তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তকমা থেকে মুক্তি চান প্রাথমিক শিক্ষকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৪ অপরাহ্ণ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও মর্যাদাগত সংকট নিরসনের দাবি আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময় শিক্ষকরা তাঁদের পেশাগত অবস্থান পরিবর্তনের দাবি জানালেও এবার নতুন করে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিচয় থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি গড়ে দেওয়ার মতো দায়িত্বশীল কাজ করার পরেও তাদের পরিচয় যদি নিচু মানের হয়, তবে তা শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ ও শিক্ষকের সম্মানজনক অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সম্প্রতি সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসি এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শিক্ষকরা এখন আর তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাঁর মতে, একজন শিক্ষক জাতি গড়ার কারিগর, অথচ সরকারি নথিপত্রে তাদের অবস্থান তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সমতূল্য রাখাটা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই পরিচয় থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুতি কেবল একজন শিক্ষকের নয়, বরং সামগ্রিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রতিফলন। শিক্ষকরা আশা করছেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষাখাতে যে সংস্কারের আলোচনা চলছে, সেখানে তাদের দীর্ঘদিনের এই দাবিটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

শিক্ষকদের মূল দাবির জায়গাটি মূলত বেতন স্কেল ও গ্রেড নির্ধারণকে কেন্দ্র করে। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরেই ১০ম গ্রেডের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, অন্যান্য দপ্তরের একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের পরিধি সম্পন্ন পদে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তারা উচ্চতর গ্রেড সুবিধা পেলেও প্রাথমিক শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ১০ম গ্রেড বাস্তবায়িত হলে তাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও বাড়বে বলে তারা মনে করছেন। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, বর্তমান সময়ের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পেশার গুরুদায়িত্বের কথা বিবেচনা করলে ১০ম গ্রেড প্রদান এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষক নেতারা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড হিসেবে আখ্যা দেওয়া হলেও শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। তারা মনে করেন, শিক্ষকের মর্যাদা এবং তাদের বেতন কাঠামো উন্নয়নের সাথে শিক্ষার গুণগত মানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যদি একজন শিক্ষক মানসিকভাবে সন্তুষ্ট না থাকেন এবং আর্থিক সংকটের পাশাপাশি সামাজিক পরিচিতি নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন, তবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত শিক্ষকদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বলছেন, শিক্ষকদের বেতন কাঠামো এবং পদমর্যাদা পরিবর্তনের বিষয়টি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী এটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বাজেট ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন প্রয়োজন। জান্নাতুল ফেরদৌসির মতো অনেক শিক্ষকই আশা করছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেবে এবং তাদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তকমা থেকে মুক্তি দিয়ে ১০ম গ্রেড প্রদানের দাবিটি আমলে নেবে।

প্রাথমিক শিক্ষকরা এখন অপেক্ষায় আছেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে। তারা মনে করছেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সরকারি চাকরিতে গ্রেড নির্ধারিত হওয়া উচিত, কেবল সনাতন কোনো প্রথার কারণে শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করা কাম্য নয়। শিক্ষকরা চান, তাদের কাজের স্বীকৃতি মিলুক এবং শিক্ষক হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে তারা পাঠদান চালিয়ে যেতে পারেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন