খুঁজুন
, ,

পৌর এলাকার পানির সংকট নিরসনে শোধনাগার চালুর দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
পৌর এলাকার পানির সংকট নিরসনে শোধনাগার চালুর দাবি

পৌর এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের জন্য সুপেয় পানির প্রাপ্যতা বর্তমানে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নির্মিত পানি শোধনাগারগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পৌর কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত পানির ওপর নির্ভরশীল নাগরিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পৌর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব হিসাব থেকেই পানি সরবরাহের নাজুক চিত্রটি ফুটে উঠেছে। শহর এলাকায় বর্তমানে প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটারের কাছাকাছি। অথচ কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান সক্ষমতায় সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ লিটার পানি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি প্রায় ৭০ লাখ লিটার। পানির এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সাধারণ মানুষকে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্যই ব্যয়বহুল এবং অস্বাস্থ্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৌর এলাকায় অবকাঠামো থাকলেও দক্ষ জনবলের অভাবে পানি শোধনাগারগুলো অকার্যকর পড়ে থাকাটা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। জনবল সংকটের কারণে প্রকল্পগুলো সময়মতো আলোর মুখ দেখছে না। যদি যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনবল নিশ্চিত করা যায়, তবে শোধনাগারগুলো পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে। এটি করা গেলে একদিকে যেমন দৈনিক পানির সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, সরবরাহকৃত পানির পরিমাণ কম হওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পানির মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাইপলাইনে ত্রুটি এবং শোধনাগারের সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শোধনাগার চালুর জন্য জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এটি কেবল একটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন নয়, বরং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নগর পরিকল্পনায় পানি ব্যবস্থাপনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছে না। নতুন কোনো উৎস তৈরির চেয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোকে সচল করাই এখন সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। পানি শোধনাগারগুলো আধুনিকায়ন এবং দক্ষ কারিগরি জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ প্রশস্ত করা সম্ভব। পৌর কর্তৃপক্ষ যদি এখনই এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ না করে, তবে আগামী দিনগুলোতে পানির সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখা প্রয়োজন যাতে দাপ্তরিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং নাগরিকরা নিরবচ্ছিন্ন পানি সেবা পেতে পারেন।

সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি হুথিদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি হুথিদের

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার ইয়েমেনের রাজধানী সানাভিত্তিক এই গোষ্ঠীটি দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট অপরিশোধিত তেল পাম্পিং স্টেশন এবং রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, সৌদি আরবের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে এই অভিযান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এই হামলার দাবির সত্যতা নিয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি বা তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সৌদি আরব এবং হুথিদের মধ্যকার এই সংঘাত দীর্ঘদিনের। হুথিরা দাবি করেছে, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযানের জবাবেই তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগেও হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলার ধরণ ও সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সবসময়ই উদ্বেগ কাজ করে। বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল উত্তোলনের সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহের ওপর আঘাত হানার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর প্রভাব ফেলার মতো একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে, এই হামলার দাবির ঠিক আগেই ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের তরফ থেকে সামরিক পদক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে। জোট বাহিনী জানিয়েছে যে, তারা সানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। মূলত হুথিদের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং তাদের আগ্রাসন প্রতিহত করাই এই অভিযানের লক্ষ্য বলে জোটের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন। একদিকে হুথিদের পাল্টা হামলার হুমকি, অন্যদিকে সৌদি জোটের বিমান হামলা, সব মিলিয়ে ইয়েমেন ও সৌদি সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা থাকলেও হুথিদের ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলা করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় তেল শোধনাগার বা পাম্পিং স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সরাসরি বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা প্রকৃতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।

হুথিরা এই হামলার দায় স্বীকার করলেও রিয়াদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধোঁয়াশা কাটেনি। সাধারণত এ ধরণের ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা যাচাইয়ের পর বিবৃতি দিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সৌদি আরবের জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানপন্থি এই গোষ্ঠীটি বিভিন্ন সময়ে রিয়াদসহ সৌদি আরবের প্রধান শহরগুলোতে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। তবে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সীমান্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জনজীবন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দিল্লি-চণ্ডীগড় যাতায়াত সহজ করতে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে: সাশ্রয় হবে মূল্যবান সময়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
দিল্লি-চণ্ডীগড় যাতায়াত সহজ করতে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে: সাশ্রয় হবে মূল্যবান সময়

ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে চণ্ডীগড় পর্যন্ত সড়কপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। যানজট এড়াতে এবং দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কমাতে নতুন এক এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে রাজধানী দিল্লি থেকে চণ্ডীগড়গামী যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত কমে আসবে। সড়ক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল সাধারণ যাত্রীদের জন্যই স্বস্তিদায়ক হবে না, বরং উত্তর ভারতের পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ করতে চাওয়া পর্যটকদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তুলবে।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে অম্বালা-চণ্ডীগড় গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশেষ করে অম্বালা থেকে মোহালি পর্যন্ত অংশটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন সড়কপথটি নির্মাণের ফলে দীর্ঘদিনের যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। মূলত দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার সময় যে ধরনের যানজট বা সিগন্যাল জনিত বিড়ম্বনায় পড়তে হতো, নতুন এই এক্সপ্রেসওয়েতে সেগুলোর প্রভাব থাকবে না বললেই চলে। ফলে পণ্যবাহী পরিবহন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত যানবাহনগুলো খুব সহজে এবং কম সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবেই এই এক্সপ্রেসওয়েকে দেখা হচ্ছে। এর ফলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলোর আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি পাবে। নিয়মিত কর্মজীবী মানুষ যারা প্রতিদিন দিল্লি-চণ্ডীগড় রুটে যাতায়াত করেন, তাদের দৈনন্দিন জীবনের ওপর এই সময় সাশ্রয় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল যেমন হিমাচল প্রদেশ বা চণ্ডীগড় হয়ে যারা পর্যটনে বের হন, তাদের যাত্রাপথ এখন অনেক বেশি মসৃণ হবে।

প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়গুলো মাথায় রেখে গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে। আধুনিক সড়ক নির্মাণের সব নিয়ম মেনে এই এক্সপ্রেসওয়ে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ বাড়লেও তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। যাত্রী নিরাপত্তা এবং দ্রুতগতির কথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন স্থানে সংযোগ সড়কগুলো পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এক্সপ্রেসওয়েটির শেষ পর্যায়ের কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য কাজ করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শীঘ্রই এটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এক্সপ্রেসওয়েটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকে দিল্লি এবং চণ্ডীগড়ের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। সড়ক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এটি ভারতের উত্তর অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি সঞ্চার করবে। এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিয়মিত ভ্রমণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এল ক্লাসিকো পরবর্তী চুলচেরা বিশ্লেষণ: কার পারফরম্যান্স কেমন, কী বললেন কোচ ও খেলোয়াড়রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
এল ক্লাসিকো পরবর্তী চুলচেরা বিশ্লেষণ: কার পারফরম্যান্স কেমন, কী বললেন কোচ ও খেলোয়াড়রা

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথ এল ক্লাসিকো মানেই উত্তেজনা আর টানটান মুহূর্তের প্রতিশ্রুতি। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যকার সাম্প্রতিক এই লড়াইয়ে মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের শেষ নেই। খেলার ফলাফল ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং রেটিং। প্রতিটি খেলোয়াড় তাদের সামর্থ্যের কতটা মেলে ধরতে পেরেছেন, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের চুলচেরা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি চিত্র পাওয়া গেছে। এমবাপ্পের মতো তারকা খেলোয়াড়রা যেখানে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছেন বলে মনে করা হচ্ছে, সেখানে রাফিনিয়ার মতো খেলোয়াড়রাও তাদের লড়াই চালিয়ে গেছেন। বিশ্লেষকদের দেওয়া রেটিং অনুযায়ী, পারফরম্যান্সের মানদণ্ডে কেউ কেউ পূর্ণ নম্বর পাওয়ার কাছাকাছি থাকলেও, অনেকের ক্ষেত্রেই ছিল বেশ কিছু ঘাটতি। তবে ফুটবল কেবল সংখ্যার খেলা নয়, মাঠের কৌশল এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ওপরই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বার্সেলোনা শিবিরে হতাশার সুর স্পষ্ট। হারের পর দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পেদ্রি নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ম্যাচটি ছিল মূলত নিজেদের বোকামির মাশুল দেওয়ার মতো। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে না পারা এবং মাঠের ভুল সিদ্ধান্তগুলোই শেষ পর্যন্ত হারের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার এই স্বীকারোক্তি দলের ভেতরকার অস্থিরতা এবং চাপের বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। এল ক্লাসিকোর মতো বড় মঞ্চে সামান্য ভুলও যে বড় ধরনের খেসারত দিতে বাধ্য করে, তা পেদ্রির বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

বার্সেলোনার কোচ ফ্লিকের চোখেমুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ। দীর্ঘ মৌসুমের ধকল এবং এল ক্লাসিকোর মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের মানসিক চাপ যে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে, তা কোচের অভিব্যক্তিতেই বোঝা যাচ্ছিল। দলের কৌশলী পরিবর্তন এবং মাঠের খেলার ধরনে ফ্লিক যে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি সফল হয়নি। দলের রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই যেন কোথাও না কোথাও সমন্বয়ের অভাব ছিল। কোচ ফ্লিক মনে করছেন, মাঠের খেলায় যে ক্লান্তি তাদের পারফরম্যান্সকে ম্লান করেছে, তা কাটিয়ে উঠতে হলে নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন উদ্যমে মাঠে নামার কথাই বলছেন তিনি।

সব মিলিয়ে এল ক্লাসিকোর এই লড়াই ফুটবলের চিরাচরিত নিয়মেই কিছু খেলোয়াড়কে নায়ক বানিয়েছে, আবার কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। এমবাপ্পের দাপট হোক কিংবা রাফিনিয়ার চেষ্টা, দিনশেষে জয়ী দলের কৌশলই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে হারের পরও বার্সেলোনার খেলোয়াড় ও কোচ যেভাবে নিজেদের ভুলগুলো স্বীকার করে নিচ্ছেন, তাতে সামনের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছেন ভক্তরা। ফুটবল এমন এক খেলা যেখানে গতকালের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই আজকের নতুন রণকৌশল তৈরি করতে হয়। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা উভয় দলই এখন তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ঠিক করতে ব্যস্ত। ফুটবলবোদ্ধারা মনে করছেন, এই রেটিং এবং বিশ্লেষণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি আয়না, যা তাদের আগামীতে আরও সতর্ক এবং শক্তিশালী হওয়ার প্রেরণা জোগাবে। এখন দেখার বিষয়, কোচ ফ্লিক এবং বার্সেলোনা ম্যানেজমেন্ট তাদের এই ক্লান্তির দিন কাটিয়ে কিভাবে পরবর্তী ম্যাচে ফের তাদের হারানো ছন্দ ফিরে পায়।

সর্বশেষ
সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি হুথিদের দিল্লি-চণ্ডীগড় যাতায়াত সহজ করতে নতুন এক্সপ্রেসওয়ে: সাশ্রয় হবে মূল্যবান সময় এল ক্লাসিকো পরবর্তী চুলচেরা বিশ্লেষণ: কার পারফরম্যান্স কেমন, কী বললেন কোচ ও খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্থিরতার ছাপ: ব্রাজিল ও সার্বিয়ার নির্বাচনে বড় পরিবর্তন, ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য পৌর এলাকার পানির সংকট নিরসনে শোধনাগার চালুর দাবি সার্বিয়ার রাজনীতিতে বড় অঘটন: ভুচিসের দীর্ঘ শাসনে ইতি, তরুণ শক্তির উত্থান পরিবেশ রক্ষা ও জাহাজভাঙা শিল্প: সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন শেরেবাংলা ও কবি জসীমউদ্‌দীন: এক ঐতিহাসিক সম্পর্কের আখ্যান শাকিব খানের সঙ্গে কাজের প্রশ্নে মুখ খুললেন নায়িকা ব্রাজিলের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন: লুলা দা সিলভার জয়কে গণতন্ত্রের সুরক্ষা হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা
Advertisement