নিহত শ্রমিক তৌফিককে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ক্ষতিপূরণের দাবি নাহিদ ইসলামের
গাজীপুরে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের পরিবারকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও কনভেনশনের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোরালো দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি মনে করেন, শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং কোনো শ্রমিকের মৃত্যু কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তৌফিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ এবং পরবর্তীতে সহিংসতার ঘটনার প্রেক্ষাপটে নাহিদ ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ওপর বলপ্রয়োগের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমন করতে সরকারের পক্ষ থেকে যেভাবে শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি উত্থাপনের অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার রক্ষায় প্রশাসনকে সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় যারা গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। এছাড়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন সব মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি। তিনি মনে করেন, মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ করা সম্ভব নয় বরং এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং শ্রমিকবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান এনসিপি নেতা।
তৌফিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তিনি বলেন, আইএলও কনভেনশনে শ্রমিকের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়ে যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রয়েছে, তা বাংলাদেশের আইন দ্বারাও স্বীকৃত। তৌফিকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান কেবল মানবিক দায়বদ্ধতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
নিজের বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আন্দোলন যেন কোনোভাবেই সহিংস রূপ না নেয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই ইস্যুতে রাজপথে সোচ্চার থাকবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের বর্তমান শিল্প পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখতে এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]