কোচিং সেন্টারে ছাত্রীকে হয়রানি: ভিডিও ভাইরালের পর স্থায়ী বহিষ্কার শিক্ষক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:১৪ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি কোচিং সেন্টারে এক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করার অভিযোগে এক শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম, যিনি সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কোচিং চলাকালীন ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় সচেতন মহল।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর পরই যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর একটি তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটির প্রতিবেদনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত তদন্তের মাধ্যমেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তার কর্মসংস্থান বাতিল করা হয়।

তবে ঘটনার ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে গত ১ নভেম্বর অর্থাৎ রবিবার। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি কোচিং সেন্টারের ভেতরে শিক্ষক ওই ছাত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত অসংলগ্ন ও আপত্তিকর আচরণ করছেন। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিভাবকরা এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গায় এমন অমানবিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার্থে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর কোনোভাবেই যুক্ত নন। বিষয়টি নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া না গেলেও, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করা হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যে পবিত্র সম্পর্ক, তা কলঙ্কিত করার দায়ভার কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে কোচিং সেন্টারের আড়ালে এমন ঘটনা অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, নৈতিক অবক্ষয়ের এমন চিত্র প্রায়শই সামনে আসছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল চাকরিচ্যুতি নয়, এমন অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি, যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সাহস না পায়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির পরবর্তী আইনি দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন