খুঁজুন
, ,

স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার জন্য কর্মীদের বিশেষ প্যাকেজ দিচ্ছে মেটা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার জন্য কর্মীদের বিশেষ প্যাকেজ দিচ্ছে মেটা

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে অস্থিরতা ও ব্যয় সংকোচনের ঢেউয়ের মধ্যে এবার নতুন পথে হাঁটছে ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা। গত কয়েক মাসে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে, তখন মেটা কিছুটা ভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার জন্য উৎসাহিত করছে এবং বিনিময়ে আকর্ষণীয় আর্থিক প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। মূলত সরাসরি ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে কর্মীদের নিজ ইচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি কর্মী সংখ্যা কমাতে চাইছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বড় অঙ্কের সেভারেন্স প্যাকেজ বা বিশেষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্সে কার্যক্রম পরিচালনা করা মেটার কর্মীদের জন্য এই বিশেষ প্রস্তাবটি বিশেষভাবে কার্যকর হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা লেত্রে-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যারা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন, তাদের দুই মাসের বেতনের চেয়েও বেশি অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি সাধারণ বিদায় সংবর্ধনা নয়, বরং কর্মীদের জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষামূলক প্রস্তাব হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

প্রযুক্তি শিল্পে বর্তমানে যে সংকটময় সময় চলছে, তাতে গুগল, মাইক্রোসফটের মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এর আগেই ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে। তবে মেটা তাদের কর্মীদের সামনে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের এই প্রস্তাব রেখে একধাপ বাড়তি সহমর্মিতা বা কৌশলী নমনীয়তা দেখানোর চেষ্টা করেছে। সাধারণ ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়, সেই তুলনায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সুযোগটি কর্মীদের জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো আর্থিক নিশ্চয়তা নিয়ে আসছে। তবে এটি কতজন কর্মীর ওপর প্রভাব ফেলবে বা ঠিক কত মাসের বেতনের সমান ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মেটার এই পদক্ষেপটি মূলত তাদের ব্যবসায়িক পুনর্গঠনের অংশ। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে বড় বিনিয়োগ করার পাশাপাশি মূল পরিচালন ব্যয় কমানোর দিকে নজর দিচ্ছেন জাকারবার্গ। এর আগে গত বছরগুলোতেও মেটা বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী সংকোচনের মধ্য দিয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতার ইঙ্গিতই বহন করে। বর্তমান এই নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে তারা মূলত প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কাঠামোর দক্ষতা বাড়াতে চাইছে।

কর্মীদের তরফ থেকে এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধার কারণে অনেকেই এই সুযোগটি কাজে লাগানোর কথা বিবেচনা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর টিকে থাকার লড়াইয়ে এই ধরনের পদক্ষেপ আগামী দিনে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও নজির হয়ে থাকতে পারে। আপাতত ফ্রান্সে কার্যক্রম চালানো কর্মীদের জন্য এই বিশেষ অফারটি কার্যকর হলেও ভবিষ্যতে এটি অন্যান্য দেশেও বিস্তৃত হতে পারে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। বিশ্ববাজারে মেটার এই নতুন কৌশল প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের ধরনে এক বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন

রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা হিসাব-নিকাশের মাঝে বড় ধরনের চমক নিয়ে এলো জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার দুপুরে দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী সামান্তা শারমিন তার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ সময় ধরে দলের ভেতরে চলা অস্থিরতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্যের জের ধরেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন স্পষ্ট করেছেন যে, তার এই পদত্যাগ হঠাৎ কোনো আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়। তিনি দীর্ঘ প্রায় এক বছর আগে থেকেই দলের অভ্যন্তরে জোট গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে নিজস্ব ভিন্নমত পোষণ করে আসছিলেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোট করার যে কৌশল এনসিপি গ্রহণ করেছিল, তা তার আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক বলে তিনি মনে করেন। বিবৃতিতে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, নীতিগত বা কৌশলগত—কোনো দিক থেকেই জামায়াতকে মিত্র হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষপাতী তিনি নন।

সামান্তা শারমিনের এই পদত্যাগ জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে এনসিপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা এই নেত্রী বরাবরই দলের ভেতরে স্পষ্টবাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জোট ও মহাজোট গড়ার নতুন নতুন কৌশল নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় এনসিপি যে পথ বেছে নিয়েছিল, তার সাথে একাত্ম হতে পারেননি তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে এই ভিন্নমতের বিষয়টি তিনি বারবার উত্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় অবশেষে পদত্যাগের পথই বেছে নিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই ঘোষণা আসার পর থেকেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বড় কোনো রাজনৈতিক দলের ভেতরে থাকা ছোট ছোট মতবিরোধগুলো যদি সঠিক সময়ে মীমাংসা না করা হয়, তবে তা দলের ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সামান্তার প্রস্থান ঠিক তেমনই একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দলের শীর্ষ নেতারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পদত্যাগ ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামান্তা শারমিনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা কী হতে যাচ্ছে এবং তিনি অন্য কোনো দলে যোগ দেবেন কিনা, তা নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে আপাতত তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেই রাজনীতি থেকে কিছুটা বিরতি কিংবা নতুন কোনো অধ্যায় শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলের ভেতরে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও জোট রাজনীতির জটিল সমীকরণে সামান্তার এই বিদায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্য বড় এক ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক

ঢাকা জেলার শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-বাইপাইল সড়কের জামগড়া এলাকায় কয়েকশ শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবরোধ থেকে এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকালের এই অস্থিরতা দুপুর গড়িয়ে বিকাল হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল আটটার দিকে শ্রমিকরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে জামগড়া এলাকায় আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধ করেন। তারা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে সড়ক আটকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিল্পাঞ্চলে যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে শিল্প পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষ চলাকালীন এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং আশেপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। উত্তেজনার এক পর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এই ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার ফলে দুপুরের দিকে শ্রমিকরা ধীরে ধীরে এলাকা ত্যাগ করলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয় এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সকালের দিকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও দুপুরের পর থেকে পুরো এলাকা শান্ত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে শিল্পাঞ্চলটির সামগ্রিক পরিস্থিতি পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষ বা বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিল্পাঞ্চলটিতে বর্তমানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করলেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকদের এমন আন্দোলন ও সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ কর্মজীবী মানুষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে। প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে এবং শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছে। শিল্পাঞ্চলটিতে যেন পুনরায় কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। কারখানাগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

দামি মোমবাতির বিকল্প: ঘর সাজান পানি ও তেলের জাদুকরী আলোয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
দামি মোমবাতির বিকল্প: ঘর সাজান পানি ও তেলের জাদুকরী আলোয়

বাড়ির অন্দরমহলকে সাজিয়ে তোলার জন্য সব সময় দামি সাজসজ্জা বা আলোকসজ্জার প্রয়োজন পড়ে না। মাঝেমধ্যে শখের বসে সাধারণ কিছু ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করেই ঘরের পরিবেশে আনা যায় আভিজাত্য আর স্নিগ্ধতার ছোঁয়া। যারা ঘর সাজাতে নতুনত্ব পছন্দ করেন, তারা খুব সহজেই পানি এবং ভোজ্য তেলের সংমিশ্রণে এক ধরনের চমৎকার রঙিন আলো তৈরি করতে পারেন। এই বিশেষ আলোকসজ্জাটি একদিকে যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি এটি তৈরির প্রক্রিয়াটিও বেশ আনন্দদায়ক। উৎসব-পার্বণ কিংবা সাধারণ কোনো ছুটির দিনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই শিল্পকর্মটি করা যেতে পারে, যা ঘরের পরিবেশকে মুহূর্তেই বদলে দেবে।

