আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে অপসারণের দাবি তুলল এনসিপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া একটি বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুরান ঢাকার চকবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, প্রয়োজন হলে এবং সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ পরিচালনা করবে। আইজিপির এই বক্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এই মন্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতি নগ্ন সমর্থন ও প্ররোচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এনসিপি তাদের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার কথা জানিয়েছে। দলের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে আইজিপির মতো একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এনসিপি মনে করে, এই ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেআইনি বলপ্রয়োগের প্রবণতাকে উসকে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন সংকটের জন্ম দেবে।

বিবৃতিতে এনসিপি আরও উল্লেখ করেছে, কোনো অবস্থাতেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না এবং সরকারের অনুমতি থাকলেও তা আইনের শাসনের পরিপন্থী। ক্ষমতাসীন বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছিল, সেখানে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত আইজিপির এমন বক্তব্য সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক ও দ্বিচারিতামূলক। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে এমন অযোগ্য ও বিতর্কিত লোক নিয়োগ করা হয়েছে বলেই পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য আসছে বলে দলটির দাবি।

এনসিপির নেতারা অতীতে বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, বিগত সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে বর্তমান সময়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন উসকানিমূলক কথা বলা চরম ধৃষ্টতার শামিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর জুজু দেখানো এক ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে দলটি।

আইজিপির অপসারণের দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে এনসিপি বলেছে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, পুলিশ প্রশাসন বেআইনি কোনো নির্দেশ মানতে বাধ্য নয়। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা হওয়া উচিত জনগণের নিরাপত্তার সুরক্ষক হিসেবে। ক্রসফায়ারের মতো বিতর্কিত ও বেআইনি পথ অবলম্বন করার মানসিকতা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই অবিলম্বে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

উল্লেখ্য, আইজিপির এই বিতর্কিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে সমালোচনা চলছে। নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এনসিপির এই কঠোর অবস্থান ও অপসারণের দাবি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন