খুঁজুন
, ,

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তকমা থেকে মুক্তি চান প্রাথমিক শিক্ষকরা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তকমা থেকে মুক্তি চান প্রাথমিক শিক্ষকরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বিদ্যমান মর্যাদা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এবার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিচয় থেকে মুক্তি ও ১০ম গ্রেডের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন শিক্ষকরা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও মর্যাদাগত সংকট নিরসনের দাবি আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময় শিক্ষকরা তাঁদের পেশাগত অবস্থান পরিবর্তনের দাবি জানালেও এবার নতুন করে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিচয় থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি গড়ে দেওয়ার মতো দায়িত্বশীল কাজ করার পরেও তাদের পরিচয় যদি নিচু মানের হয়, তবে তা শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ ও শিক্ষকের সম্মানজনক অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সম্প্রতি সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসি এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শিক্ষকরা এখন আর তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাঁর মতে, একজন শিক্ষক জাতি গড়ার কারিগর, অথচ সরকারি নথিপত্রে তাদের অবস্থান তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সমতূল্য রাখাটা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই পরিচয় থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুতি কেবল একজন শিক্ষকের নয়, বরং সামগ্রিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রতিফলন। শিক্ষকরা আশা করছেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষাখাতে যে সংস্কারের আলোচনা চলছে, সেখানে তাদের দীর্ঘদিনের এই দাবিটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

শিক্ষকদের মূল দাবির জায়গাটি মূলত বেতন স্কেল ও গ্রেড নির্ধারণকে কেন্দ্র করে। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরেই ১০ম গ্রেডের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, অন্যান্য দপ্তরের একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের পরিধি সম্পন্ন পদে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তারা উচ্চতর গ্রেড সুবিধা পেলেও প্রাথমিক শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ১০ম গ্রেড বাস্তবায়িত হলে তাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও বাড়বে বলে তারা মনে করছেন। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, বর্তমান সময়ের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পেশার গুরুদায়িত্বের কথা বিবেচনা করলে ১০ম গ্রেড প্রদান এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষক নেতারা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড হিসেবে আখ্যা দেওয়া হলেও শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। তারা মনে করেন, শিক্ষকের মর্যাদা এবং তাদের বেতন কাঠামো উন্নয়নের সাথে শিক্ষার গুণগত মানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যদি একজন শিক্ষক মানসিকভাবে সন্তুষ্ট না থাকেন এবং আর্থিক সংকটের পাশাপাশি সামাজিক পরিচিতি নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন, তবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত শিক্ষকদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বলছেন, শিক্ষকদের বেতন কাঠামো এবং পদমর্যাদা পরিবর্তনের বিষয়টি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী এটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বাজেট ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন প্রয়োজন। জান্নাতুল ফেরদৌসির মতো অনেক শিক্ষকই আশা করছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেবে এবং তাদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তকমা থেকে মুক্তি দিয়ে ১০ম গ্রেড প্রদানের দাবিটি আমলে নেবে।

প্রাথমিক শিক্ষকরা এখন অপেক্ষায় আছেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে। তারা মনে করছেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সরকারি চাকরিতে গ্রেড নির্ধারিত হওয়া উচিত, কেবল সনাতন কোনো প্রথার কারণে শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করা কাম্য নয়। শিক্ষকরা চান, তাদের কাজের স্বীকৃতি মিলুক এবং শিক্ষক হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে তারা পাঠদান চালিয়ে যেতে পারেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
পুলিশ মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা কথিত ক্রসফায়ার নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরনের বক্তব্য আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। এই প্রেক্ষিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং মানবাধিকার সংস্থা অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।

টিআইবি এবং অধিকারের পক্ষ থেকে পাঠানো আলাদা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা যখন আইনের শাসনের পরিপন্থী কোনো বক্তব্য দেন, তখন সেটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে। বিচারবহির্ভূত হত্যা কোনো সভ্য সমাজে পুলিশের আইনি কার্যক্রম হতে পারে না। আইনি কাঠামো অনুযায়ী, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিচার হওয়ার কথা আদালতে। পুলিশের দায়িত্ব হলো অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা, তাকে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা। কিন্তু ক্রসফায়ারের সাফাই গাওয়া বা এর যৌক্তিকতা নিয়ে কথা বলা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়মুক্তির সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এখন পুলিশ মহাপরিদর্শকের মতো দায়িত্বশীল পদে থাকা কেউ যখন এই বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্য প্রদান করেন, তখন তা অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কেবল মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনই নয়, এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।

টিআইবি-এর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, পুলিশ মহাপরিদর্শকের এমন বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকারান্তরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক শর্ত হলো রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যেকের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যদি নিজেরাই আইনের প্রয়োগকর্তা না হয়ে বিচারকের ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন, তবে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা অনিবার্য হয়ে ওঠে।

উভয় সংস্থার ভাষ্যমতে, পুলিশের কাজ হলো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও তদন্তের মাধ্যমে অপরাধের রহস্য উদঘাটন করা এবং আদালতে যথাযথ চার্জশিট দাখিল করা। এর পরিবর্তে ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত পথ অবলম্বন করা কোনো আইনি সমাধান নয়। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। টিআইবি ও অধিকার দ্রুত এই ধরনের বিতর্কিত বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য আসার পর বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং এই বিষয়ে পুলিশের অবস্থানের স্পষ্টীকরণ দরকার। বিচারবহির্ভূত হত্যা বা ক্রসফায়ার বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন টিআইবি ও অধিকারের দায়িত্বশীলরা। তাদের মতে, কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করার সুযোগ নেই এবং রাষ্ট্রের সকল বাহিনীকে আইনের শাসনের সীমানার ভেতরে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

চট্টগ্রামে খোয়া যাওয়া ১০৭টি মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
চট্টগ্রামে খোয়া যাওয়া ১০৭টি মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া ১০৭টি স্মার্টফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এসব মোবাইল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ প্রচেষ্টায় দীর্ঘসময় ধরে হারিয়ে যাওয়া ১০৭টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে এসব ডিভাইস খুঁজে পাওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মালিকদের হাতে সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মালিকদের হাতে এসব মোবাইল তুলে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল দীর্ঘ সময় ধরে এই মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধারে কাজ করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষ তাদের মূল্যবান মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেছিলেন। সেই জিডিগুলোর সূত্র ধরে গোয়েন্দা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধারের পর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকৃত মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোবাইলগুলো হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুলিশ সুপার মাসুদ মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া জেলা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। মানুষ যখন তাদের প্রিয় কোনো প্রযুক্তিপণ্য হারিয়ে ফেলেন, তখন তারা বেশ দুশ্চিন্তায় থাকেন। আমরা সেই দুশ্চিন্তা লাঘব করতে ডিবি পুলিশের বিশেষ প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েছি। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত অনেকে তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, হারিয়ে যাওয়া ফোনটি ফিরে পাওয়ার আশা একরকম ছেড়েই দিয়েছিলেন তারা। পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই আজ তাদের দীর্ঘদিনের শঙ্কা দূর হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি হচ্ছে বলেও তারা মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরে ফোন হারানোর পর ফিরে পাওয়া মালিকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যারা এখনো তাদের হারিয়ে যাওয়া মোবাইলের বিষয়ে আইনি সহায়তা নিতে চান, তাদের দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল উদ্ধারে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও জোরদার করা হবে এবং এমন অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়া ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে উত্তাল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে উত্তাল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা মাঠ ফেরতের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবির পাশাপাশি পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে গণজমায়েতের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) গবেষণা মাঠ উদ্ধারের দাবিতে চলমান আন্দোলন ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি—তাদের গবেষণার জন্য নির্ধারিত জমি বা মাঠ অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। এই দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন ধরেই নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আসছেন। শিক্ষাকার্যক্রমে এই অচলাবস্থা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা নতুন করে গণজমায়েতের ঘোষণা দিয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি না মেলায় তারা এই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি হাতে-কলমে গবেষণার জন্য একটি নির্দিষ্ট মাঠ থাকা অপরিহার্য। সেই মাঠ অন্য কোনো কাজে ব্যবহৃত হওয়া বা বেদখল থাকা তাদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। মাঠ ফেরতের দাবিতে তারা কয়েকদফা দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এরই প্রতিবাদস্বরূপ শিক্ষার্থীরা তাদের সব ধরনের ক্লাস এবং নির্ধারিত পরীক্ষা বয়কট করেছেন।

শিক্ষার্থীদের ঘোষিত নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডের সামনে এক বিশাল গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। এই জমায়েতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যাপকহারে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জমায়েত পরবর্তী সময়ে তারা মিছিল নিয়ে গবেষণা মাঠের সামনের সড়কে অবস্থান নেবেন এবং সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে চূড়ান্ত এবং কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের কর্মসূচি থেকে পিছু হটবেন না।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই কৃষি গবেষণার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল বা ভিন্নভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার মান বিঘ্নিত হচ্ছে। হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কমায় শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা অর্জনে ঘাটতি বোধ করছেন। এই সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। তারা বলছেন, প্রশাসন যদি বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়, তবে আন্দোলনের মাত্রা আরও কঠোর করা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী তাদের সেশনজট এবং সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও, গবেষণার অধিকার রক্ষার দাবিকে তারা বড় করে দেখছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়। বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে যদি আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান বের করা সম্ভব হয়, তবেই স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশে ফিরে আসা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এবং মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে যে, কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে এবং শিক্ষার্থীরা পুনরায় ক্লাসরুমে ফিরে যেতে পারবেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, তাদের দাবি ন্যায্য এবং এই লড়াই তাদের একাডেমিক ভবিষ্যতের জন্যই। মাঠ পুনরুদ্ধারের আগ পর্যন্ত তাদের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

সর্বশেষ
পুলিশ মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ চট্টগ্রামে খোয়া যাওয়া ১০৭টি মোবাইল উদ্ধার, মালিকদের ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে উত্তাল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ আজ পশুর নদীতে কয়লাবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনায় উদ্বেগ নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবার ও অভিনয়ের ধারা: কেন সবার পথ সমান হয়নি পশ্চিমবঙ্গে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত অভিযুক্ত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তকমা থেকে মুক্তি চান প্রাথমিক শিক্ষকরা কার্ড অপারেশনস অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে এমআরইউ’র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
Advertisement