শোকজের পরও রাজনৈতিক প্রচার: ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইসির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচনী আমেজ এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন দেশজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়টি এবার বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এক বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়া ঠাকুরগাঁও জেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম জুলফিকার রহমান বলে জানা গেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই আচরণবিধি মেনে চলার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া ছিল। এর মধ্যেই অভিযোগ ওঠে যে, ঠাকুরগাঁওয়ের ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জুলফিকার রহমান তার দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে স্থানীয় নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসার পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হয়। কিন্তু সেই শোকজের জবাব পাওয়ার অপেক্ষা না করেই বা জবাবের পর পরিস্থিতি অনুধাবন না করেই তিনি পুনরায় নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় হন, যা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে পেশাগত দায়িত্বের পরিপন্থী ও নির্বাচনী আইন অমান্য করার শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন মনে করে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক যখন সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন বা প্রচারণায় অংশ নেন, তখন তা সাধারণ ভোটারের ওপর প্রভাব ফেলে এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এই ঘটনাটি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।

কমিশন সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার এই বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে বিভাগীয় মামলা দায়ের করতে হবে। শুধু মামলা দায়ের করাই নয়, সেই মামলার প্রক্রিয়া যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া মামলা দায়েরের পর গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মচারী বা শিক্ষক হিসেবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। যদি কেউ এমনটি করেন, তবে তা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কমিশন এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ এ ধরনের কাজের সাহস না পায়। ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন যে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে, তা নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন যেভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও আচরণবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আস্থার পরিবেশ তৈরি করছে। ঠাকুরগাঁওয়ের এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন চায় এই ঘটনার যেন দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক যাতে দৃষ্টান্ত তৈরি হয় যে, নির্বাচনের আইন সবার জন্য সমান এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধই বড়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন