গাজীপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও ধামাচাপার চেষ্টা: মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় এক শিশু মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার ও পরবর্তীতে সেই ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক এবং অন্যজন মাদ্রাসাটির পরিচালক। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি কওমী মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে এবং তার বয়স আট বছর বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ওই মাদ্রাসাছাত্রকে শিক্ষক তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন চালাতেন। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করলে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। এরপরই ক্ষুব্ধ অভিভাবক মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে প্রতিকার চাইতে যান।

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসা পরিচালক ঘটনার ন্যায়বিচার করার বদলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নিয়ে ঘটনাটি আড়াল করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ। কোনো উপায় না দেখে শিশুটির পরিবার শেষ পর্যন্ত পুলিশের আশ্রয় নেয়। গাছা থানায় এসে তারা এজাহার দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে এবং তদন্ত শুরু করে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনও জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের ধরতে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মাদ্রাসার মতো একটি পবিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতরা যাতে কোনোভাবেই পার না পায়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন