খুঁজুন
, ,

রাজনৈতিক কার্যালয়ে একের পর এক হামলা: জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক কার্যালয়ে একের পর এক হামলা: জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত দুই বছর বেশ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছে। সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত দুই বছরে অন্তত পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কার্যালয়গুলো বারবার দুর্বৃত্তদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকলেও, রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং ধানমন্ডিতে দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় কার্যালয়গুলোতে ভাঙচুর এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডও সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এই ধরনের সহিংসতা অতীতেও দেখা গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এর ব্যাপকতা ও পৌনঃপুনিকতা ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

আওয়ামী লীগ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি দল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিবি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ এবং বাংলাদেশ জাসদ। এই দলগুলোর কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও বিভিন্ন সময়ে হামলা চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এই দলগুলোর ওপর আক্রমণ এটাই প্রমাণ করে যে, বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দলমত নির্বিশেষে এই ধরনের কর্মকাণ্ড সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কার্যালয়ে হামলার এই প্রবণতা কেবল সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিই করছে না, বরং এটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হলো তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু এবং মত প্রকাশের স্থান। সেখানে হামলা চালানো মানে হলো ভিন্নমতকে দমন করার একটি অপপ্রয়াস। তাছাড়া, বারবার এই ধরনের হামলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতার ওপরও এক ধরনের প্রশ্ন তৈরি করছে। কারণ, জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এই কার্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

এই সহিংসতার পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে জনমনে নানামুখী গুঞ্জন ও প্রশ্ন রয়েছে। অনেকেই একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকের মতে, রাজনৈতিক শূন্যতা বা অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। গত দুই বছরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হামলার শিকার দলগুলোর রাজনৈতিক আদর্শ বা অবস্থান যাই হোক না কেন, আক্রমণের ধরন ও কৌশল প্রায় একই রকম ছিল। যা থেকে এটি স্পষ্ট যে, এই হামলাগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একের পর এক হামলায় সেই অধিকার চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে একে অপরের প্রতি সহনশীল হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তবে এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং রাজনৈতিক কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোন কৌশল অবলম্বন করে।

অভাবের সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল মনিরুলের, ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
   
অভাবের সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল মনিরুলের, ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে

অভাবের তাড়নায় একসময় মানুষ পাড়ি জমায় ভিনদেশে, নতুন জীবনের আশায় বুক বাঁধে। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর গ্রামের যুবক মনিরুল ইসলামও ব্যতিক্রম ছিলেন না। সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন নিয়ে সুদূর মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি তার। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়ে এখন নিথর দেহ হয়ে ফিরলেন তিনি। মা-বাবা ও স্বজনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে রায়পুর গ্রামের বাতাস। কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফেরার মাধ্যমে শেষ হলো মনিরুলের বিদেশযাত্রার সব স্বপ্ন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তার স্বজনেরা। বিদেশ যাওয়ার সময় যে মানুষটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজ তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করছেন এলাকাবাসী। এটি কেবল একটি মৃত্যু নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের মর্মান্তিক উপাখ্যান।

মনিরুলের অকাল প্রয়াণে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অভাব ঘোচানোর অদম্য ইচ্ছাই তাকে বাধ্য করেছিল অনিশ্চিত এক গন্তব্যে যাত্রা করতে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মনিরুল বিদেশে যাওয়ার পর নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তার পাঠানো উপার্জনের টাকায় সংসারের অভাব কিছুটা ঘুচতেও শুরু করেছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে অকালেই থেমে গেল তার পথচলা। পরিবার এখন শোকে মুহ্যমান। তারা এখন কেবলই শোকের সাগরে ভাসছে। তার মৃত্যুতে এলাকাবাসীও গভীরভাবে শোকাহত। প্রবাসে গিয়ে লাশ হয়ে ফেরার এই ঘটনা আরও একবার আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবন ও জীবিকার কঠিন বাস্তবতাকে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী আইনি বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এই শোক কাটিয়ে ওঠা বা মনিরুলের শূন্যতা পূরণ করার ক্ষমতা এই পরিবারের নেই, কিন্তু সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষাও আজ তাদের কাছে ফুরিয়ে গেছে।

