ব্যাটিংয়ের ছন্দ আর রেকর্ড ভাঙার নেশায় অদম্য বিরাট কোহলি
ক্রিকেট মাঠের বাইশ গজে যখন ব্যাট হাতে নামেন বিরাট কোহলি, তখন প্রতিপক্ষ বোলারদের মনে ভয় আর দর্শকদের মনে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি ৮৬টি সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ওয়ানডে ফরম্যাটে ১৫ হাজার রানের বিশাল পাহাড় পেরিয়ে গিয়েছেন বহু আগেই। বিশ্বকাপের মঞ্চেও এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে নিজের আধিপত্যের প্রমাণ রেখেছেন তিনি। কিন্তু এসব পরিসংখ্যান কেবলই সংখ্যা। কোহলির আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তার খেলার ধরনের মাঝে। কঠিন সময়ে দলের হাল ধরা, চাপের মুখে স্থির থেকে ম্যাচ বের করে আনা আর প্রতিটি ইনিংসে নতুন করে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল তাগিদই তাকে কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে।
একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে ফর্মের ওঠানামা থাকা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কোহলির ক্ষেত্রে বিষয়টি যেন একটু আলাদা। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে এসেও তার ব্যাটে যে ধারাবাহিকতা আর রানের ক্ষুধা দেখা যায়, তা অনেকের জন্যই শিক্ষণীয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বয়সের হিসেবে তিনি হয়তো থিতু হচ্ছেন, কিন্তু মাঠের খেলায় তার নিবেদন এখনো নতুনের মতোই উজ্জ্বল। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বারবার ফিরে আসার গল্পগুলো কোহলির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় শক্তি। তিনি কেবল একজন ব্যাটার হিসেবেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং দলের প্রয়োজনে একজন নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনেও সমান পারদর্শী।
সমালোচকরা অনেক সময় তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু কোহলি সবসময়ই তার ব্যাট দিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তার অনুশীলনের প্রতি একাগ্রতা এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার লড়াই আজও বহু তরুণ ক্রিকেটারের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত ভক্তের কাছে বিরাট মানেই একটি আস্থার নাম। যখনই দলের প্রয়োজন হয়, কোহলি তখন নিজেকে উজাড় করে দিতে দ্বিধা করেন না। এই যে হার না মানা মানসিকতা, এটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
বিরাটের এই ফর্ম বজায় রাখার রহস্য হয়তো লুকিয়ে আছে তার মানসিক শক্তিতে। ক্রিকেট খেলাকে তিনি কেবল পেশা হিসেবে দেখেন না, বরং এটিকে একটি সাধনা হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রতিবার ক্রিজে নামার সময় এমনভাবে প্রস্তুতি নেন যেন এটিই তার জীবনের সেরা ইনিংস হতে যাচ্ছে। এই মানসিকতা তাকে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার রসদ জোগাচ্ছে। রেকর্ড গড়া বা ভাঙা তার জীবনের নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনগুলোতে তিনি ক্রিকেট বিশ্বকে আরও কি কি উপহার দেবেন, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বিশ্বের সব ক্রিকেটপ্রেমী। তার ক্যারিয়ারের এই সোনালী সময় আরও দীর্ঘায়িত হোক, এমনটাই প্রত্যাশা সবার। কোহলি যেন আরও বহুদিন এভাবেই মাঠ মাতাবেন এবং তার ব্যাটের জাদুতে মুগ্ধ করবেন বিশ্বকে, সেই কামনাই করেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]