পরিবেশ সচেতনতায় সিলেটে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ বন্ধুসভার
পরিবেশ রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেট নগরীতে একটি ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে বন্ধুসভা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সিলেট শহরের ১০টি চা-এর দোকানে মোট ১০ হাজার কাগজের কাপ বিতরণ করা হয়েছে। মূলত প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’ শিরোনামের বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে কাগজের কাপের ব্যবহার বাড়ানোর গুরুত্বকে সামনে রেখে এই আয়োজন করা হয়েছে। সিলেটে চায়ের আড্ডার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং প্রায় প্রতিটি চায়ের দোকানেই প্লাস্টিকের কাপ বা ওয়ান টাইম গ্লাস ব্যবহার করা হয়, যা পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বন্ধুসভার কর্মীরা এই দিকটি মাথায় রেখেই স্থানীয় চা দোকানিদের কাছে কাগজের কাপ পৌঁছে দিয়েছেন।
কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বন্ধুসভার সদস্যরা নগরীর জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবস্থিত চা-এর দোকানগুলোকে নির্বাচন করেন। এই দোকানগুলোতে কাপ বিতরণের পাশাপাশি চা বিক্রেতাদেরকে পরিবেশের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়। তাদের পক্ষ থেকে দোকানিদের বোঝানো হয়েছে যে, প্লাস্টিক পণ্য প্রকৃতিতে মিশতে দীর্ঘ সময় নেয় এবং মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। এর বিপরীতে কাগজের কাপ পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মিশে যায় এবং তা পরিবেশবান্ধব।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কেবল কাগজের কাপ বিতরণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। চা বিক্রেতারাও বন্ধুসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে তারা প্লাস্টিকের কাপের বদলে পরিবেশবান্ধব বিকল্পগুলো ব্যবহারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
সিলেটে বন্ধুসভার এই কর্মসূচি স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও মনে করছে, ছোট পরিসরে হলেও এ ধরনের উদ্যোগ জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে চা-এর দোকানে যারা নিয়মিত আড্ডা দেন, তাদের মাঝে এই বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বন্ধুসভার আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপনে তারা এমন সব কাজ বেছে নিয়েছেন যা সমাজের মানুষের উপকারে আসে এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এই ধারাবাহিকতায় সিলেটে পরিবেশবান্ধব কাপ বিতরণ কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হলো। আগামী দিনেও এমন জনহিতকর কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বন্ধুসভার সদস্যরা।
সামগ্রিকভাবে, বন্ধুসভার এই উদ্যোগটি কেবল প্লাস্টিক দূষণ রোধে একটি প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং একটি টেকসই অভ্যাসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। চা-এর দোকানিদের সঙ্গে এমন সম্পৃক্ততা তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে কার্যকর বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধীজন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]