খুঁজুন
, ,

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে অপসারণের দাবি তুলল এনসিপি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে অপসারণের দাবি তুলল এনসিপি

সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া একটি বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুরান ঢাকার চকবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, প্রয়োজন হলে এবং সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ পরিচালনা করবে। আইজিপির এই বক্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এই মন্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতি নগ্ন সমর্থন ও প্ররোচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এনসিপি তাদের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার কথা জানিয়েছে। দলের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে আইজিপির মতো একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এনসিপি মনে করে, এই ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেআইনি বলপ্রয়োগের প্রবণতাকে উসকে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন সংকটের জন্ম দেবে।

বিবৃতিতে এনসিপি আরও উল্লেখ করেছে, কোনো অবস্থাতেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না এবং সরকারের অনুমতি থাকলেও তা আইনের শাসনের পরিপন্থী। ক্ষমতাসীন বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছিল, সেখানে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত আইজিপির এমন বক্তব্য সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক ও দ্বিচারিতামূলক। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে এমন অযোগ্য ও বিতর্কিত লোক নিয়োগ করা হয়েছে বলেই পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য আসছে বলে দলটির দাবি।

এনসিপির নেতারা অতীতে বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে, বিগত সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে বর্তমান সময়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন উসকানিমূলক কথা বলা চরম ধৃষ্টতার শামিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর জুজু দেখানো এক ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে দলটি।

আইজিপির অপসারণের দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে এনসিপি বলেছে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, পুলিশ প্রশাসন বেআইনি কোনো নির্দেশ মানতে বাধ্য নয়। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা হওয়া উচিত জনগণের নিরাপত্তার সুরক্ষক হিসেবে। ক্রসফায়ারের মতো বিতর্কিত ও বেআইনি পথ অবলম্বন করার মানসিকতা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই অবিলম্বে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

উল্লেখ্য, আইজিপির এই বিতর্কিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে সমালোচনা চলছে। নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এনসিপির এই কঠোর অবস্থান ও অপসারণের দাবি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

টঙ্গীর মাদ্রাসায় ছাত্রকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ, উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
টঙ্গীর মাদ্রাসায় ছাত্রকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ, উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় অবস্থিত কারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এক অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে চুমু দেওয়া ও তার সঙ্গে অস্বস্তিকর আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মাদ্রাসার ওই শিক্ষক শিশুটিকে চুমু দিয়েছিলেন, যা শিশুটির কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। কোমলমতি শিশুটি বিষয়টি বাড়িতে ফিরে তার বাবা-মাকে খুলে বলে। এতে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ওই শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডকে কেবল অবহেলা বা স্নেহ হিসেবে মেনে নিতে পারেননি, বরং একে শিশুর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর আচরণ হিসেবে দেখছেন।

শিশুটির বাবা ন্যায়বিচারের আশায় মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। অভিযোগ রয়েছে, যখন তিনি ঘটনার বিষয়ে জানতে চেয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবি করেন, তখন বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শিশুর বাবা উত্তেজিত হয়ে ওই শিক্ষককে চড় মেরে বসেন। এই ঘটনা মাদ্রাসার অভ্যন্তরে ও আশেপাশের এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক অভিভাবক প্রশ্ন তুলছেন, একজন শিক্ষক কীভাবে শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে কেবল ওই মাদ্রাসার পরিবেশই নয়, বরং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা নৈতিকতার চরম অবক্ষয় নির্দেশ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবসময় নিরাপদ ও নির্ভরতার জায়গা হওয়ার কথা। কিন্তু যখন কোনো শিক্ষক তার মর্যাদার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন, তখন সেটি ওই শিশুর মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ধরণের ঘটনাকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দোষ হিসেবে না দেখে এর পেছনে থাকা মানসিকতা এবং মাদ্রাসার পরিবেশের ওপর নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন।

বর্তমানে ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে এবং অনলাইন মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। যদিও ঘটনাটির আইনি সুরাহা বা মাদ্রাসা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। শিশুটির পরিবার বিচারের দাবিতে অনড় থাকলেও, পাল্টা চড় মারার ঘটনাটি নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনা শিশু নিরাপত্তা এবং শিক্ষকের আচরণের নৈতিক সীমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দীপাবলির আবহে দিল্লির ব্যবসায়ীদের আবেদন, রাহুল গান্ধীর ‘৩০ সেকেন্ডের’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
দীপাবলির আবহে দিল্লির ব্যবসায়ীদের আবেদন, রাহুল গান্ধীর ‘৩০ সেকেন্ডের’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দীপাবলির প্রাক্কালে উৎসবের আনন্দ ছাপিয়ে এখন উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতির ময়দানে। একদিকে উৎসবের মৌসুমে কেনাকাটার ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের ডাকা একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশেষ করে ১ নভেম্বর দিল্লিতে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ সমাবেশকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, উৎসবের এই চূড়ান্ত মুহূর্তে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে এবং ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা সিটিআই এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখেছে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল স্পষ্ট জানিয়েছেন, দীপাবলির এই মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা থাকে, আর এমন সময়ে রাস্তায় বড় ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভ হলে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। তাদের মূল দাবি ছিল, উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে এই কর্মসূচি যেন পিছিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের এই অনুরোধ খুব একটা ধোপে টেকেনি। রাহুল গান্ধী এর আগে তাদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন, যা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে বেশ হতাশা তৈরি হয়েছে।

রাহুল গান্ধীর সেই নাকচ করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার পরেই তিনি একটি বিশেষ মন্তব্য করেছিলেন যা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি বলেছিলেন, ‘৩০ সেকেন্ডেই বিক্ষোভ থেমে যাবে’। এই মন্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে নানাবিধ জল্পনার জন্ম দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই বক্তব্যের ধোঁয়াশা কাটানোর চেষ্টা করছেন এবং রাহুল গান্ধীর কাছে নতুন করে চিঠি লিখে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। সিআইটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে কেন উৎসবের এই দিনগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুরক্ষা বেশি জরুরি।

দিল্লির বাজারগুলোতে এই সময়টা বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা সপ্তাহ হিসেবে গণ্য হয়। ধনেরা থেকে শুরু করে দীপাবলি পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকে বাজারগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে কোনো রকম রাজনৈতিক কর্মসূচি বা রাস্তা অবরোধ হলে গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা। তাদের মতে, রাস্তায় যানজট তৈরি হলে ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়বে। ব্যবসায়ীরা চাইছেন, রাহুল গান্ধী যেন তাদের এই উদ্বেগের কথাটি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচির দিনক্ষণ পরিবর্তনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন।

তবে রাজনীতির অন্দরমহলে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যটি অন্য ইঙ্গিতবাহী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ‘৩০ সেকেন্ডে বিক্ষোভ থেমে যাওয়া’-র কথার মাধ্যমে তিনি কি প্রশাসনের অসহযোগিতার কথা বোঝাতে চেয়েছেন, নাকি আন্দোলনের তীব্রতা ও তাৎক্ষণিকতার বিষয়টি সামনে এনেছেন, তা নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। ব্যবসায়ীরা অবশ্য রাজনীতির জটিল সমীকরণের চেয়ে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির দিকটি নিয়েই বেশি চিন্তিত। একদিকে উৎসবের মরশুম, অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা—এই দুইয়ের চাপে দিল্লির ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এখন উভয় সংকটে পড়েছে।

রাহুল গান্ধী এবং বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভের পেছনের কারণ ও যৌক্তিকতা বারবার তুলে ধরা হলেও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আসা এই জোরালো আবেদন তাদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্ব এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরবচ্ছিন্ন বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশা, শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনজীবনের কথা মাথায় রেখেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে উৎসবের আনন্দ রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে ম্লান না হয়ে যায়। এখন সবার নজর এখন বিরোধী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যেখানে তারা ব্যবসায়ীদের এই নতুন চিঠির কোনো উত্তর দেন কি না বা কর্মসূচির বিষয়ে নমনীয়তা দেখান কি না তা স্পষ্ট হবে।

নতুন ধারার জম্বি সিনেমা: বিনোদন জগতে ভয়ের নতুন মাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
নতুন ধারার জম্বি সিনেমা: বিনোদন জগতে ভয়ের নতুন মাত্রা