বাজারে পাওয়া যায় এমন দামী মোমবাতি বা শোপিসের চেয়ে এই হাতে তৈরি আলোর আবেদন অনেক বেশি। বিশেষ করে রাতের বেলা খাবার টেবিল, বসার ঘরের সেন্টার টেবিল কিংবা জানলার পাশে যখন এই রঙিন আলোর প্রতিফলন ঘটে, তখন পুরো ঘর এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। এটি তৈরির জন্য তেমন কোনো জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। স্বচ্ছ কাচের গ্লাস, কিছু রঙিন নুড়ি পাথর, পছন্দের রঙের জল রং বা কালার পিগমেন্ট, ভোজ্য তেল এবং সলতে বা বাতি জ্বালানোর বিশেষ সুতো থাকলেই চলে। পুরো প্রক্রিয়াটি এতটাই সহজ যে, মাত্র পাঁচ মিনিট সময়ের মধ্যেই আপনি এই বাতি প্রস্তুত করতে পারবেন।

প্রথমে একটি পরিষ্কার স্বচ্ছ কাচের গ্লাস নির্বাচন করুন। গ্লাসের ভেতরে সৌন্দর্য বাড়াতে ছোট ছোট রঙিন পাথর বা কাচের পুঁতি দিতে পারেন। এবার তাতে পানি ঢেলে নিন। পানির সাথে কয়েক ফোঁটা পছন্দের উজ্জ্বল রঙের মিশ্রণ মিশিয়ে দিন। আপনি চাইলে ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যবহারের মাধ্যমে বৈচিত্র্য আনতে পারেন। রঙ মেশানো পানির ওপর সামান্য পরিমাণে ভোজ্য তেল আলতো করে ঢেলে দিন। তেল পানির ওপর একটি পাতলা স্তর তৈরি করবে, যা বাতি জ্বালানোর জন্য মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে।

এর পরবর্তী ধাপে একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিক বা পাতলা কাগজ কেটে তার মাঝখানে ছোট ছিদ্র করে সলতেটি ঢুকিয়ে দিন। এবার সেই সলতেটি তেলের স্তরের ওপর ভাসিয়ে দিন। সাবধানে সলতেতে আগুন ধরিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে গেল আপনার শখের রঙিন বাতি। তেলের স্তরটি বেশিক্ষণ জ্বলার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের আলোর সুবিধা হলো এটি ধোঁয়া তৈরি করে না এবং অনেকক্ষণ জ্বলে। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের কাচের পাত্র ব্যবহার করে আপনি আলোর পরিধি ছোট বা বড় করতে পারেন।

ঘর সাজানোর এই পদ্ধতিটি বর্তমানে শৌখিন মানুষদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খুব কম খরচে এবং ঝামেলাহীন উপায়ে ঘরের সৌন্দর্যবর্ধনের এটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। সাধারণ কাচের গ্লাসে যখন আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে, তখন তা চারপাশের পরিবেশে এক রোমান্টিক আবহ তৈরি করে। অতিথিদের আপ্যায়নের ক্ষেত্রে বা বিশেষ কোনো ডিনারের আয়োজনে এই হাতে তৈরি রঙিন আলো বাড়তি মুগ্ধতা ছড়াবে। তাই শখের বশে নতুন কিছু করতে চাইলে আজই ট্রাই করতে পারেন এই দারুণ ডিআইওয়াই বা ডু ইট ইয়োরসেলফ কৌশলটি। অল্প সময়ে ঘরকে করে তুলুন নতুন রূপের অধিকারী।

সর্বশেষ
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক দামি মোমবাতির বিকল্প: ঘর সাজান পানি ও তেলের জাদুকরী আলোয় বারাণসীর যানজট নিরসনে নতুন আশার আলো, রোপওয়ে সেবায় মাত্র ১৫ মিনিটে গন্তব্যে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার জন্য কর্মীদের বিশেষ প্যাকেজ দিচ্ছে মেটা তুরিনো চলচ্চিত্র উৎসবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন পামেলা অ্যান্ডারসন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প, রিপাবলিকান শিবিরে বাড়ছে অস্থিরতা অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি, সিসা সংক্রমণের সতর্কতা মাত্র ১০ হাজার টাকায় সিম ভাড়া দিয়ে ফেঁসে গেলেন যুবক, তিন দিনে ২ কোটি লেনদেন গাজীপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ: শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড