প্রধানমন্ত্রীর জাপানফেরত বিমানে ত্রুটি, ইঞ্জিন সচল ছিল: অতিরিক্ত প্রেস সচিব
জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, ঘটনাটি গুরুতর কিছু ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানের ইঞ্জিন ঠিক ছিল; পাখায় সামান্য সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং তা ঠিক করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা ওই ফ্লাইটে ছিলেন। জাপান থেকে তাঁদের নিয়ে আসা বিমানটির ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য কারা, তারা কবে কাজ শুরু করবে কিংবা তদন্তের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা কত—এসব বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অতিরিক্ত প্রেস সচিবের বক্তব্যে সমস্যার মাত্রা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও ত্রুটিটি ঠিক কীভাবে ধরা পড়ে, তা কোন পর্যায়ে নজরে আসে এবং মেরামতে কত সময় লাগে—সে বিষয়ে বিস্তারিত নেই। একইভাবে পাখার কোন অংশে সমস্যা হয়েছিল, কী ধরনের কারিগরি পরীক্ষা করা হয় কিংবা ফ্লাইটের যাত্রাপথে কোনো পরিবর্তন আনতে হয়েছিল কি না, তাও স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে তদন্তের আগে ত্রুটির সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ঘটনার পর বিমানটির যান্ত্রিক অবস্থা এবং ত্রুটির কারণ খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের লক্ষ্য হিসেবে ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানের কথা জানানো হয়েছে। তবে কমিটি কেবল পাখার সমস্যাটিই পর্যালোচনা করবে, নাকি উড্ডয়নের আগে ও চলাকালে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ও বিবেচনায় নেবে—এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তদন্তের ফল পাওয়া গেলে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।
সফরসঙ্গীদের সঙ্গে একই বিমানে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তও ঘটনাটির আলোচনায় এসেছে। অন্য বিমানে ফেরার সুযোগ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী সফরসঙ্গীদের রেখে যাননি—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিকল্প বিমানটি কোথা থেকে বা কীভাবে পাওয়ার কথা ছিল, সেটি প্রস্তুত ছিল কি না, কিংবা এ নিয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা জানা যায়নি। তাই সিদ্ধান্তটির বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না থাকায় এর বাইরে কোনো কারণ নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
যান্ত্রিক ত্রুটির খবর প্রকাশের পর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের বক্তব্যে দুটি বিষয় আলাদা করে উঠে এসেছে: ইঞ্জিনে ত্রুটি ছিল না এবং পাখায় সামান্য সমস্যা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমস্যাটি ঠিক করা হয়। তবে ঠিক করার কাজটি কোথায় এবং কোন পর্যায়ে হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়নি। এ কারণে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার মুহূর্ত, সমাধানের প্রক্রিয়া কিংবা পরবর্তী কারিগরি যাচাই সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।
চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর ফেরার ফ্লাইটে এ ধরনের ঘটনা হওয়ায় তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ত্রুটির উৎস এবং সেটি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে, তা নির্ধারণে কারিগরি অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কমিটির কাজ শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি বা দায়িত্বে থাকা কোনো পক্ষকে দায়ী করার তথ্য নেই। অতিরিক্ত প্রেস সচিবও ঘটনাটিকে বড় কিছু নয় বলে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তদন্তের ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কারণ সম্পর্কে তাঁর ওই প্রাথমিক বক্তব্যের বাইরে সিদ্ধান্ত টানা যাবে না।
বিমানটিতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তাঁর স্ত্রী ও সফরসঙ্গীরা ছিলেন—তাই ত্রুটির বিষয়টি তাঁদের বহনকারী পুরো ফ্লাইটের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাখার সামান্য সমস্যাটি ঠিক করা হয়েছিল এবং ইঞ্জিন সচল ছিল। তবে বিমানের যাত্রা, অবতরণ বা যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্দিষ্ট বিবরণ এই তথ্যের মধ্যে নেই। এসব বিষয়ে অনুমান না করে তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।
এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, জাপান থেকে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে একটি যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল, অতিরিক্ত প্রেস সচিব সেটিকে সীমিত মাত্রার বলে বর্ণনা করেছেন এবং কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ত্রুটির পূর্ণ বিবরণ ও তদন্তের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে ঘটনার প্রকৃতি, সমাধানের পদ্ধতি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা আরও পরিষ্কার হবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]