বিশ্বজুড়ে জম্বি ঘরানার সিনেমা বা কন্টেন্ট সব সময়ই দর্শকদের জন্য বাড়তি উত্তেজনার রসদ জোগায়। বিশেষ করে ‘ট্রেন টু বুসান’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলো জম্বি বলতে যে দ্রুতগতির ও রক্তাক্ত সংঘাতের ছবি তৈরি করেছিল, তা আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অম্লান। তবে সময়ের সাথে সাথে এই ধারার গল্পে এসেছে নানা পরিবর্তন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া নতুন এক জম্বি ঘরানার সিনেমা আবারও আলোচনায় চলে এসেছে। এবারের জম্বিদের চরিত্রায়ন কিছুটা ভিন্নধর্মী। তারা কেবল ক্ষুধার্ত প্রাণী নয়, বরং তাদের মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত বুদ্ধিমত্তা। এই জম্বিরা একা নয়, বরং দলবদ্ধভাবে আক্রমণ ও পরিকল্পনা করতে সক্ষম, যা গল্পের মোড়কে দিয়েছে ভয়ংকর এক বাস্তবসম্মত রূপ।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা বলছেন, জম্বি ঘরানার সিনেমায় সাধারণত আমরা যে ধীরগতির বা অসংগঠিত ভয়ের চিত্র দেখে অভ্যস্ত, এবার তার ব্যতিক্রম ঘটছে। নতুন এই সিনেমায় জম্বিদের দেখানো হয়েছে অত্যন্ত চতুর হিসেবে। তারা কেবল কামড়ানোর জন্য ছোটে না, বরং মানুষের কৌশল বুঝে পাল্টা কৌশল সাজাতে পারে। এমনটা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। এই বিশেষত্বের কারণে সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যেই এক গভীর টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দর্শকদের মতে, মানুষের বাঁচার লড়াই এখন আর কেবল শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল নেই, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে।

তবে সিনেমার নেপথ্যেও নানা আলোচনার জন্ম নিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই সিনেমার শুটিংয়ে বেশ কিছু অঘটন ঘটেছে। বিশেষ করে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে কুশীলবরা বেশ কয়েকবার বিপত্তির মুখে পড়েছেন। যদিও সিনেমার মূল গল্পের মূল আকর্ষণ এই জম্বি চরিত্রগুলো, তবুও শুটিংয়ের সময়কার এই ঘটনাগুলো নিয়ে পর্দার পেছনের কলাকুশলীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করেছে। এর আগে অনেক হরর সিনেমাতেই এ ধরনের ঘটনার কথা শোনা গেছে, যা মূলত শুটিং সেটের জটিলতা ও পরিচালনার চাপকেই নির্দেশ করে।

সিনেমার গল্পটি মূলত টিকে থাকার লড়াইকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। যখন জম্বিরা সম্মিলিতভাবে মানুষকে আক্রমণ করে, তখন মানবজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা কীভাবে কমে আসে—সেটিই পর্দায় দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পরিচালকের মুন্সিয়ানা এখানে সুস্পষ্ট। রক্তপাতের দৃশ্যের পাশাপাশি মানুষের আবেগ, ভয় ও আত্মত্যাগের গল্পগুলোও সমান গুরুত্ব পেয়েছে। দ্রুতগতির দৃশ্যধারণের কারণে সিনেমাটি কোথাও ঝিমিয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি, যা দর্শকদের সিটের কিনারে আটকে রাখতে সাহায্য করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জম্বি সিনেমা মানেই এখন আর স্রেফ গায়ের জোরে লড়াই নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং স্ক্রিপ্টের ভিন্নতায় জম্বি চরিত্রগুলোর এই বিবর্তন বিশ্ব চলচ্চিত্রের বাজারে নতুন একটি ট্রেন্ড চালু করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এই জম্বিরা দর্শকদের কতটা আতঙ্কিত করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ কীভাবে এই নতুন সংকটের মোকাবিলা করে। যারা রোমাঞ্চকর সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই কাজটি নিশ্চিতভাবেই নতুন এক অভিজ্ঞতার খোরাক জোগাবে।

সর্বশেষ
টঙ্গীর মাদ্রাসায় ছাত্রকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ, উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দীপাবলির আবহে দিল্লির ব্যবসায়ীদের আবেদন, রাহুল গান্ধীর ‘৩০ সেকেন্ডের’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক নতুন ধারার জম্বি সিনেমা: বিনোদন জগতে ভয়ের নতুন মাত্রা হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের সম্ভাবনা বাড়াতে বিশেষ রোড শো কুষ্টিয়ায় সমাবেশস্থল নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে জামায়াতের টানাপোড়েন দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের চিঠির কড়া জবাব রাহুলের, দায়ী করলেন কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের আগে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ, ইনজুরিতে মুশফিক রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় তীব্র যানজটে নাকাল নগরবাসী পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায় ও দাফন নিয়ে জটিলতা সব যোগ্যতা থাকার পরও শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতিতে এত জটিলতা কেন
Advertisement