ্রান্ত হয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কে? আর তখনই প্রথমজন সেই শব্দের পূর্ণ রূপটি বলে কৌতুকটি শেষ করেন। এই সহজ অথচ বুদ্ধিদীপ্ত শব্দের খেলার মাধ্যমেই লুকিয়ে থাকে আসল মজা। কখনও এই কৌতুকগুলো হয় বুদ্ধিদীপ্ত, আবার কখনও হয় স্রেফ বোকা বোকা বা অদ্ভুত, যা শুনে হাসি চেপে রাখা দায় হয়ে পড়ে।

বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ আজ এই দিবসটিকে ঘিরে তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে নক নক কৌতুক শেয়ার করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগেও এই কৌতুকগুলো নিজেদের আবেদন হারায়নি। বরং দ্রুত বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্মে এগুলো এখন আরও নতুন নতুন রূপে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এই ধরনের কৌতুকগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাদের সরল মনে এই শব্দের খেলার যে আনন্দ, তা এক নতুন মাত্রা যোগ করে। তবে বড়দের ক্ষেত্রেও এটি মানসিক চাপ কমানোর একটি চমৎকার ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে। একটি কঠিন দিনের শেষে প্রিয় মানুষের সঙ্গে এই ধরনের টুকটাক কৌতুক শেয়ার করা মুহূর্তেই বিষণ্নতা দূর করতে সক্ষম।

কৌতুক বা জোকস আমাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ যখন থেকে কথা বলা শিখেছে, তখন থেকেই হাসি-তামাশার মাধ্যমে নিজেদের বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করেছে। নক নক কৌতুক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের জটিল সমীকরণের বাইরেও আনন্দ পাওয়ার অনেক সহজ পথ খোলা আছে। মাত্র কয়েকটি শব্দের খেলা বা পরিস্থিতির হাস্যকর মোড় কীভাবে মানুষকে হাসাতে পারে, তার প্রমাণ মেলে এই বিশেষ দিনে। অনেক সময় এই কৌতুকগুলো খুব সাধারণ মনে হলেও, এগুলো তৈরির পেছনে এক ধরনের ভাষাগত কৌশল বা শব্দের দ্ব্যর্থবোধক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। তাই যারা এই কৌতুকগুলো বলেন বা শোনেন, তাদেরও এই ভাষাগত নিপুণতা বেশ উপভোগ্য মনে হয়।

আজকের এই দিনে আপনিও চাইলে আপনার বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নক নক কৌতুকের একটি ছোট আসর বসাতে পারেন। হয়তো আপনার বলা কোনো একটি কৌতুক কারো খারাপ মন ভালো করে দেবে, অথবা কারো অট্টহাসিতে ঘর মুখর হয়ে উঠবে। দিনশেষে, সুস্থ থাকতে এবং ইতিবাচক থাকতে হাসির কোনো বিকল্প নেই। নক নক কৌতুক দিবস আমাদের শেখায় যে, আনন্দ খোঁজার জন্য বিশাল কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই, বরং চারপাশের ছোট ছোট ঘটনার মধ্যেই আমরা আনন্দ খুঁজে নিতে পারি। তাই আজকের দিনটি হোক হাসি আর আনন্দে পরিপূর্ণ, যেখানে প্রতিটি টোকা বয়ে আনুক নতুন কোনো কৌতুকের বারতা।

শোকজের পরও রাজনৈতিক প্রচার: ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইসির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শোকজের পরও রাজনৈতিক প্রচার: ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইসির

নির্বাচনী আমেজ এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন দেশজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়টি এবার বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এক বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়া ঠাকুরগাঁও জেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম জুলফিকার রহমান বলে জানা গেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই আচরণবিধি মেনে চলার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া ছিল। এর মধ্যেই অভিযোগ ওঠে যে, ঠাকুরগাঁওয়ের ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জুলফিকার রহমান তার দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে স্থানীয় নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসার পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হয়। কিন্তু সেই শোকজের জবাব পাওয়ার অপেক্ষা না করেই বা জবাবের পর পরিস্থিতি অনুধাবন না করেই তিনি পুনরায় নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় হন, যা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে পেশাগত দায়িত্বের পরিপন্থী ও নির্বাচনী আইন অমান্য করার শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন মনে করে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক যখন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন বা প্রচারণায় অংশ নেন, তখন তা সাধারণ ভোটারের ওপর প্রভাব ফেলে এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এই ঘটনাটি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।

কমিশন সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার এই বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে বিভাগীয় মামলা দায়ের করতে হবে। শুধু মামলা দায়ের করাই নয়, সেই মামলার প্রক্রিয়া যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া মামলা দায়েরের পর গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মচারী বা শিক্ষক হিসেবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। যদি কেউ এমনটি করেন, তবে তা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কমিশন এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এ ধরনের কাজের সাহস না পায়। ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন যে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে, তা নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন যেভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আস্থার পরিবেশ তৈরি করছে। ঠাকুরগাঁওয়ের এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন চায় এই ঘটনার যেন দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক যাতে দৃষ্টান্ত তৈরি হয় যে, নির্বাচনের আইন সবার জন্য সমান এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধই বড়।

ইউক্রেনকে ২১০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ইউক্রেনকে ২১০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র

পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের কাছে ২১০ কোটি ডলার মূল্যের ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বড় আকারের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ব্যবস্থাটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এবং তা আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউক্রেন দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আকাশসীমা সুরক্ষার জন্য উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জামের দাবি জানিয়ে আসছিল। মার্কিন কর্তৃপক্ষের এই অনুমোদন সেই দাবিরই একটি বড় প্রতিফলন। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কিয়েভের হাতে পৌঁছাতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ২১০ কোটি ডলারের এই বিশাল অস্ত্র সরবরাহ কেবল কিয়েভের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই মজবুত করবে না, বরং চলমান পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তাও বহন করে। প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে ক্রমাগত বিমান হামলার মুখে থাকা ইউক্রেনের জন্য এই অস্ত্রগুলো একটি বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অনুমোদন পাওয়ার পর এখন প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে কিয়েভের তরফ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ঢালকে আরও শক্তিশালী করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে ইউক্রেন তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে রাশিয়ার সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

উল্লেখ্য যে, এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি মূলত কিয়েভের সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার একটি অংশ। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো কিয়েভকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে। তবে প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ এর মতো উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রের বড় আকারের এই সরবরাহ সামরিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন এই চুক্তির মাধ্যমে কার্যত ইউক্রেনের সুরক্ষার প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা আবারও পুনর্ব্যক্ত করল। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনের সামরিক বহরে যুক্ত হয় এবং যুদ্ধের ময়দানে এর প্রভাব কতটুকু পড়ে।

সর্বশেষ
দরজায় টোকা আর হাসির হুল্লোড়: আজ নক নক কৌতুক দিবস শোকজের পরও রাজনৈতিক প্রচার: ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইসির ইউক্রেনকে ২১০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে উঠছে পৃথিবী: রহস্যের জট খুলতে নাজেহাল বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা: আইনি জটিলতা নিরসনের পরও চলছে ধীরগতি প্রবাসীদের দেশে ফেরা ও লাগেজের বিড়ম্বনা: এক অদৃশ্য চাপ রাজধানীর কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণ: আটক চার লন্ডনে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে ধরিয়ে দিতে বড় পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের নেসেটে শপথের প্রথম দিনেই স্পিকার ওহানাকে সরানোর পরিকল্পনা বিরোধীদের ইসরায়েলের নতুন পার্লামেন্টে প্রথম দিনেই স্পিকার অপসারণের পরিকল্পনা বিরোধীদের
Advertisement