ঢাকা জেলার শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-বাইপাইল সড়কের জামগড়া এলাকায় কয়েকশ শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবরোধ থেকে এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকালের এই অস্থিরতা দুপুর গড়িয়ে বিকাল হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল আটটার দিকে শ্রমিকরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে জামগড়া এলাকায় আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধ করেন। তারা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে সড়ক আটকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিল্পাঞ্চলে যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে শিল্প পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষ চলাকালীন এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং আশেপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। উত্তেজনার এক পর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এই ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার ফলে দুপুরের দিকে শ্রমিকরা ধীরে ধীরে এলাকা ত্যাগ করলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয় এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সকালের দিকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও দুপুরের পর থেকে পুরো এলাকা শান্ত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে শিল্পাঞ্চলটির সামগ্রিক পরিস্থিতি পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষ বা বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিল্পাঞ্চলটিতে বর্তমানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করলেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকদের এমন আন্দোলন ও সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ কর্মজীবী মানুষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে। প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে এবং শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছে। শিল্পাঞ্চলটিতে যেন পুনরায় কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। কারখানাগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৭:১৪ অপরাহ্ণ