পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানালেন নাহিদ ইসলাম
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি এটিকে মানবিক ও ধর্মীয় অধিকারের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সম্প্রতি পিরোজপুরে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফনের সময় বাধার সম্মুখীন হওয়ার ঘটনাটি ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এই অমানবিক ও দুঃখজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাষায় জানিয়েছেন, একজন মানুষের জানাজা সম্পন্ন করা এবং শেষ বিদায় বা দাফনের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা একান্তই ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অধিকার। কোনো অবস্থাতেই এই ন্যূনতম অধিকার খর্ব করা সমর্থনযোগ্য নয়।
সোমবার ২৬ অক্টোবর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে দেওয়া একটি পোস্টে নাহিদ ইসলাম এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মৃতদেহকে অসম্মান করা বা দাফন প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া চরম অমানবিকতার পরিচয়। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই এমন সব ঘটনা ঘটছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, একজন মানুষের জানাজার নামাজ পড়া বা তাকে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় সমাহিত করা তার মৌলিক মানবিক ও ধর্মীয় অধিকারের অংশ। এর ওপর হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার কারোর নেই।
পিরোজপুরের এই ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন তিনি। রাজনৈতিক বা সামাজিক বিভেদ যেন মৃত ব্যক্তির শেষ যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বিশ্বাস করেন, ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য। বিশেষ করে দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা জাতি হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অথচ, সেই দায়িত্ববোধের জায়গায় ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী অপশক্তির দাপটে সমাজে যে বিশৃঙ্খলা ও নীতিহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। তিনি মূলত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফলে সৃষ্ট সামাজিক অসহিষ্ণুতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ক্ষমতার দাপট হোক বা দলীয় কোন্দল, কোনোকিছুই একজন মৃত মানুষের শেষকৃত্যে বাধা দেওয়ার যুক্তি হতে পারে না। এই ঘটনাটি দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। নাগরিক সমাজ মনে করছে, এমন অমানবিক কর্মকাণ্ড আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল।
পিরোজপুরের এই বিশেষ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির পাশাপাশি নাহিদ ইসলাম দেশের মানুষকে অসহিষ্ণুতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল সজাগ দৃষ্টি রাখবে। সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা একটি সভ্য সমাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাই মৃত ব্যক্তির মর্যাদাহানি যেন আর কখনো না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিশেষে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান রক্ষায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিককে মানবিক অধিকারের প্রতি আরও যত্নশীল ও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। ধর্মের নামে হোক বা রাজনীতির দোহাই দিয়ে—কোনো অজুহাতেই যেন মানবিকতার অবমাননা না হয়, সেই সতর্কবাণীই উচ্চারিত হয়েছে তার কণ্ঠে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]