খুঁজুন
, ,

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালাল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিবেশী দেশ ইরাকের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইরান। দেশটির কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর স্থল বাহিনী এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশের বালিসান এলাকায় এই হামলাটি পরিচালিত হয়। ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ওই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত ‘কোমালা’ নামক একটি গোষ্ঠীর সদর দফতরকে লক্ষ্য করেই মূলত এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর স্থল বাহিনীর বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপের ফলে ইরাক ও ইরানের সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতেও ইরান তাদের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতির অভিযোগে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই গোষ্ঠীগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই ধরনের সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে ইরাকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা বা তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরান ও ইরাকের মধ্যে নানাবিধ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের হামলা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কুর্দিস্তান অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের উপস্থিতি একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ইরানের সীমান্ত নীতি ও নিরাপত্তার কৌশলগত পরিবর্তনের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সাধারণত দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বাইরের প্রতিপক্ষের ঘাঁটিতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। বালিসানের এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের কোনো গণমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।

অঞ্চলটির বর্তমান পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে ইরাকের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি এই ঘটনায় বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূখণ্ডে এমন সরাসরি সামরিক হামলার বৈধতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে কূটনীতিবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আগামী দিনগুলোতে ইরান ও ইরাকের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য উভয় দেশের পক্ষ থেকে সংযত আচরণ ও আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধানের পথ খোলা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আপাতত পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

বাড়িতে গুলিবর্ষণ, রোহিত শেঠি ‘বিগ বস’ মঞ্চে গুলিবর্ষণ‑সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বললেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বাড়িতে গুলিবর্ষণ, রোহিত শেঠি ‘বিগ বস’ মঞ্চে গুলিবর্ষণ‑সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বললেন

বোলিভুডের জনপ্রিয় পরিচালক রোহিত শেঠি দুবাইতে অনুষ্ঠিত বিগ বসের স্টেজে গুলিবর্ষণ ঘটনার পর তার মতামত শেয়ার করে হিংসা‑সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মুম্বাইতে সম্প্রতি একটি গৃহে গুলিবর্ষণ ঘটার পর, বোলিভুডের বিশিষ্ট পরিচালক রোহিত শেঠি দুবাইতে অনুষ্ঠিত বিগ বসের রিয়েলিটি শোতে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটির ওপর তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। শেঠি জানান, গুলিবর্ষণ কেবল একটি অপরাধিক কাজ নয়, এটি শিল্প জগতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে যখন তার মতো উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিরা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, গুলিবর্ষণের ফলে সৃষ্ট আতঙ্ক এবং ভয় শিল্পী ও কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শেঠি আরও বলেন, গুলিবর্ষণ ঘটার পেছনে গ্যাংস্টার সংস্কৃতি ও অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে, যা বোলিভুডের মতো বৃহৎ শিল্প ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলছেন, এই ধরনের হিংসা রোধে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার, যাতে শিল্পী ও কর্মীরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন। শেঠি উল্লেখ করেন, গুলিবর্ষণ ঘটনার পরপরই তিনি তার টিমের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর নীতি অনুসরণ করবেন।

বিগ বসের মঞ্চে রোহিত শেঠি যখন এই বিষয়টি তুলে ধরলেন, তখন শোতে উপস্থিত অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরাও তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন। তারা সবাই একসাথে বললেন, হিংসা ও গুলিবর্ষণকে কোনোভাবেই সহ্য করা যাবে না এবং শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। শেঠি বলেন, গুলিবর্ষণ ঘটনার পরপরই তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে সকলকে সতর্ক করেছেন এবং নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।

গ্যাংস্টার সংস্কৃতি এবং গুলিবর্ষণ সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি, রোহিত শেঠি উল্লেখ করেন যে বোলিভুডের চলচ্চিত্রে প্রায়শই গ্যাংস্টার চরিত্রের চিত্রায়ণ করা হয়, যা কখনও কখনও বাস্তব জীবনের অপরাধকে রোমান্টিক করে তুলতে পারে। তিনি এই ধরণের চিত্রায়নকে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান এবং বলছেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দায়িত্ব আছে সমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে। শেঠি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি এমন গল্প তৈরি করতে চান যা হিংসা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধকে তুলে ধরবে।

