উখিয়ায় নলকূপ খননকালে অগ্নিকাণ্ড: টানা ১৪ ঘণ্টা জ্বলছে আগুনের লেলিহান শিখা
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। মাটির গভীর থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে, যা দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও নেভানো সম্ভব হয়নি। আগুনের তীব্রতা সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকাল নাগাদ আগুনের লেলিহান শিখা আরও প্রকট আকার ধারণ করে, যা দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজ এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির সন্ধানে খনন কাজ চালানোর সময় হঠাৎ করেই বিকট শব্দে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা আগুনের শিখায় রূপান্তরিত হয়। রাতের অন্ধকারের মধ্যেও আগুনের উজ্জ্বল শিখা অনেকটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা ও ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ঘটনাস্থলের আশপাশে কড়া নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সাধারণ মানুষকে ওই এলাকার কাছে ঘেঁষতে নিষেধ করা হয়েছে, যাতে কোনো প্রকার প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সতর্কতামূলক বিশেষ ব্যবস্থা। আগুনের বিস্তার এবং পাইপলাইন বা বৈদ্যুতিক লাইনের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থেকে ওই এলাকা এবং আশপাশের প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতহীন অবস্থায় থাকা এলাকাবাসী এক প্রকার আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করছেন। ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তবে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের চাপ এবং প্রবাহ বেশি হওয়ায় আগুন নেভানোর কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মেরিন ড্রাইভের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই আগুনের কারণে যাতায়াতেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই অস্বাভাবিক আগুনের দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দর্শকদের ভিড় সামলানোর পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। বিশেষজ্ঞ দলগুলো এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যে ঠিক কী পরিমাণ গ্যাস মাটির নিচে রয়েছে এবং তা কীভাবে নিরাপদে বন্ধ করা যায়।
উল্লেখ্য যে, এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ থাকার ইঙ্গিত দেয়। তবে ঠিক কী কারণে এবং কোন স্তরের গ্যাস থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটছে, তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ওই এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং ভূগর্ভস্থ গ্যাস প্রবাহ বন্ধ করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। এলাকাবাসী যেন কোনো গুজবে কান না দেন এবং প্রশাসনের নির্দেশাবলী মেনে চলেন, সেই আহ্বানও জানানো হয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]