খুঁজুন
, ,

রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে ৬৬২ জন আটক: মিরপুরে তৎপরতা বেশি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে ৬৬২ জন আটক: মিরপুরে তৎপরতা বেশি

ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর এলাকায় আটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও মামলার আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি বিতর্কিত ‘বিয়ার আলম’ নামের এক ব্যক্তিসহ অনেককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

রাজধানী ঢাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ৬৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মাদকের আলামত ও অবৈধ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ রয়েছে, তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযানের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার তুলনায় মিরপুর অঞ্চলে গ্রেফতারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মিরপুরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাদক ও অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ এই বিশেষ তৎপরতা চালায়। এই এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদক কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ‘বিয়ার আলম’ নামে পরিচিত একজন ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তাকে আটকের বিষয়টি অভিযানে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী কী অভিযোগ রয়েছে এবং এর আগে তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

রাজধানীর অপরাধ দমনে পুলিশের এই বিশেষ অভিযানের উদ্দেশ্য হলো মাদক ও অপরাধের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নিজেদের এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করে। চলমান এই অভিযানের ফলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। অভিযান চলাকালীন অনেক স্থানে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে যা মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের এই নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশের এই অভিযানে গ্রেফতারকৃত ৬৬২ জনের মধ্যে মাদককারবারি, মাদকসেবী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা ছাড়াও সন্দেহভাজন আরও অনেকে রয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই জোরালো পদক্ষেপে নগরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তবে বেশিরভাগ মানুষই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ইতিবাচক ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

কসবায় শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মীমাংসার চেষ্টা, স্থানীয় বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
কসবায় শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মীমাংসার চেষ্টা, স্থানীয় বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দশ বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক করে অভিযুক্তকে ক্ষমা করিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দশ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার পর বিচার পাওয়ার বদলে উল্টো ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে কয়েক দফা বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে কসবায় ওই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় ও প্রভাবশালীদের চাপের মুখে প্রথমদিকে অসহায় পরিবারটি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন প্রভাবশালীরা। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা এই মীমাংসা প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নেতার উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চেয়ে পার পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে পরিবারটি সেই চাপে নতি স্বীকার না করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যানুসারে, ঘটনার সত্যতা নিয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি গা ঢাকা দিয়েছিল, তবে পুলিশ তাকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সবসময়ই এমন ন্যক্কারজনক অপরাধের পরও সালিশি বৈঠকের নামে অপরাধীদের বাঁচানোর অপচেষ্টা করে থাকে, যা আইনের শাসনের পথে বড় বাধা।

ধর্ষণ একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং এ ধরণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বা মীমাংসার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন ও মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের রক্ষা করার এই সংস্কৃতি সমাজে অপরাধ প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ভুক্তভোগী পরিবার যেন কোনো প্রকার হুমকি বা চাপের মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় রাজনীতি এবং সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ থাকলেও, এমন অপরাধের ঘটনায় প্রভাবশালী নেতাদের হস্তক্ষেপ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সামনেও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলা যেহেতু হয়েছে, তাই নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রভাবই অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সাথে জড়িত ও এর পেছনে মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বড় না হয়ে অপরাধটিই যেন মূল বিবেচ্য হয়, সেই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। আইন অনুযায়ী এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম: মালয়েশিয়ায় মাওলানা মামুনুল হক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম: মালয়েশিয়ায় মাওলানা মামুনুল হক

মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ঐতিহাসিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি প্রবাসীদের দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন এবং জাতীয় সংকটকালে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনে প্রবাসীরা যেভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তা দেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরকালে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন। তিনি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।

মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীরা কেবল দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডই নন, বরং দেশের যেকোনো সংকটে তারা বরাবরই সচেতন ও সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার সেই অভূতপূর্ব আন্দোলনে প্রবাসীদের নৈতিক সমর্থন এবং সরব উপস্থিতি দেশের ভেতরে ও বাইরে এক অভিন্ন চেতনা তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, প্রবাসীরা সুদূর প্রবাসে থেকেও দেশের প্রতিটি মুহূর্তের খবরাখবর রেখেছেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তাদের সাধ্যমতো অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন। দেশের ক্রান্তিলগ্নে প্রবাসীদের এই আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের মানসিকতাকে তিনি সাধুবাদ জানান।

সফরকালে মাওলানা মামুনুল হক মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও কষ্টের কথা শোনেন এবং দেশের উন্নয়নে তাদের আরও বড় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে যে বড় ভূমিকা পালন করছে, তা তার বক্তব্যে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখন নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করছিল, তখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন, যা একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনে প্রেরণা জুগিয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসীরাও তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কর্মক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। মাওলানা মামুনুল হক তাদের আশ্বস্ত করেন যে, নতুন বাংলাদেশে প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের কষ্টার্জিত অর্থ কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নেই নয়, বরং দেশের কল্যাণে ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও শক্তি জোগায়। দেশের সংকটময় মুহূর্তে প্রবাসীদের এই সক্রিয়তা প্রমাণ করেছে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও প্রবাসীরা দেশের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ।

এই সফর ও মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাইরেও প্রবাসীদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে থেকে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধারণ করে চলা অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসীরা যেন সব সময় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সচেষ্ট থাকেন, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি। পরিশেষে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি সবার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করেন। এই সংহতি ও ঐক্যই দেশের ভবিষ্যতের জন্য কল্যাণকর হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

ঘরের মাঠে জয়ের ধারায় লিভারপুল: ব্রাইটনের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
ঘরের মাঠে জয়ের ধারায় লিভারপুল: ব্রাইটনের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত জয়

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেল লিভারপুল। ব্রাইটনের বিপক্ষে আধিপত্য বজায় রেখে তুলে নিয়েছে ২-০ গোলের জয়।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে অ্যানফিল্ডে যেন জয়ের দেখা পাচ্ছিল না লিভারপুল। ঘরের মাঠের দর্শক সমর্থকদের সামনে নিজেদের মেলে ধরতে বারংবার ব্যর্থ হচ্ছিল অলরেডরা। তবে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির জয় তুলে নিয়েছে দলটি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ব্রাইটনের বিপক্ষে দাপুটে ফুটবল খেলে চলতি মৌসুমে নিজেদের আঙিনায় প্রথম জয় নিশ্চিত করেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা। এই জয়ে লিগ টেবিলের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল ক্লাবটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই লিভারপুল এদিন ছিল আক্রমণাত্মক। দর্শকদের চিৎকারে মুখরিত অ্যানফিল্ডে খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষাতেও ছিল জয়ের জেদ। রক্ষণভাগ সামলে আক্রমণে যাওয়ার কৌশল নেয় ব্রাইটন, কিন্তু লিভারপুলের গতিময় ফুটবলের সামনে তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে লিভারপুল একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে সফরকারীদের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে। প্রথমার্ধের খেলা যতই গড়িয়েছে, আক্রমণের ধার ততই বাড়িয়েছে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে লিভারপুল তাদের প্রথম গোলটি পায়। দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের নিখুঁত সমন্বয় এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ব্রাইটনের রক্ষণ দেয়াল ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গোল করার পর থেকেই লিভারপুলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ আরও জোরালো হয়। ব্রাইটন পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও লিভারপুলের জমাট রক্ষণভাগের কারণে কোনো বড় ধরনের বিপদ ঘটাতে পারেনি। গোলরক্ষকের তৎপরতা এবং ডিফেন্ডারদের সচেতনতায় প্রথমার্ধে লিভারপুল নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারায় খেলা চালিয়ে যায় স্বাগতিকরা। রক্ষণাত্মক না হয়ে বরং ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামেন লিভারপুলের খেলোয়াড়রা। ব্রাইটনও সমতায় ফিরতে মরিয়া ছিল, তবে তাদের শেষভাগের আক্রমণগুলো ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। ম্যাচের শেষদিকে লিভারপুল তাদের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেয়। এই গোলটি ম্যাচের ফলাফল প্রায় নিশ্চিত করে দেয়। ২-০ গোলের এই লিড ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন ছাড়াই মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। এই জয়ে একদিকে যেমন ঘরের মাঠে জয়খরা কাটল, অন্যদিকে লিগ টেবিলের পয়েন্ট তালিকায় দলের পয়েন্টের যোগানও বাড়ল।

ম্যাচশেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ঘরের মাঠে এই জয় আগামী ম্যাচগুলোতে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগের লম্বা এই মৌসুমে প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই জয় শুধু ৩ পয়েন্ট অর্জনের চেয়েও বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ব্রাইটনের জন্য এই হার একটি শিক্ষা হয়ে রইল। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মাঠে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে ভবিষ্যতে ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সফরকারী শিবির। লিভারপুল এখন তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে মনোনিবেশ করছে, যেখানে তারা জয়ের এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাইবে।

সর্বশেষ
কসবায় শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মীমাংসার চেষ্টা, স্থানীয় বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম: মালয়েশিয়ায় মাওলানা মামুনুল হক ঘরের মাঠে জয়ের ধারায় লিভারপুল: ব্রাইটনের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত জয় স্বাধীনতার পর জাসদের লোকেরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গলা কেটে হত্যা করত, জামায়াতের আমির-সেক্রেটারিও জাসদ থেকে এসেছেন—মোয়াজ্জেম আলাল হোসেন ক্যাঙ্গারু কোর্ট নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: দুই আইনজীবীর মামলার শুনানি আজ রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে ৬৬২ জন আটক: মিরপুরে তৎপরতা বেশি আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদনের শেষ তারিখ ৫ নভেম্বর মায়ের সঙ্গে মুখের মিল নিয়ে আলোচনায় স্বস্তিকা গুলশানের কিং ফিশার রেস্টুরেন্টে অভিযান, বৈধ কাগজপত্রহীন অ্যালকোহল জব্দ
Advertisement