শেষে রোহিত শেঠি উল্লেখ করেন, গুলিবর্ষণ ঘটনার পর তিনি এবং তার টিম নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও সিকিউরিটি গার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটার জন্য শিল্প জগতের সকল অংশীদার একসাথে কাজ করবেন এবং হিংসা‑মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলবেন। শেঠির এই বক্তব্যের পর, বিগ বসের দর্শক এবং অংশগ্রহণকারীরা তালি দিয়ে তার উদ্যোগকে স্বীকৃতি জানায় এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ শিল্প পরিবেশের জন্য সমর্থন জানান।

বঙ্গোপসাগরে সুইডিশ বিনিয়োগ ও পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার আহ্বান স্পিকারের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বঙ্গোপসাগরে সুইডিশ বিনিয়োগ ও পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার আহ্বান স্পিকারের

বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত বিশাল খনিজ সম্পদ উত্তোলনের লক্ষ্যে সুইডিশ উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সুইডেনের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং উইনরকের প্রতিনিধির কাছে স্পিকার এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বৈঠকের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুই দেশের পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণ। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তৎপর। বঙ্গোপসাগরের তলদেশে থাকা তেল ও গ্যাসের মজুত আহরণ করা গেলে তা দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের সাফল্য বয়ে আনবে। সুইডেন বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে, তাই তাদের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে তা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে। তিনি সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংসদীয় পর্যায়ে সব ধরণের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

বিনিয়োগের পাশাপাশি বৈঠকে দেশের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। স্পিকার বাংলাদেশের বিগত ১৭ বছরের শাসনকালকে একটি সংকটময় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এই দীর্ঘ সময়ে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ পথে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অর্থ উদ্ধার করে জাতীয় অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্যে তিনি মার্কিন সরকারের সরাসরি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের ওপর জোর দেন। স্পিকারের মতে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা কেবল ন্যায়বিচারের দাবি নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সচল ও শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বৈঠকে মার্কিন সরকারের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অর্থ পাচারের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর অবস্থান থাকলে তা অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সাহায্য করবে। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস পেলে তা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা এবং সুইডেনের সহায়তার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তিনি জানান, সুইডিশ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে। একইসঙ্গে, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন থাকা বাঞ্ছনীয়।

উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেছে যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা ব্যক্ত করেন। জাতীয় স্বার্থে এই ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা ও অর্থনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সরকার বিদেশিদের আস্থা অর্জনের যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, আজকের এই বৈঠক তারই একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্পিকারের এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক প্রয়াস—একদিকে বিনিয়োগ আকর্ষণ, অন্যদিকে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার—দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দুবাইয়ে বিশ্বরেকর্ড: ১৬.৫ কেজি ওজনের স্বর্ণের ঝুমকায় বাজিমাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
দুবাইয়ে বিশ্বরেকর্ড: ১৬.৫ কেজি ওজনের স্বর্ণের ঝুমকায় বাজিমাত

বিশ্বের অন্যতম আধুনিক শহর দুবাই সবসময়ই চমকপ্রদ সব উদ্ভাবন আর রেকর্ড গড়ার জন্য পরিচিত। এবার অলঙ্কার শিল্পে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল শহরটি। সম্প্রতি দুবাইয়ের গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে প্রদর্শিত হয়েছে একজোড়া বিশাল স্বর্ণের ঝুমকা, যা ওজনে ১৬.৫ কেজি। চোখ ধাঁধানো এই অলঙ্কারটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এটি দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের ঝুলিতে ভরে নিয়েছে। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে লেগেছে ৫৫ জন দক্ষ কারিগরের অক্লান্ত পরিশ্রম। নিখুঁত কারুকার্যে ভরা এই ঝুমকা তৈরি করতে তাদের মোট সময় ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮৪০ ঘণ্টা।

প্রথাগত অলঙ্কারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জয়ালুক্কাস জুয়েলারি এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। দীর্ঘ কয়েক মাসের নিবিড় পরিকল্পনায় তৈরি ২২ ক্যারেটের এই স্বর্ণের শিল্পকর্মটির নাম দেওয়া হয়েছে ময়ূর সহস্র। অলঙ্কারটির নকশায় ময়ূরের মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে, যা এর নান্দনিকতাকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে। এটি তৈরির প্রতিটি পর্যায়ে সূক্ষ্ম কারুকার্যের ছাপ স্পষ্ট। এত বিশাল ও ভারী একটি অলঙ্কার নিখুঁতভাবে তৈরি করা যেকোনো জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ জয় করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৪ অক্টোবর দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত জুয়েল অব জয় শোরুমে এই অসাধারণ ঝুমকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের উপস্থিতিতে এর কারিগরি দিক এবং নকশার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দেওয়া হয়। স্থানীয় গালফ নিউজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এই উন্মোচন অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ছিল, যেখানে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ এই অলঙ্কারটির ওজন, বিশুদ্ধতা এবং তৈরির কারিগরি দক্ষতার মূল্যায়ন করে দুটি আলাদা বিভাগে স্বীকৃতি দিয়েছে। সোনা বা গয়না শিল্পের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। সাধারণত এত ওজনের অলঙ্কার ব্যবহারযোগ্য হওয়ার চেয়ে প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যেই বেশি তৈরি করা হয়। তবে এই ঝুমকাটি তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল অলঙ্কার শিল্পের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে তুলে ধরা এবং আধুনিক কারিগরি কৌশলের সাথে ঐতিহ্যবাহী নকশার মেলবন্ধন ঘটানো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জনের ফলে দুবাইয়ের স্বর্ণ ও অলঙ্কার বাজারের মর্যাদা আন্তর্জাতিক মহলে আরও সুসংহত হলো। পর্যটকদের জন্য এখন এই ঝুমকাটি দুবাই ভ্রমণের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ৫৫ জন কারিগরের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং জয়ালুক্কাস জুয়েলারির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল হিসেবে এই রেকর্ডটি আগামী অনেক বছর অলঙ্কারপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বিশাল ঝুমকাটির প্রতিটি অংশ, ঝালর এবং ময়ূরের পালকের সূক্ষ্ম নকশা অত্যন্ত যত্নের সাথে খোদাই করা হয়েছে। এত ভারী হওয়ার পরও এর গঠনশৈলী এমনভাবে রাখা হয়েছে যেন এটি প্রদর্শনীর সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। রেকর্ড গড়ার এই আনন্দ কেবল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অলঙ্কার শিল্পের জন্যও এক বড় অর্জন। বিশ্বের সেরা গয়না কারিগরদের মানচিত্র এখন দুবাইয়ের এই সাফল্যের দিকেই নির্দেশ করছে।

সর্বশেষ
বাড়িতে গুলিবর্ষণ, রোহিত শেঠি ‘বিগ বস’ মঞ্চে গুলিবর্ষণ‑সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বললেন বঙ্গোপসাগরে সুইডিশ বিনিয়োগ ও পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার আহ্বান স্পিকারের দুবাইয়ে বিশ্বরেকর্ড: ১৬.৫ কেজি ওজনের স্বর্ণের ঝুমকায় বাজিমাত সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: আজ পর্যন্ত আমাকে কিছু জানানো হয়নি, খোঁজ নিতে আসেনি কেউ শাড়ি আত্মসাতের মামলায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের আদেশ রাজউকের ১৪১৩ প্লট নিয়ে তোলপাড়, অনিয়মের অভিযোগে হাজারো নথি স্থগিত বরিশালের মাঠে গড়াবে ডি-থ্রি ট্রফির উদ্বোধনী ও ফাইনাল ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালাল ইরান চীন-উত্তর কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ কিমের কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ চারজন
Advertisement