খুঁজুন
, ,

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে অপসারণের দাবি তুলল এনসিপি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে অপসারণের দাবি তুলল এনসিপি

সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া একটি বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুরান ঢাকার চকবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, প্রয়োজন হলে এবং সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ পরিচালনা করবে। আইজিপির এই বক্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এই মন্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতি নগ্ন সমর্থন ও প্ররোচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এনসিপি তাদের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার কথা জানিয়েছে। দলের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে আইজিপির মতো একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এনসিপি মনে করে, এই ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেআইনি বলপ্রয়োগের প্রবণতাকে উসকে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন সংকটের জন্ম দেবে।

বিবৃতিতে এনসিপি আরও উল্লেখ করেছে, কোনো অবস্থাতেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না এবং সরকারের অনুমতি থাকলেও তা আইনের শাসনের পরিপন্থী। ক্ষমতাসীন বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছিল, সেখানে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত আইজিপির এমন বক্তব্য সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক ও দ্বিচারিতামূলক। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে এমন অযোগ্য ও বিতর্কিত লোক নিয়োগ করা হয়েছে বলেই পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য আসছে বলে দলটির দাবি।

এনসিপির নেতারা অতীতে বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, বিগত সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে বর্তমান সময়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন উসকানিমূলক কথা বলা চরম ধৃষ্টতার শামিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর জুজু দেখানো এক ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে দলটি।

আইজিপির অপসারণের দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে এনসিপি বলেছে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, পুলিশ প্রশাসন বেআইনি কোনো নির্দেশ মানতে বাধ্য নয়। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা হওয়া উচিত জনগণের নিরাপত্তার সুরক্ষক হিসেবে। ক্রসফায়ারের মতো বিতর্কিত ও বেআইনি পথ অবলম্বন করার মানসিকতা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই অবিলম্বে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

উল্লেখ্য, আইজিপির এই বিতর্কিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে সমালোচনা চলছে। নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এনসিপির এই কঠোর অবস্থান ও অপসারণের দাবি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দুর্নীতির মামলায় বিসিএস ক্যাডার সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
দুর্নীতির মামলায় বিসিএস ক্যাডার সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতির অভিযোগের একটি মামলায় ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত দুই সরকারি কর্মকর্তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তরা হলেন ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত সঞ্জয় দাস এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আবু সালেহ মো. মুসা।

দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের চলমান মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের বিদেশ ভ্রমণে এই নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে অভিযুক্তদের দেশের বাইরে যাওয়া ঠেকাতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের এই আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ ইমিগ্রেশন ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই দুই ব্যক্তি যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আইনজীবীদের মতে, সাধারণত দুর্নীতির মামলায় যখন কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় এবং মামলার তদন্ত চলমান থাকে, তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য আদালতের মাধ্যমে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে থাকেন। এক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত মামলার গুরুত্ব ও তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করেই তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুদক এসব অভিযোগ তদন্ত করছে। মামলার তদন্ত পর্যায়ে অভিযুক্তদের দেশত্যাগ রোধ করতে পারলে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন করা সহজ হয়। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে দুদক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইমিগ্রেশন পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সীমান্তরক্ষী বাহিনী এই আদেশ কার্যকর করার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে দুদক ও আদালতের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এল। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, ক্ষোভে টিকটকারের মুখে চুন-কালি দিয়ে এলাকাছাড়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, ক্ষোভে টিকটকারের মুখে চুন-কালি দিয়ে এলাকাছাড়া

নওগাঁর মহাদেবপুরে শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। নিজের প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ওই ব্যক্তিকে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটকার হিসেবেও পরিচিত।

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার দিবাগত রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্যক্তি এলাকায় নানা ধরনের টিকটক ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করলেও ব্যক্তিগত জীবনে তার নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। তবে সম্প্রতি তিনি যখন নিজের প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করেন, তখন বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এই বিয়েকে সামাজিক ও পারিবারিক রীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন, যা তাদের মধ্যে తీవ్ర প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

সোমবার রাত ১০টার দিকে বিরামগ্রাম এলাকায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তির মুখোমুখি হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেন এবং বিয়ের বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর জনরোষের এক পর্যায়ে তার মুখে চুন ও কালি মাখিয়ে দেওয়া হয়। এমন অপমানজনক পরিস্থিতির পর তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কার সম্মতিতে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল, তা নিয়ে এলাকায় নানা মতভেদ রয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নৈতিকতার স্খলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে আইন ও সমাজের প্রথা ভাঙার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশাদার টিকটকার হওয়ার কারণে তার প্রতিটি পদক্ষেপ স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করতেন, যা অনেকের কাছে পরিচিত। তবে শ্যালিকাকে বিয়ের এই ঘটনাটি তার ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয়রা জানান, এই ঘটনার পরপরই তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বা অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

বর্তমানে মহাদেবপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে একজন ব্যক্তি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তার প্রথম স্ত্রী কীভাবে এই বিয়ে মেনে নিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতুহলের শেষ নেই। বিয়ে বা পারিবারিক এই ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনায় সাধারণত সামাজিকভাবে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়, এটি তারই একটি বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং আইনগত দিক খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয় সচেতন মহলে দাবি উঠছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর বাণিজ্যিক মানচিত্রে নিজের অবস্থান ধরে রাখা কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল। একসময়ের জমজমাট এই শপিং কমপ্লেক্সটি এখন কেবলই স্মৃতির পাতায় ঠাঁই পাওয়ার অপেক্ষায়। আধুনিক বিপণিবিতানের ভিড়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে চিরতরে দরজা বন্ধ করে দিল এই প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে কর্ণফুলী গ্রুপের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই শপিং কমপ্লেক্সের। শুরুর দিকে এটি ছিল নগরবাসীর কেনাকাটা এবং আড্ডার অন্যতম পছন্দের জায়গা। অভিজাত শপিং মল হিসেবে এর বেশ নামডাক ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন আধুনিক শপিং মল গড়ে ওঠায় এই কমপ্লেক্সটি ধীরে ধীরে জৌলুস হারাতে থাকে।

মার্কেটটি বন্ধের নেপথ্যে বেশ কিছু গুরুতর কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো ধারাবাহিক ব্যবসায়িক মন্দা এবং ক্রেতা সমাগমের তীব্র সংকট। গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ক্রেতা পাচ্ছিলেন না, যার ফলে দোকানের নিয়মিত খরচ চালানোই দায় হয়ে পড়েছিল। এর সাথে যুক্ত হয় বিপুল পরিমাণ বকেয়া ইউটিলিটি বিলের বোঝা। সব মিলিয়ে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি চরম প্রতিকূল হয়ে পড়লে মার্কেট কর্তৃপক্ষ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

গত ১ অক্টোবর থেকেই শপিং কমপ্লেক্সটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে মূল ফটকে তালা ঝুলছে এবং সেখানে একটি নোটিশ টাঙানো রয়েছে, যা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে এখন থেকে আর কেনাকাটার জন্য খোলা থাকবে না এই বিপণিবিতান। সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের পরিচিত এই মার্কেটটির সামনে এখন কেবলই শূন্যতা বিরাজ করছে। নিয়মিত যারা এখানে যাতায়াত করতেন, তারাও এখন বন্ধের বিষয়টি জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত দোকান মালিকদের বিশাল অংকের বকেয়া বিল পরিশোধের চাপ এবং নতুন ক্রেতা টানতে ব্যর্থ হওয়া— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই শেষ পর্যন্ত ব্যবসা গোটানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যদিও শপিং কমপ্লেক্সটি বন্ধের আগে অনেকবার চেষ্টা করা হয়েছিল সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই ঘটনাটি কেবল একটি মার্কেটের পতনের গল্প নয়, বরং এটি রাজধানীর পুরোনো দিনের অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার সংগ্রামের এক প্রতিচ্ছবি। বড় বড় শপিং মল এবং অনলাইন কেনাকাটার প্রসারের এই যুগে পুরোনো এই মার্কেটটি কেন টিকতে পারল না, তা নিয়ে ব্যবসায়িক মহলে নানা আলোচনা চলছে। তবে দিনশেষে বাস্তবতা হলো, একসময়ের এই জনপ্রিয় কেন্দ্রটি এখন বন্ধ হয়ে গেছে এবং নগরীর ব্যবসায়িক ইতিহাসে এটি একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গেল।

সর্বশেষ
দুর্নীতির মামলায় বিসিএস ক্যাডার সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, ক্ষোভে টিকটকারের মুখে চুন-কালি দিয়ে এলাকাছাড়া স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি টঙ্গীর মাদ্রাসায় ছাত্রকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ, উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দীপাবলির আবহে দিল্লির ব্যবসায়ীদের আবেদন, রাহুল গান্ধীর ‘৩০ সেকেন্ডের’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক নতুন ধারার জম্বি সিনেমা: বিনোদন জগতে ভয়ের নতুন মাত্রা হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের সম্ভাবনা বাড়াতে বিশেষ রোড শো কুষ্টিয়ায় সমাবেশস্থল নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে জামায়াতের টানাপোড়েন দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের চিঠির কড়া জবাব রাহুলের, দায়ী করলেন কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের আগে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ, ইনজুরিতে মুশফিক
Advertisement