জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস মূলত আত্মসমর্পণের ইতিহাস। স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করা এবং তাদের কাছে নতি স্বীকার করাই তাদের রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। রবিবারে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন রিজভী। তিনি জামায়াতের আমিরের সম্প্রতি করা ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ শীর্ষক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা ঐতিহাসিকভাবেই স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক শক্তির সাথে গোপন আঁতাত বজায় রেখে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে, তাদের মুখে বিপ্লবের কথা মানায় না। তাদের রাজনীতির প্রতিটি পরতে পরতে কেবল আত্মসমর্পণের চিত্রই ফুটে ওঠে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তার বক্তব্যে আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তখন এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে কোনো লাভ নেই। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের অবস্থান সবসময়ই অস্পষ্ট এবং সুবিধাবাদী। ক্ষমতার মসনদ ঠিক রাখতে তারা অতীতেও বিভিন্ন স্বৈরাচারী সরকারের সাথে নগ্নভাবে আপস করেছে। সেই পুরোনো স্বভাব এখনো রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, দেশের মানুষ যখন স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ, তখন জামায়াতের এ ধরনের কথাবার্তা মূলত জনগণের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপপ্রয়াস মাত্র।
একই আয়োজনে রিজভী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব অপতৎপরতা চালিয়ে জনগণ ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না। মানুষের ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে বিএনপি অটল থাকবে এবং যেকোনো মূল্যে এই আন্দোলন সফল হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় রাজপথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
রিজভী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাতীয় রাজনীতিতে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ পার করছে বাংলাদেশ। এই সময়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উস্কানি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তারা কি আসলেই বিপ্লব চায় নাকি আবারও পেছনের দরজা দিয়ে কোনো অশুভ শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে মাঠ গরম করার কৌশল খুঁজছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে সাধারণ জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা কার রাজনীতি কী আর কে কোন আদর্শ ধারণ করে, তা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারে। কোনো দলের অপরাজনীতি এখন আর টিকবে না। পরিশেষে তিনি দাবি করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিএনপি আগামী দিনে দেশ পরিচালনার জন্য এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে তারা সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রিজভী।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]