বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর পরিবারে শঙ্কা, রাতে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন নারী সদস্যরা
বরিশাল অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর পরিবার এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি শোকের রেশ, তবে তার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আতঙ্ক। একজন সূর্যসন্তানকে শেষ বিদায় জানানোর সময় যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার জের এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দাফন কাজে বাধা প্রদানের সেই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে তার স্বজনদের। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাতের বেলা নিজেদের বাড়িতে থাকাটাও নিরাপদ মনে করছেন না নিহতের পরিবারের নারী সদস্যরা। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন সূর্যাস্তের পর তারা আশ্রয় নিচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।
নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মেয়ে শিমু গণমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, তাদের পরিবার বর্তমানে গভীর শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বাবার শেষকৃত্যের দিন যে অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তা এখনো তাদের মানসিকভাবে তাড়া করে ফিরছে। দাফনের পরপরই নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা নিজ বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হন। শুধু মেয়ে নয়, মানিক পশারীর সৎ বোনও এখন আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। রাতে তারা নিজেদের বাড়িতে থাকার সাহস পাচ্ছেন না। বাড়ির পরিবেশ এখন এতটাই ভয়ার্ত যে, সন্ধ্যার পরই ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে হচ্ছে তাদের। বিষয়টি কেবল একটি পরিবারের সংকট নয়, বরং সামাজিকভাবে একটি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনের সময় রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে যে বাধার সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্য মর্যাদা ও শেষ শ্রদ্ধাটুকু দেওয়ার ক্ষেত্রেও যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল, তাদের সেই আচরণের ফল ভোগ করতে হচ্ছে শোকার্ত পরিবারকে। এই ঘটনার পর এলাকায় এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিবারের সদস্যরা ক্রমাগত ভয় ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের অনেকে মনে করছেন, একজন জাতীয় বীরের পরিবারের এমন নিগৃহীত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে যারা দাফনে বাধা দিয়েছিল, তাদের কর্মকাণ্ডের পর থেকেই পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর সেনানী যিনি দেশের জন্য লড়াই করেছেন, মৃত্যুর পর তার পরিবারকে কেন এমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয় জনগণের মুখে মুখে। দিনের আলোয় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলেও, রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ভেতরে যেন এক অজানা আতঙ্ক ভর করে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ নজরদারি না থাকলে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে এই পরিবারের ভয়ের পরিবেশ কাটানো কঠিন হবে বলেই স্থানীয়দের ধারণা। বর্তমানে গোটা বিষয়টি স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]