দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতা ও শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির নেপথ্যে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য দেশের রফতানি বাণিজ্য এবং সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করা। রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গার্মেন্টস খাতের নিরীহ শ্রমিকদের একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের রপ্তানি আয় ব্যাহত করার এই অপপ্রয়াস সরকার কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। যারা এই অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে কলকাঠি নাড়ছে এবং সীমান্তের ওপার থেকে উসকানি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা শিল্পের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই খাতের অস্থিরতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য গুরুত্বের সাথে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, যখন দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া যাবে না বলেই অভিমত বিশ্লেষকদের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে এবং অচিরেই এই অস্থিরতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে। শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিক ভাইবোনদের আবেগকে পুঁজি করে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের উদ্দেশ্য কখনোই শ্রমিকদের কল্যাণ নয়। সুতরাং, বিভ্রান্ত না হয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে এসে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ৯:১৪ অপরাহ্ণ