ইসরায়েলের রাজনীতিতে ফের নতুন উত্তেজনার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে আগামী ১০ নভেম্বর নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরোধীরা এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছে। বিরোধী জোটের মূল লক্ষ্য হলো, নতুন নেসেট কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে তার পদ থেকে অপসারণ করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা ইতিমধ্যে পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছেছে।
নেতানিয়াহুর বর্তমান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ লিকুদ পার্টির নেতা আমির ওহানার বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। তবে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দাবার চাল যখন জমে উঠেছে, ঠিক তখনই এমন একটি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তারা শাসক গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করার বার্তা দিতে চাইছে। বিরোধী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেসেট অধিবেশন শুরুর পরপরই স্পিকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাদের দাবি, বর্তমান স্পিকার সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা বজায় রাখছেন না, যার ফলে পার্লামেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এই অভূতপূর্ব উদ্যোগে শামিল হয়েছে বিভিন্ন ঘরানার বিরোধী দল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চেঞ্জ ব্লকভুক্ত বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। ইসরায়েল বেইতেনু, দ্য ডেমোক্রেটস এবং যেশারসহ আরও কিছু ছোট-বড় দলের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটটি দীর্ঘদিন ধরেই নেতানিয়াহু সরকারের নানা নীতির সমালোচনা করে আসছে। শুধু তাই নয়, আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট এবং রামের মতো দলগুলোও এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে। সাধারণত ইসরায়েলি রাজনীতিতে আরব দলগুলোর সাথে মূলধারার বিরোধী দলগুলোর কৌশলগত ঐকমত্য খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু স্পিকার অপসারণের ইস্যুতে যেভাবে তারা এক কাতারে শামিল হয়েছে, তা ইসরায়েলি রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি শুধু স্পিকার অপসারণের বিষয় নয়, বরং এটি নেতানিয়াহুর প্রতি অনাস্থা প্রকাশের একটি বড় লক্ষণ। যদি বিরোধীরা প্রথম দিনেই এমন একটি সফল মোশন বা প্রস্তাব আনতে পারে, তবে তা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কা হবে। বিশেষ করে যখন সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি এবং জোট শরিকদের সাথে দেনদরবার চলছে, এমন পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় শাসক দল লিকুদ পার্টির অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে এখনো সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও নেসেটের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো মনে করছে, যদি স্পিকারের মতো সাংবিধানিক পদে তাদের পছন্দমতো কাউকে বসানো সম্ভব হয়, তবে পরবর্তী আইন প্রণয়ন ও পার্লামেন্টারি তদন্ত কমিটিগুলোতে তাদের প্রভাব বাড়বে।
আগামী ১০ নভেম্বরের সেই অধিবেশনটি ইসরায়েলি রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শপথ গ্রহণ এবং স্পিকার পরিবর্তনের নাটকীয়তা সেখানে দেখা যেতে পারে। বিরোধী দলগুলোর এই একাট্টা অবস্থান শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয় এবং শাসক দল কীভাবে পাল্টা কৌশল অবলম্বন করে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, নতুন নেসেটের সূচনা হতে যাচ্ছে চরম রাজনৈতিক রেষারেষি এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। কোনো পক্ষই একে অপরকে ছাড় দিতে নারাজ এবং আগামী দিনগুলোতে পার্লামেন্টের ভেতরে বড় ধরনের বিতর্কের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