খুঁজুন
, ,

জর্ডানে গির্জায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ৭, আহত ৪০

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
জর্ডানে গির্জায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ৭, আহত ৪০

জর্ডানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কারাক প্রদেশে অবস্থিত হামুদ গির্জায় এক হৃদয়বিদারক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠান চলাকালে অতর্কিতভাবে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা সেখানে প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এই মর্মান্তিক আক্রমণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। জর্ডানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও শান্তিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ২৩ অক্টোবর এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। আল-মুশাইরফেহ এলাকার গির্জাটিতে যখন শোকাহত মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই হামলাকারীরা অতর্কিতে তাণ্ডব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী দলের ভাষ্যমতে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

জর্ডান কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে সাধারণ অপরাধ হিসেবে না দেখে বরং সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা কোনো সাধারণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ধারণা করা হচ্ছে, উগ্রপন্থী কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এই ঘটনার পেছনে জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছেন।

জর্ডানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। এমতাবস্থায় গির্জার মতো পবিত্র স্থানে এমন সহিংস আক্রমণ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার মাধ্যমে সমাজে বিভাজন তৈরির একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার পর গির্জা ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তদন্তের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। খুব শীঘ্রই হামলাকারীদের পরিচয় ও তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এই ভয়াবহ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও জর্ডানের এই হামলার খবর গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হচ্ছে। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কাজ শুরু করেছে।

জর্ডানের ইতিহাসে গির্জায় এ ধরনের হামলার ঘটনা সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। তাই দেশটির সাধারণ নাগরিকরা এই ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষকে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোনো তথ্য জানার থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার অনুরোধ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

কক্সবাজারে ভারুয়াখালী খালের সেতুর সংযোগ সড়কে ১.৮৯৪৭ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
কক্সবাজারে ভারুয়াখালী খালের সেতুর সংযোগ সড়কে ১.৮৯৪৭ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন

কক্সবাজার সদর উপজেলায় ভারুয়াখালী খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ১ দশমিক ৮৯৪৭ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

নতুন অনুমোদনের সঙ্গে একই কাজের জন্য আগে দেওয়া জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদনও বাতিল করা হয়েছে। ২০২১ সালের ১১ মার্চ ৩ দশমিক ১৫৬৭ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এবার অনুমোদিত জমির পরিমাণ ১ দশমিক ৮৯৪৭ একর। দুই পরিমাণের ব্যবধান ১ দশমিক ২৬২ একর।

প্রজ্ঞাপনের সিদ্ধান্তে প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক পরিসর আগের অনুমোদনের তুলনায় কমেছে। তবে অনুমোদনের পরিমাণ বদলের কারণ কী, আগের প্রস্তাবের কোন অংশ সংশোধন করা হয়েছে কিংবা নতুন পরিমাণ নির্ধারণে কী বিবেচনা কাজ করেছে—প্রকাশিত তথ্যের বিবরণে তা উল্লেখ নেই। তাই পরিবর্তনের কারণ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ভারুয়াখালী খালের ওপর সেতুটি নির্মাণাধীন। সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্যই জমি অধিগ্রহণের এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি সেতুর পাশাপাশি সড়ক-সংযোগের কাজের প্রয়োজনীয় জমি নিয়ে। তবে কোন মৌজা বা দাগের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, জমির মালিক কারা কিংবা জমির সুনির্দিষ্ট অবস্থান—এসব বিষয়ে পাওয়া তথ্যের মধ্যে বিস্তারিত নেই।

প্রশাসনিক অনুমোদন এবং জমির দখল নেওয়া বা অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, নির্ধারিত পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রশাসনিক অনুমতি দিয়েছে। অধিগ্রহণের পরবর্তী ধাপ কখন শুরু হবে, জমির মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না, ক্ষতিপূরণের হিসাব কীভাবে হবে কিংবা জমি বুঝে নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে কি না—এসব তথ্যও এখানে জানানো হয়নি।

২০২১ সালের ১১ মার্চের অনুমোদনে জমির পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ১৫৬৭ একর। সেই অনুমোদন বাতিল করে ১ দশমিক ৮৯৪৭ একরের নতুন অনুমোদন দেওয়ায় প্রকল্পের জন্য জমির হিসাব হালনাগাদ হয়েছে—এটুকুই সিদ্ধান্ত থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়। পুরোনো অনুমোদনের ভিত্তিতে কোনো অধিগ্রহণের কাজ হয়েছিল কি না, কিংবা তা হলে কতটুকু জমি অন্তর্ভুক্ত ছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত বিবরণে তথ্য নেই।

সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি প্রয়োজন হওয়ায় অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত অনুমোদন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ। তবে নতুন অনুমোদনের পর মাঠপর্যায়ে কী কী কাজ বাকি রয়েছে, তার সময়সূচি কী এবং সড়ক নির্মাণ কবে শুরু বা শেষ হবে—এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি। ফলে অনুমোদনকে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রজ্ঞাপনটি স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে জারি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্তে জমির পরিমাণ এবং আগের অনুমোদন বাতিলের বিষয়টি স্পষ্ট হলেও প্রকল্পের ব্যয়, সেতুর দৈর্ঘ্য, সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য কিংবা সম্ভাব্য উপকারভোগীর সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। এসব তথ্য ছাড়া প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি বা প্রভাব নিয়ে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক হবে না।

এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়কের জন্য ১ দশমিক ৮৯৪৭ একর জমি অধিগ্রহণে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং ২০২১ সালের ১১ মার্চের ৩ দশমিক ১৫৬৭ একরের আগের অনুমোদন বাতিল হয়েছে। পরবর্তী অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া, জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ আরও স্পষ্ট হবে।

গাজীপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও ধামাচাপার চেষ্টা: মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গাজীপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও ধামাচাপার চেষ্টা: মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেফতার

গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় এক শিশু মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার ও পরবর্তীতে সেই ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক এবং অন্যজন মাদ্রাসাটির পরিচালক। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি কওমী মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে এবং তার বয়স আট বছর বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ওই মাদ্রাসাছাত্রকে শিক্ষক তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন চালাতেন। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করলে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। এরপরই ক্ষুব্ধ অভিভাবক মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে প্রতিকার চাইতে যান।

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসা পরিচালক ঘটনার ন্যায়বিচার করার বদলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নিয়ে ঘটনাটি আড়াল করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ। কোনো উপায় না দেখে শিশুটির পরিবার শেষ পর্যন্ত পুলিশের আশ্রয় নেয়। গাছা থানায় এসে তারা এজাহার দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে এবং তদন্ত শুরু করে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনও জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের ধরতে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মাদ্রাসার মতো একটি পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতরা যাতে কোনোভাবেই পার না পায়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

মোবাইল ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে কিশোর অপ্রতিম হত্যায় ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মোবাইল ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে কিশোর অপ্রতিম হত্যায় ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে আইনি প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় বাধা দেওয়ায় তাকে হত্যা করার অভিযোগের মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

ঘটনা ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুলিশ গত ২০ অক্টোবর আদালতে এই চার্জশিট জমা দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি সামনে আসায় এখন বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার এবং এলাকাবাসী। পুলিশের ভাষ্যমতে, তারা তাদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন এবং এখন আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গৃহীত হবে।

উল্লেখ্য যে, ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর ছিল। মোবাইল ছিনতাইয়ের মতো একটি জঘন্য ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অপ্রতিমকে প্রাণ দিতে হয়, যা পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে বিচার দাবি করা হয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছিল। তদন্তকালে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে পুলিশ চারজন অপরাধীর সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

হত্যার এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। একজন মেধাবী এবং সম্ভাবনাময় কিশোরের এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবারের শোক কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন আদালতের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে অপরাধীরা তাদের কর্মকাণ্ডের উপযুক্ত শাস্তি পাবে বলে আশা করছেন নিহতের স্বজনরা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার্জশিট দাখিলের পরবর্তী ধাপগুলোতে সব ধরনের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে যাতে বিচারপ্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ এবং দ্রুত সম্পন্ন হয়।

সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখানে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে বা সাধারণ সময়ে মোবাইল ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে যে কেউ এমন প্রাণঘাতী হামলার শিকার হতে পারে, তা এই হত্যাকাণ্ডের পর মানুষের মনে নতুন করে ভয়ের সঞ্চার করেছে। তবে, চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে পুলিশের এই পদক্ষেপ বিচারপ্রত্যাশীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। এখন ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় পুরো দেশ। অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

সর্বশেষ
কক্সবাজারে ভারুয়াখালী খালের সেতুর সংযোগ সড়কে ১.৮৯৪৭ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন গাজীপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও ধামাচাপার চেষ্টা: মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেফতার মোবাইল ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে কিশোর অপ্রতিম হত্যায় ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট বগুড়ার শিশু আবু বক্করের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী টিভির পর্দায় আজকের খেলা: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ জর্ডানে গির্জায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ৭, আহত ৪০ অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি: পায়ে ক্ষত নিয়ে নিজেই অস্ত্রোপচার, ড্রোন ব্যবহার করে মৃত্যুপুরী থেকে ফেরা ইউক্রেনীয় সেনা ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট ভালো বন্ধু নির্বাচনে সচেতনতা এবং ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি অনলাইন বিনিয়োগের নামে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ চারজন রিমান্ডে
Advertisement