কক্সবাজারে ভারুয়াখালী খালের সেতুর সংযোগ সড়কে ১.৮৯৪৭ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন
কক্সবাজার সদর উপজেলায় ভারুয়াখালী খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ১ দশমিক ৮৯৪৭ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নতুন অনুমোদনের সঙ্গে একই কাজের জন্য আগে দেওয়া জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদনও বাতিল করা হয়েছে। ২০২১ সালের ১১ মার্চ ৩ দশমিক ১৫৬৭ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এবার অনুমোদিত জমির পরিমাণ ১ দশমিক ৮৯৪৭ একর। দুই পরিমাণের ব্যবধান ১ দশমিক ২৬২ একর।
প্রজ্ঞাপনের সিদ্ধান্তে প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক পরিসর আগের অনুমোদনের তুলনায় কমেছে। তবে অনুমোদনের পরিমাণ বদলের কারণ কী, আগের প্রস্তাবের কোন অংশ সংশোধন করা হয়েছে কিংবা নতুন পরিমাণ নির্ধারণে কী বিবেচনা কাজ করেছে—প্রকাশিত তথ্যের বিবরণে তা উল্লেখ নেই। তাই পরিবর্তনের কারণ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ভারুয়াখালী খালের ওপর সেতুটি নির্মাণাধীন। সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্যই জমি অধিগ্রহণের এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি সেতুর পাশাপাশি সড়ক-সংযোগের কাজের প্রয়োজনীয় জমি নিয়ে। তবে কোন মৌজা বা দাগের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, জমির মালিক কারা কিংবা জমির সুনির্দিষ্ট অবস্থান—এসব বিষয়ে পাওয়া তথ্যের মধ্যে বিস্তারিত নেই।
প্রশাসনিক অনুমোদন এবং জমির দখল নেওয়া বা অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, নির্ধারিত পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রশাসনিক অনুমতি দিয়েছে। অধিগ্রহণের পরবর্তী ধাপ কখন শুরু হবে, জমির মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না, ক্ষতিপূরণের হিসাব কীভাবে হবে কিংবা জমি বুঝে নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে কি না—এসব তথ্যও এখানে জানানো হয়নি।
২০২১ সালের ১১ মার্চের অনুমোদনে জমির পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ১৫৬৭ একর। সেই অনুমোদন বাতিল করে ১ দশমিক ৮৯৪৭ একরের নতুন অনুমোদন দেওয়ায় প্রকল্পের জন্য জমির হিসাব হালনাগাদ হয়েছে—এটুকুই সিদ্ধান্ত থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়। পুরোনো অনুমোদনের ভিত্তিতে কোনো অধিগ্রহণের কাজ হয়েছিল কি না, কিংবা তা হলে কতটুকু জমি অন্তর্ভুক্ত ছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত বিবরণে তথ্য নেই।
সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি প্রয়োজন হওয়ায় অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত অনুমোদন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ। তবে নতুন অনুমোদনের পর মাঠপর্যায়ে কী কী কাজ বাকি রয়েছে, তার সময়সূচি কী এবং সড়ক নির্মাণ কবে শুরু বা শেষ হবে—এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি। ফলে অনুমোদনকে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রজ্ঞাপনটি স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে জারি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্তে জমির পরিমাণ এবং আগের অনুমোদন বাতিলের বিষয়টি স্পষ্ট হলেও প্রকল্পের ব্যয়, সেতুর দৈর্ঘ্য, সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য কিংবা সম্ভাব্য উপকারভোগীর সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। এসব তথ্য ছাড়া প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি বা প্রভাব নিয়ে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক হবে না।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়কের জন্য ১ দশমিক ৮৯৪৭ একর জমি অধিগ্রহণে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং ২০২১ সালের ১১ মার্চের ৩ দশমিক ১৫৬৭ একরের আগের অনুমোদন বাতিল হয়েছে। পরবর্তী অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া, জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ আরও স্পষ্ট হবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]