পৌর এলাকার পানির সংকট নিরসনে শোধনাগার চালুর দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ অপরাহ্ণ

পৌর এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের জন্য সুপেয় পানির প্রাপ্যতা বর্তমানে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে নির্মিত পানি শোধনাগারগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পৌর কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত পানির ওপর নির্ভরশীল নাগরিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পৌর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব হিসাব থেকেই পানি সরবরাহের নাজুক চিত্রটি ফুটে উঠেছে। শহর এলাকায় বর্তমানে প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটারের কাছাকাছি। অথচ কর্তৃপক্ষের বিদ্যমান সক্ষমতায় সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ লিটার পানি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি প্রায় ৭০ লাখ লিটার। পানির এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সাধারণ মানুষকে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্যই ব্যয়বহুল এবং অস্বাস্থ্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৌর এলাকায় অবকাঠামো থাকলেও দক্ষ জনবলের অভাবে পানি শোধনাগারগুলো অকার্যকর পড়ে থাকাটা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। জনবল সংকটের কারণে প্রকল্পগুলো সময়মতো আলোর মুখ দেখছে না। যদি যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনবল নিশ্চিত করা যায়, তবে শোধনাগারগুলো পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে। এটি করা গেলে একদিকে যেমন দৈনিক পানির সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, সরবরাহকৃত পানির পরিমাণ কম হওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পানির মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাইপলাইনে ত্রুটি এবং শোধনাগারের সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শোধনাগার চালুর জন্য জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এটি কেবল একটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন নয়, বরং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নগর পরিকল্পনায় পানি ব্যবস্থাপনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছে না। নতুন কোনো উৎস তৈরির চেয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোকে সচল করাই এখন সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। পানি শোধনাগারগুলো আধুনিকায়ন এবং দক্ষ কারিগরি জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ প্রশস্ত করা সম্ভব। পৌর কর্তৃপক্ষ যদি এখনই এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ না করে, তবে আগামী দিনগুলোতে পানির সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখা প্রয়োজন যাতে দাপ্তরিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং নাগরিকরা নিরবচ্ছিন্ন পানি সেবা পেতে পারেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন