খুঁজুন
, ,

জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী

জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস মূলত আত্মসমর্পণের ইতিহাস। স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করা এবং তাদের কাছে নতি স্বীকার করাই তাদের রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। রবিবারে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন রিজভী। তিনি জামায়াতের আমিরের সম্প্রতি করা ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ শীর্ষক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা ঐতিহাসিকভাবেই স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক শক্তির সাথে গোপন আঁতাত বজায় রেখে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে, তাদের মুখে বিপ্লবের কথা মানায় না। তাদের রাজনীতির প্রতিটি পরতে পরতে কেবল আত্মসমর্পণের চিত্রই ফুটে ওঠে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তার বক্তব্যে আরও বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তখন এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে কোনো লাভ নেই। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের অবস্থান সবসময়ই অস্পষ্ট এবং সুবিধাবাদী। ক্ষমতার মসনদ ঠিক রাখতে তারা অতীতেও বিভিন্ন স্বৈরাচারী সরকারের সাথে নগ্নভাবে আপস করেছে। সেই পুরোনো স্বভাব এখনো রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, দেশের মানুষ যখন স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ, তখন জামায়াতের এ ধরনের কথাবার্তা মূলত জনগণের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপপ্রয়াস মাত্র।

একই আয়োজনে রিজভী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব অপতৎপরতা চালিয়ে জনগণ ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না। মানুষের ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে বিএনপি অটল থাকবে এবং যেকোনো মূল্যে এই আন্দোলন সফল হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় রাজপথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

রিজভী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাতীয় রাজনীতিতে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ পার করছে বাংলাদেশ। এই সময়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উস্কানি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তারা কি আসলেই বিপ্লব চায় নাকি আবারও পেছনের দরজা দিয়ে কোনো অশুভ শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে মাঠ গরম করার কৌশল খুঁজছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে সাধারণ জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা কার রাজনীতি কী আর কে কোন আদর্শ ধারণ করে, তা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারে। কোনো দলের অপরাজনীতি এখন আর টিকবে না। পরিশেষে তিনি দাবি করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিএনপি আগামী দিনে দেশ পরিচালনার জন্য এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে তারা সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রিজভী।

সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যায় পাঁচজনের সরাসরি অংশগ্রহণ, আদালতে জবানবন্দি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যায় পাঁচজনের সরাসরি অংশগ্রহণ, আদালতে জবানবন্দি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার দুই আসামি। ঘটনার বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর অবশেষে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন এবং সাব্বির আহম্মেদ। এই জবানবন্দির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী এবং এর সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিচারকের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তারা অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন তাজুল ইসলাম।

রোববার বিকেলে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভুঁইয়ার আদালতে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বিকেল পৌনে চারটা থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা ও স্থানীয় পুলিশের ভাষ্যমতে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছেন, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের সঙ্গে তাজুল ইসলামের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। মূলত সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে এই রেষারেষির সূত্রপাত হয়। আলিফ দীর্ঘদিন ধরে এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং নিয়মিত পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতেন। এসব কারণে তাজুল ও তার সহযোগীরা তাকে নিজেদের ব্যবসার পথে বড় বাধা হিসেবে মনে করতেন।

আসামিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দিন ঘটনাস্থলে সরাসরি পাঁচজন অংশ নিয়েছিলেন। তাজুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রস্তুত ছিলেন। ঘটনার সময় তাজুল নিজেই পিস্তল হাতে সামনে এগিয়ে আসেন এবং সাংবাদিক আলিফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। আলিফের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং আত্মগোপনে চলে যান। পুরো অপারেশনটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সুচিন্তিত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে যে, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেবল এই হত্যাকাণ্ডই নয়, বরং হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র আইন, মাদক, বিস্ফোরক, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতিসহ অন্তত ১৩টি মামলা বিভিন্ন থানায় ঝুলে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার গভীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মূল পরিকল্পনাকারী তাজুল ইসলাম ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ এখনই তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সবাইকে আইনের আওতায় আনা এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। এজন্যই বিষয়টি নিয়ে তারা সতর্কতার সাথে এগোচ্ছেন। সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অপরাধীদের পরিচয় ও মোটিভ স্পষ্ট হওয়ায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষ এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট প্রদান এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আশ্বস্ত করেছে যে, মামলার নথিপত্র এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কোচিং সেন্টারে ছাত্রীকে হয়রানি: ভিডিও ভাইরালের পর স্থায়ী বহিষ্কার শিক্ষক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
কোচিং সেন্টারে ছাত্রীকে হয়রানি: ভিডিও ভাইরালের পর স্থায়ী বহিষ্কার শিক্ষক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি কোচিং সেন্টারে এক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করার অভিযোগে এক শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম, যিনি সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কোচিং চলাকালীন ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় সচেতন মহল।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর পরই যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর একটি তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটির প্রতিবেদনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত তদন্তের মাধ্যমেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তার কর্মসংস্থান বাতিল করা হয়।

তবে ঘটনার ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে গত ১ নভেম্বর অর্থাৎ রবিবার। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি কোচিং সেন্টারের ভেতরে শিক্ষক ওই ছাত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত অসংলগ্ন ও আপত্তিকর আচরণ করছেন। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিভাবকরা এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গায় এমন অমানবিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার্থে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর কোনোভাবেই যুক্ত নন। বিষয়টি নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া না গেলেও, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যে পবিত্র সম্পর্ক, তা কলঙ্কিত করার দায়ভার কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে কোচিং সেন্টারের আড়ালে এমন ঘটনা অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, নৈতিক অবক্ষয়ের এমন চিত্র প্রায়শই সামনে আসছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল চাকরিচ্যুতি নয়, এমন অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি, যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সাহস না পায়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির পরবর্তী আইনি দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।

তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির নেপথ্যে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য দেশের রফতানি বাণিজ্য এবং সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করা। রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গার্মেন্টস খাতের নিরীহ শ্রমিকদের একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের রপ্তানি আয় ব্যাহত করার এই অপপ্রয়াস সরকার কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। যারা এই অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে কলকাঠি নাড়ছে এবং সীমান্তের ওপার থেকে উসকানি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা শিল্পের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই খাতের অস্থিরতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য গুরুত্বের সাথে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, যখন দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া যাবে না বলেই অভিমত বিশ্লেষকদের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে এবং অচিরেই এই অস্থিরতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে। শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিক ভাইবোনদের আবেগকে পুঁজি করে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের উদ্দেশ্য কখনোই শ্রমিকদের কল্যাণ নয়। সুতরাং, বিভ্রান্ত না হয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে এসে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যায় পাঁচজনের সরাসরি অংশগ্রহণ, আদালতে জবানবন্দি কোচিং সেন্টারে ছাত্রীকে হয়রানি: ভিডিও ভাইরালের পর স্থায়ী বহিষ্কার শিক্ষক তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিএম নিয়ে বড় অভিযোগ রাহুল গান্ধীর, দিল্লির সমাবেশে তুললেন ভোটের বৈধতার প্রশ্ন জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস আত্মসমর্পণের ইতিহাস: রুহুল কবির রিজভী সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হত্যা মামলা: কারাগারে ছেলে, আদালতে জবানবন্দি গৃহকর্মীর সাভারে পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর, সাংবাদিক লাঞ্ছিত রাজশাহীতে বৃষ্টিহীন আবহেও মাঠে গড়াল না বরিশাল-ঢাকা ম্যাচ কলকাতার কাছে দুদিনের ছুটি: ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির কোলে থাকা ৫টি গন্তব্যে লাঠিচার্জের ভিডিও করায় সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিলেন এডিসি
Advertisement