দেশের সাধারণ মানুষের জন্য প্রবাসজীবন যে কতটা অনিশ্চয়তার, তা আবারও এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ভাগ্য ফেরাতে গিয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। মনিরুলের মতো আরও অনেক তরুণ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ায়, কিন্তু সবার ভাগ্যে সফলতা জোটে না। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আরও জোরালো পদক্ষেপের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। একটি দরিদ্র পরিবারের শেষ আশ্রয়স্থল এভাবে হারিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সমাজসেবীরাও তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। শোকাবহ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বজনদের এখন বড় প্রয়োজন মানসিক ও আর্থিকভাবে সহায়তার। মনিরুলের মৃত্যু যেন এলাকার সব মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। তার মা-বাবা এখন বিলাপ করছেন সন্তানের জন্য। তাদের সব আশা-ভরসা এখন কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ।

মনিরুলের এই অকাল প্রয়াণ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একইসাথে, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি সুরক্ষার বিষয়টি এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে যারা দুর্গম বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে যান, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং যথাযথ সম্মানের সাথে দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অভাবের সংসারে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখা মনিরুল আর নেই, কিন্তু তার এই মর্মান্তিক পরিণতি যেন অন্যদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটাই এখন কাম্য। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে, কীভাবে এমন সম্ভাবনাময় তরুণদের জীবন এভাবে নিভে যাওয়া রোধ করা যায়।

লালমনিরহাটে লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়ানো চিতা বাঘের রহস্যভেদ অধরাই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
   
লালমনিরহাটে লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়ানো চিতা বাঘের রহস্যভেদ অধরাই

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে গত ২৫ অক্টোবর তিনজনকে আহত করার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল পুরো এলাকায়। কিন্তু ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও হামলাকারী চিতা বাঘটির আর কোনো সন্ধান মেলেনি। বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা টানা চার দিন ধরে এলাকাটিতে অভিযান চালিয়েও কোনো সুরাহা করতে পারেননি। বর্তমানে বাঘটি কোথায় অবস্থান করছে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রয়ে গেছে প্রবল উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৫ অক্টোবর বিকেলে। ওইদিন আমঝোল গ্রামের বাসিন্দা শরীফা বেগম তার পোষা ছাগল চরাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার দিকে ঘরে ফেরার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, তার ছয়টি ছাগলের মধ্যে একটি অনুপস্থিত। হারিয়ে যাওয়া ছাগলটির সন্ধানে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় যান। ঠিক তখনই ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে আক্রমণ করে একটি চিতা বাঘ। বাঘের আক্রমণে শরীফা বেগম গুরুতর আহত হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা স্থানীয় আরও দুজনকেও বাঘটি আক্রমণ করে আহত করে। ঘটনার পরপরই বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের চার সদস্যের একটি বিশেষ দল ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা স্থানীয় বনসহ আশপাশের পাঁচটি ইউনিয়নজুড়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালান।

তদন্তকারী দলের অন্যতম সদস্য ও বন্য প্রাণী পরিদর্শক আবদুল্লাহ আস সাদিক জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত পায়ের ছাপ এবং ছাগলের শরীরে আঘাতের ধরন বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি একটি চিতা বাঘই ছিল। বাঘটির আক্রমণে ওই ছাগলটি মারা গিয়েছিল। তবে বাঘটির অস্তিত্ব খুঁজে পেতে তারা ব্যর্থ হন। অনুসন্ধানের পর গত শুক্রবার দলটি ঢাকায় ফিরে এসেছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, বাঘটি সম্ভবত সীমান্ত পেরিয়ে পুনরায় ভারতের ডুয়ার্স বা বক্সারের জঙ্গলে ফিরে গেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ আস সাদিক জানান, আমঝোল সীমান্তের ওপারে ভারতের অংশে শালবন, বাঁশঝাড় এবং বড় শিমুল ও সেগুন গাছ রয়েছে। চিতা বাঘ অত্যন্ত চটপটে প্রাণী এবং অনায়াসেই গাছে উঠতে পারে। হয়তো কোনো গাছ বেয়ে সে কাঁটাতারের বেড়ার ওপরে উঠে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করেছিল। কারণ, কাঁটাতারের বেড়া এমনভাবে তৈরি যে নিচ দিয়ে বাঘের প্রবেশের সম্ভাবনা প্রায় নেই। বন্য প্রাণী বিভাগের এই ধারণাটি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করলেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত করতে পারছে না। কারণ বাঘটি যদি এখনো বাংলাদেশের সীমানার ভেতরেই কোথাও লুকিয়ে থাকে, তবে যেকোনো সময় আবার বিপদের সম্মুখীন হতে পারে গ্রামবাসী।

এদিকে, এই ঘটনার পর থেকে আমঝোল ও এর আশপাশের এলাকার জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। মানুষ এখন সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের পশুপালন বা কৃষিকাজের জন্য বাইরে যেতে হয়, তাদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি। প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বাঘটির কোনো স্থায়ী হদিস না মেলায় আতঙ্ক যেন কাটছে না গ্রামবাসীদের। বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এ ধরনের বন্য প্রাণীর আনাগোনা নতুন নয়, তবে লোকালয়ে ঢুকে আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক। বন বিভাগ এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানোর কথা ভাবছে। আপাতত পুরো এলাকাটিতে এক ধরনের গা ছমছমে নীরবতা বিরাজ করছে, আর সবাই তাকিয়ে আছে কখন নিশ্চিত হওয়া যাবে যে বাঘটি আর সীমানার ধারেকাছে নেই।

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার ঘটনায় ২৬ জন কারাগারে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার ঘটনায় ২৬ জন কারাগারে

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় এসআরবি সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক সৌমিত্র সরকার আদালতে আসামিদের হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানালে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এসআরবি সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় অসাধু মাদক কারবারিরা সংঘবদ্ধ হয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় এসআরবি’র পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার প্রেক্ষিতেই অভিযানে জড়িত সন্দেহে মোট ২৬ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আটককৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছেন যে, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় আটককৃতদের জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণের সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালতের এই আদেশ ঘোষণার সময় পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে কারাগারে থাকা এই ২৬ জনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, সরকারি কাজে বাধা ও হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই কঠোর অবস্থান স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন অলিগলিতে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিল। এসআরবি’র নিয়মিত অভিযানের ফলে মাদক কারবারিরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছিল, যারই জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা এমন হামলা চালায় বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আসামিদের জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানি বা আইনি প্রক্রিয়া এখন সময়ের অপেক্ষায়। এদিকে, ঘটনার মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে এবং মাদকের এই নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। মাদকবিরোধী অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও পুলিশের দৃঢ় পদক্ষেপে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন।

সর্বশেষ
অভাবের সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল মনিরুলের, ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে লালমনিরহাটে লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়ানো চিতা বাঘের রহস্যভেদ অধরাই রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার ঘটনায় ২৬ জন কারাগারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা ও জলবায়ু সহনশীলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন ড. শহীদ উজ জামান রাজনৈতিক কার্যালয়ে একের পর এক হামলা: জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ খুলনা রেঞ্জে শুদ্ধি অভিযান: ২৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার হারানো সহকর্মীদের স্মৃতিচারণায় আবেগাপ্লুত তারকা নিহত তাহসিফের বাবার প্রশ্ন: চমৎকার সরকার থাকতে বিচার পেতে মামলা করতে হবে কেন টঙ্গীতে উদ্ধার তাহসিফের মোটরসাইকেল, রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপর পিবিআই রাজবাড়ীতে মাদ্রাসায় খাবার চেয়ে না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা
Advertisement