খুঁজুন
, ,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘাস কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘাস কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় অত্যন্ত তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে গরুর জন্য ঘাস কাটার জের ধরে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানও রয়েছেন, যা এলাকাটিতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম্য এলাকায় গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটা বা এই জাতীয় সাধারণ বিষয় নিয়ে আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা মতপার্থক্য ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেই পুরনো আক্রোশ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দুই পক্ষের লোকজন কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন। রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, যা দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে আশেপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে এলেও উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং গুরুতর জখম ব্যক্তিদের বিশেষ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হয়েছেন নাকি সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন থাকলেও তার আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো উত্তেজনার সৃষ্টি না হয়।

গ্রামীণ জনপদে ছোটখাটো বিষয়ে এ ধরনের সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটে থাকে, যা সামাজিকভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে। বিশেষ করে গবাদি পশু পালন এবং ঘাস কাটার মতো বিষয়ে অতীতেও এই অঞ্চলে বিভিন্ন বিরোধের তথ্য শোনা গেছে। তবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে এমন বড় ধরনের সংঘাত ও আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় কোনো পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মামলা দায়েরের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং শান্তি বজায় রাখতে সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠীগত কোন্দল নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

ইশরাকের পদত্যাগে সাংবিধানিক কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
ইশরাকের পদত্যাগে সাংবিধানিক কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল

সাম্প্রতিক সময়ে ইশরাক হোসেনের মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করা নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, এই পদত্যাগের ঘটনায় দেশের প্রচলিত সংবিধানের কোনোপ্রকার লঙ্ঘন বা ব্যত্যয় ঘটেনি। আইনগত দিক থেকে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে যৌক্তিক এবং নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

দেশের শাসনতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারায় একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ বা তাকে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি কীভাবে পরিচালিত হয়, তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে অ্যাটর্নি জেনারেল বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই ক্ষমতা অর্পিত আছে যে, তিনি যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষমতা সংবিধানের আলোকে স্বীকৃত এবং এতে কোনো ধরনের আইনি বা পদ্ধতিগত জটিলতা নেই।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রক্রিয়াটি সংবিধানের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল জোর দিয়ে বলেন যে, পদত্যাগের এই সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর একটি স্বাভাবিক অংশ। এটি কোনোভাবেই আইনের পরিপন্থী কোনো কাজ নয়। বরং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে বা কোনো নির্দিষ্ট প্রয়োজনে সরকার প্রধান যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তা আইনসম্মত।

এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা চললেও অ্যাটর্নি জেনারেলের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আইনি ধূম্রজাল অনেকটাই পরিষ্কার হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি পদমর্যাদায় থাকা কোনো ব্যক্তির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া বা পদত্যাগ করা যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত এবং এতে সাংবিধানিক কোনো সংকট নেই, সেটিই তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, পদত্যাগপত্র দাখিল এবং তা গৃহীত হওয়ার প্রক্রিয়াটি বর্তমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই হয়েছে। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যে পরামর্শ বা নির্দেশনা প্রদান করেছেন, সেটিই মূলত এখানে কার্যকর হয়েছে। সুতরাং, কোনো পক্ষই বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সুযোগ নেই। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে এবং এই পদত্যাগের ক্ষেত্রেও আইনের শাসনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার এমন মন্তব্যের পর ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের আইনি বৈধতা নিয়ে ওঠা সব ধরনের প্রশ্নের সুরাহা হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের আইনি বিরোধ বা জটিলতার অবকাশ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পদত্যাগ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াগুলোও সরকার যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

রাজশাহীতে জনসভায় অংশ নিতে গিয়ে নেতাকর্মীদের মোবাইল চুরি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
রাজশাহীতে জনসভায় অংশ নিতে গিয়ে নেতাকর্মীদের মোবাইল চুরি

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি ছিঁচকে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আয়োজিত এই জনসভায় যোগ দিতে এসে বিএনপির নয় জন নেতাকর্মী তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন হারিয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ভুক্তভোগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে সাতজন নগরীর রাজপাড়া থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জনসভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম ও ভিড়কে পুঁজি করে পকেটমার বা অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছিল বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। জনসভার মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেও কীভাবে এমন চুরির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভিড়ের সুযোগে খুব কৌশলে তাদের ব্যবহৃত দামী স্মার্টফোনগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা বিষয়টির সুরাহা করতে ও তাদের চুরি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধারের জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হন।

রাজপাড়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, জনসভার মতো বড় পরিসরের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই অপরাধীরা সবসময় সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে রাজনৈতিক মাঠের জনসভাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকার কথা থাকলেও, অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ বা দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত সামগ্রী খোয়া যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। এবারের জনসভাতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

ভুক্তভোগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, জনসভাস্থলের কাছাকাছি আসতেই তারা মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সমাধান না পেয়ে তারা পুলিশের কাছে আইনি সহায়তা চেয়েছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে জনসভায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এদিকে, বর্তমানে রাজনীতির মাঠে জনসভার কার্যক্রম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে নিয়মিত সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। এই সব সমাবেশগুলোতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে এবং চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা রোধে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম হয়। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এবার ৯ জন নেতাকর্মীর মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় একদিকে যেমন ভুক্তভোগীদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, তেমনি মাঠের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন চুরি হওয়া মোবাইলগুলো উদ্ধারে প্রযুক্তিগত তদন্তের আশ্রয় নেবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।

নেত্রকোনায় বিধবাকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
নেত্রকোনায় বিধবাকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে নেত্রকোনা জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার নিজের মা ও বাবাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছিল, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোজাম্মেল হক সোহেল দীর্ঘদিন ধরেই তার এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সাধারণ মানুষ তার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল তার নিজের বাবা-মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এক অসহায় বিধবা নারীকে মারধরের ঘটনা সামনে এল। এই ঘটনার পর স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহলে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠলে বিষয়টি উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত গড়ায়। অবশেষে দলের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা যুবদলের নীতিনির্ধারকরা তাকে সাময়িকভাবে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি প্রদান করেন।

দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সোহেলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে একজন বিধবা নারীর ওপর চড়াও হওয়া বা শারীরিক নির্যাতন করা সংগঠন কোনোভাবেই সমর্থন করে না। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দায়িত্বশীল পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কোনো নেতাকর্মী যদি সংগঠনের নীতি ও আদর্শ বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনার এই ঘটনা সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই সংগঠনকে বিতর্কিত করার মতো কাজ কেউ না করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছিলেন। বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যক্তির এমন আচরণের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। তবে সবশেষ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের নজরদারি এবং দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সোহেলের বহিষ্কারাদেশকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এর মাধ্যমে এলাকায় কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে তারা মনে করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা যুবদলের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে কোনো অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। মোজাম্মেল হক সোহেলের ক্ষেত্রেও সেই ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এখন আর তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে দলের ভেতরে বা বাইরের অন্য কোনো কর্মকাণ্ডেও তার কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অভিযোগকারী বিধবা নারীর নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ
ইশরাকের পদত্যাগে সাংবিধানিক কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল রাজশাহীতে জনসভায় অংশ নিতে গিয়ে নেতাকর্মীদের মোবাইল চুরি নেত্রকোনায় বিধবাকে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা দুর্গাপূজা উপলক্ষে রমনা ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধিদল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘাস কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫ ভাঙা ল্যাপটপ আর সন্তান আগলে যেভাবে সফলতার শিখরে মিতু আক্তার দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যু পাঁচ, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৬৬ ভারতে জয়শঙ্কর ও রুবিওর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে জোর ভারতের আন্দোলনকে প্রতিবেশী দেশের সরকার পতনের সঙ্গে তুলনা করা অমূলক: অভিজিৎ দিপকে চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়
Advertisement