খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি: কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চলমান খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী মো. সাবিরুল আলমসহ মোট আটজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে কমিশন।

দুর্নীতি দমন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি দুদকের তদন্তে উঠে আসে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন খুলনা দুদকের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যালোচনার পর কমিশন এই মামলার অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে গত সোমবার কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়।

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় প্রধান প্রকৌশলী ছাড়াও প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ এজাহার এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের নাম দুদকের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন, প্রাক্কলন তৈরি এবং ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সুপরিকল্পিতভাবে অনিয়ম করা হয়েছে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করে বরং ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

খুলনা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহলে এই প্রকল্পের মান ও ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এখন দুদকের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই দুর্নীতির অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি কাঠামোয় প্রবেশ করলো। দুদকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মামলার অনুমোদন পাওয়ার পর এখন আইন অনুযায়ী দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। এরপর পুলিশি তদন্ত বা দুদকের নিজস্ব তদন্ত দল পুনরায় মাঠপর্যায়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করবে।

মামুনুর রশীদ চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন যে, এই দুর্নীতিতে কেডিএ’র কোন স্তরের কর্মকর্তারা কতটুকু জড়িত, তা মামলার পরবর্তী তদন্তে আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসবে। প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়াটা এই প্রকল্পের অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি রোধে কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং এই মামলার তদন্তও দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন পাওয়ায় অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের মান ও স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেডিএ’র পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলেও, দাপ্তরিকভাবে মামলার প্রক্রিয়াটি নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। দুর্নীতির এই মামলায় কারা কীভাবে যুক্ত, তা নিশ্চিত হতে এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয় সচেতন মহল।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন